সৌদি রাজ পরিবারে করোনার বিষাক্ত ছোবল

প্রকাশিত: 8:42 PM, April 9, 2020

সৌদি রাজ পরিবারে করোনার বিষাক্ত ছোবল

প্রভাতবেলা ডেস্ক: করোনাভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে আক্রান্ত  সৌদি আরবে। প্রায় ছয় সপ্তাহ হল দেশটিতে হানা দিয়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। এর মধ্যেই দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে রাজ পরিবারও। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে সৌদির গভর্নর ও রাজপরিবারের অন্যতম জ্যেষ্ঠ প্রিন্সসহ কমপক্ষে ১৫০ জন সদস্য আক্রান্ত হয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদেরকে চিকিৎসা দিতে ইতিমধ্যে বিলাসবহুল হাসপাতালে ৫০০টির মত বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খবর নিউ ইয়র্ক টাইমসের।

জানা গেছে, সৌদি রাজপরিবারের ১৫০ জনেরও বেশি সদস্য প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। খবর  সৌদি প্রেস এজেন্সি ও নিউইয়র্ক টাইমসের।

রাজপরিবারের এসব সদস্যদের চিকিৎসায় নিয়োজিত হাসপাতালে ৫০০ শয্যা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

বুধবার রাতে এ বিষয়ে ভিআইপিদের চিকিৎসার জন্যে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। কিং ফাহাদ স্পেশালাইজড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই বার্তায় সব জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে করোনা আতঙ্কে ৮৪ বছর বয়সী সৌদি বাদশাহ সালমান জেদ্দা শহরের কাছে এক দ্বীপে নিজেকে আইসোলেশনে রেখেছেন। পাশাপাশি তার ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (৩৪) একই উপকূলে এক দুর্গম স্থানে নিজ মন্ত্রীদের সঙ্গে অবস্থান করছেন।

সৌদি আরবে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ২১১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে ৪১ জন। সেরে উঠেছে ৬৩১ জন।

আরও পড়ুন  ৩১ বসন্তে পদার্পণ করলো শাবি

খবরে বলা হয়, সৌদি আরবে প্রথম রোগীর সন্ধান পাওয়া যায় ছয় সপ্তাহ আগে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির রাজপরিবারে ভীতি সঞ্চার করেছে এই রোগ। এতে আরো বলা হয়, ৮৪ বছর বয়সী বাদশাহ সালমান লোহিত সাগরবর্তী জেদ্দা শহরের নিকট এক দ্বীপের প্রাসাদে বসবাস করছেন। বাইরে থেকে কাউকেই সেখানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। অপরদিকে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এক প্রত্যন্ত স্থাপনায় থাকছেন।

এই ভাইরাসের বিষয়ে সৌদি আরব শুরু থেকেই অত্যন্ত সক্রিয়। এর নেপথ্যে রাজপরিবারের সদস্যদের আক্রান্ত হওয়াও ভূমিকা রাখতে পারে। প্রথম কোনো রোগীর সন্ধান পাওয়ার আগেই সরকার দেশটিতে সফর বন্ধ করে দেয়। এমনকি পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় উমরাহ বন্ধ রাখা হয়। সৌদি আরবে প্রবেশ বা দেশটি থেকে বের হওয়ার সব ধরণের যোগাযোগ এই মুহূর্তে বন্ধ। এমনকি আন্তঃপ্রদেশ যোগাযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সকল বড় শহর ২৪-ঘণ্টা লকডাউনে রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র খুচরা দোকান ও ওষুধের দোকান খোলা রাখা হয়েছে। সরকার থেকে এ-ও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এবার বার্ষিক হজ্বও বাতিল হতে পারে।

সৌদি আরব বিশেষজ্ঞ ও রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান কোটস বলেন, “যদি রাজপরিবারের মধ্যেই রোগ প্রবেশ করে থাকে, তার মানে এটি এখন জরুরী ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।” এখন পর্যন্ত বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশটিতে ২৭৯৫ জন রোগী পাওয়া গেছে। রোগ থেকে মারা গেছেন ৪১ জন। মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সৌদি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন যে, মহামারির প্রকোপ সবে শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রী তৌফিক আল-রাবিয়াহ কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেছেন যে, সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ মানুষ এই রোগে মৃত্যুবরণ করতে পারেন।

আরও পড়ুন  সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

খবরে বলা হয়, রিয়াদের গভর্নর প্রিন্স ফয়সাল বিন বন্দর বিন আবদুলআজিজ আল সৌদের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর দুই ডাক্তার নিশ্চিত করে জানিয়েছেন। এছাড়া রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তিও নিশ্চিত করে জানিয়েছেন। সত্তরোর্ধ্ব এই সাবেক সামরিক কর্মকর্তা বাদশাহ সালমানের ভাইয়ের ছেলে। অর্থাৎ সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতার নাতি। রাজধানী রিয়াদের গভর্নর পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক বাদশাহ আবদুল্লাহর প্রিয় সন্তান ও তারও আগে খোদ বাদশাহ সালমান এই পদে ছিলেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন...

সর্বশেষ সংবাদ