আল্লামা শফীর মৃত্যু রহস্য তদন্তে হাটহাজারী মাদ্রাসায় পিবিআই

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২১

আল্লামা শফীর মৃত্যু রহস্য তদন্তে হাটহাজারী মাদ্রাসায় পিবিআই

প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামীর সাবেক প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী (র.) মৃত্যুতে পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে দায়ের করা মামলার তদন্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে নেমেছে।

মঙ্গলবার (১২জানুয়ারী) সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে প্রায় ৪ ঘন্টা দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় তদন্ত চালায় পিবিআই। এসময় তদন্ত টিম আল্লামা শফির শোয়ার ঘর সহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে তদন্ত করেন।

পিবিআই’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোসেন এতে নেতৃত্ব দেন । তদন্তকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি জানান, আদালতের দেয়া সময়ের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করা হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো বলেন, আল্লামা শফির লাশ কবর থেকে তোলার মত এ পর্যন্ত কিছু পাওয়া যায়নি।

সুত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক কার্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক ও হেফাজতের আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর সাথে দুপুর ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত কথা বলেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে আল্লামা বাবুনগরীর কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য জানতে প্রশ্ন করেন পিবিআই দল। এসময় বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উত্তর দিয়েছেন বলে তদন্ত কর্মকর্তারা জানান। তবে উপস্থিত মিডিয়াাকর্মীদের তদন্তের স্বার্থে শিক্ষা পরিচালনা কার্যালয় থেকে বের করে দেন । এরপর কার্যালয়ের দরজার বন্ধ করে বাবুনগরীর সাথে পিবিআই এর কর্মকর্তারা কথা বলেন। এসময় মামলার অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন না। তবে অভিযুক্ত দুইজন ব্যক্তি হুজুরের খাদেম উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় ১ঘন্টা ৪০মিনিট শিক্ষা পরিচালনা কার্যালয়ে বৈঠকের পর বেরিয়ে হেফাজতের আমীর ও মাদ্রাসা শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, গত সংবাদ সম্মেলনে লিখিতভাবে আল্লামা শফীর মৃত্যুর বিষয়ে যে কথাগুলো বলা হয়েছে, পিবিআই সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে সে কথাগুলোই বলেছি। বাবুনগরী বলেন, আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু স্বাভাবিক, যারা মামলা করেছেন হত্যা করা হয়েছে বলে এসব মিথ্যাচার, ডাহা মিথ্যা কথা। তদন্তের বিষয়ে কোন কিছু মন্তব্য আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার নতুন কিছু বলার নাই যাহা বলার তা সংবাদ সম্মেলনে আগেই জানিয়ে দিয়েছি।

এদিকে তদন্তের পর মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যালয় থেকে বের হবার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের সম্মুখে পিবিআই পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, আল্লামা আহমদ শফী’র (র.) শালা মইনুদ্দিন বিজ্ঞ আদালতে একটি হত্যা মামলা রুজু করেছেন। আদালত পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দিলে গুরুত্বসহকারে তদন্ত করতে পিবিআইয়ের একটি টিম মাদ্রাসায় তদন্ত করতে এসেছি। মামলার এজাহারে যা কিছু লেখা আছে তদন্তের স্বার্থে সব বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে যাচাই-বাছাই করব, সাক্ষী নেব আলামত সংগ্রহ করবো। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যে সময় বেধে দিয়েছে তার মধ্যে তদন্ত শেষ করার চেষ্টা করব। তদন্তের স্বার্থে আল্লামা শফীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে এখনো লাশ তোলার মত তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। এরপর তদন্ত টিম আল্লামা শফির শোয়ার ঘরসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে তথ্য প্রমান সংগ্রহ করেন। কথা বলেন বিভিন্নজনের সাথে। পরে বেলা সোয়া ১টার দিকে ফটিকছড়ির বাবুনগরে আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় পিবিআই তদন্ত টিম।

এ সময় জেলা পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান, এএসপি ডিএসবি মশিউর রহমান, হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ-আল-মাসুম হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, পিবিআই ইন্সপেক্টর, আবু জাফর মো: ওমর ফারুক, কাজী এনায়েৎ কবির, মণির হোসেন, মেজবাহ উদ্দীন, আবু হানিফ, মোজাম্মেল হক সহ পিবিআই ও জেলা পুলিশের সঙ্গীয় ফোর্স উপস্থিত ছিলেন। হাটহাজারী মাদ্রাসার পক্ষ থেকে শিক্ষা পরিচালক ও হেফজতের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মাওলানা শেখ আহমদ মাওলানা ইয়াহিয়া মাওলানা আহমদ দিদার কাসেমী মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী ও মাওলানা ওমর প্রমুখ তদন্ত টিমের সাথে কথা বলেন।

উল্লেখ্য গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০ ইং বিকেলে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন আল্লামা শাহ আহমদ শফি। মাদ্রাসা ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে তিনি এই সময় এক প্রকার অবরুদ্ধ ছিলেন। হেফাজতে ইসলামের একাংশ ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, আল্লামা শফিকে মানসিক চাপে ফেলে, ঔষধ ও চিকিৎসা না দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে এ ব্যাপারে দুটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। গত ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবলু কুমার দে এর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন আল্লামা শফীর শ্যালক মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

হত্যা মামলায় মামুনুল হক ছাড়াও মামলায় অন্য অভিযুক্তরা হলেন- নাছির উদ্দিন মুনির, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মীর ইদ্রিস, হাবিব উল্লাহ, আহসান উল্লাহ, জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, নুরুজ্জামান নোমানী, আব্দুল মতিন, মো. শহীদুল্লাহ, মো. রিজওয়ান আরমান, মো. নজরুল ইসলাম, হাসানুজ্জামান, এনামুল হাসান ফারুকী, মীর সাজেদ, জাফর আহমদ, মীর জিয়াউদ্দিন, আহমদ, মাহমুদ, আসাদউল্লাহ, জোবায়ের মাহমুদ, এইচ এম জুনায়েদ, আনোয়ার শাহ, আহমদ কামাল, নাছির উদ্দিন, কামরুল ইসলাম কাসেমী, মোহাম্মদ হাসান, ওবায়দুল্লাহ ওবাইদ, জুবায়ের, মোহাম্মদ, আমিনুল হক, রফিক সোহেল, মোবিনুল হক, নাঈম, হাফেজ সায়েম উল্লাহ ও হাসান জামিল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 7
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ