“ খালেদা জিয়াকে সরকারের ভয়”

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৮

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:  বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার আগামী নির্বাচনে নিজেদের পরাজয়ের ভয়ে খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।’

‘খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছেন। তাই তাঁকে সরকারের ভয়’ উল্লেখ করে বিএনপির নেতা আরো বলেন, ‘তাঁরা চায়, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে আবারও একটি ষড়যন্ত্রমূলক একদলীয় নির্বাচন করে ক্ষমতা ধরে রাখতে। খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারবে না। আর সে জন্যই নিজেদের একদলীয় শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই মিথ্যা, সাজানো ও জাল-জালিয়াতি করে তৈরি করা মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

আজ সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশের কোনো মানুষ ভোট দিতে যায়নি। আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে বিনা ভোটে ক্ষমতা দখল করেছে। এরপর দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের করায়ত্ত করেছে। দেশের মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচারালয়কেও এ সরকার নিজেদের করায়ত্ত করে রেখেছে। প্রধান বিচারপতিকেও অন্যায়ভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে।

আরও পড়ুন  করোনায় আরও ১৯ মৃত্যু, শনাক্ত ১০৯৪

মহিলা দলের নেতাকর্মীদের রাজপথে আন্দোলনে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের নেত্রী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা বলেছেন। আমরা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁকে মুক্ত করে আনব।’

মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর লাগাতার কর্মসূচি পালন করছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

আরও পড়ুন  ফেঞ্চুগঞ্জের ৫ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২৬ প্রার্থী

৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার পর থেকেই পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। মামলার রায়ের কপি না পাওয়ায় জামিন আবেদন করতে পারেননি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। গতকাল রোববার আদালতের বরাত দিয়ে বিএনপি নেত্রীর আইনজীবীরা বলেছেন, ‘আজ রায়ের সত্যায়িত কপি দেওয়া হতে পারে। কপি হাতে পাওয়ার পর জামিন আবেদন করা হবে।’

সর্বশেষ সংবাদ