এনআইডি|| পয়দা বড়লেখায় জন্মস্থান ভেনেজুয়েলায়!

প্রকাশিত: ২:১৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২২

এনআইডি|| পয়দা বড়লেখায় জন্মস্থান ভেনেজুয়েলায়!

‘নামাজ ছাড়াতে গিয়ে রোজা গলায়’- এমন পরিস্থিতিতে জুড়ী- বড়লেখার ডজন খানেক নাগরিক। জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন করতে গিয়ে পড়েছেন আজব বিড়ম্বনায়। মৌলভীবাজার জেলায় জন্ম নিলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মস্থান ভেনেজুয়েলা। জুড়ী- বড়লেখা মৌলভীবাজার জেলাসহ গোটা সোশ্যাল মিডিয়া গতকাল ছিল ভেনেজুয়েলাময়। গুগল ম্যাপে সার্চ দিয়ে অনেকেই ভেনেজুয়েলার ভৌগলিক অবস্থান খুঁজছেন। প্রভাতবেলা প্রতিবেদক,বড়লেখা♦

 মৌলভীবাজারে অন্তত ১২ জন বাসিন্দার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মস্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা।

তাদের সবাই পুরনো জাতীয় পরিচয়পত্রে কোন না কোন ধরনের ভুল সংশোধন করতে দিয়েছিলেন।

আজব এই বিড়ম্বনায় পড়েছেন জেলার বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর গ্রামের রোমানা বেগম। তিনি প্রভাতবেলাকে “জন্ম হল মৌলভীবাজার কিন্তু নাগরিক হয়ে গেলাম আমেরিকা নাকি ভেনেজুয়েলার। ভেনেজুয়েলা যে একটা দেশ সেটা আমি জানতাম না। এই দেশ কোথায় তাও আমি জানি না। আমার বাচ্চারা আমাকে বলতেছে আম্মা এখন আমেরিকান হয়ে গেছে।”

বিস্তারিত বর্ণনা করে চার ছেলে সন্তানের জননী রোমানা বেগম বলেন, তার নামের দ্বিতীয় অংশ ‘বেগম’ হলেও আগে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রে ‘আক্তার’ লেখা হয়েছে। সেটি সংশোধন করতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে।

বড়লেখার গ্রামতলায় জন্ম নেয়া দুলালের জন্মস্থানও ভেনেজেুয়েলা

বড়লেখার গ্রামতলায় জন্ম নেয়া দুলালের জন্মস্থানও ভেনেজেুয়েলা

গেল মে মাসে সংশোধন করার জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। কদিন আগে ‘জাতীয় পরিচয়পত্র হয়ে গেছে’, মোবাইল ফোনে এমন বার্তা পান। তারপরই বিষয়টি জানতে পারেন।

তিনি বলেন, “আমার সবচেয়ে ছোট ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করাতে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র দরকার হয়েছিল। বাকি তিনজনের ভর্তির সময় সেটা দরকার হয়নি। কিন্তু ইদানীং বাচ্চাদের ইউনিক আইডি না কি যেন একটা দেয়া হচ্ছে। যাতে মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে হয়।

সে কারণে নামটা ঠিক করাতে চেয়েছিলাম। আগের পরিচয়পত্রে জন্মস্থান মৌলভীবাজারই দেয়া ছিল। কিন্তু নামের ভুল ঠিক করাতে গিয়ে এখন যেটা হয়েছে সেটা আরও ভয়াবহ।”

বড়লেখার পাকশাইল গ্রামে জন্ম নেয়া সাইবুর রহমানের জন্মস্থানও ভেনেজেুয়েলা।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় জানায়, একই জেলায় অন্তত ১২ জন সম্পর্কে তারা তথ্য পেয়েছেন যাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মস্থান হিসেবে ভেনেজুয়েলার উল্লেখ পাওয়া গেছে। একই ভুল আরও হয়েছে কি না সেটি খুঁজে দেখা হচ্ছে।

জন্মস্থান বিভ্রাট এখনো পর্যন্ত শুধু মৌলভীবাজারের ক্ষেত্রেই হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাচন অফিসার সাদিকুর রহমান প্রভাতবেলাকে বলেছেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি মৌলভীবাজার সদর,  বড়লেখা  এবং জুড়ী উপজেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। আমাদের যে স্থানীয় ডাটা এন্ট্রি অফিসাররা আছেন, তাদের ডাটাবেজে মৌলভীবাজারের জায়গায় ভেনেজুয়েলা হয়ে আছে।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাচন অফিস বলছে ত্রুটির কারণ খোঁজা হচ্ছে।

 

কি কারণে এটা হয়েছে, ত্রুটিটা কোথায় আমরা এখনো বুঝতে পারছি না। আমাদের প্রধান কার্যালয়ে সিস্টেম ম্যানেজারকে জানানো হয়েছে।”

তিনি বলেন, আগে জাতীয় পরিচয়পত্র করা থাকলে ডাটাবেজে যে তথ্য থাকে, ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে সেটাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন কার্ডে চলে আসে। এক্ষেত্রে সার্ভারে কোনো গোলমাল নাকি প্রযুক্তিগত কোন সমস্যা হয়েছে কি না সেনিয়ে কাজ চলছে।

খুব দ্রুতই সবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল শুধরে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল নতুন কিছু নয়।দেশে ২০০৮ সাল থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া শুরু হয় তারপর থেকে নানা ধরনের ভুল নতুন কিছু নয়।

যেমন  বাবার বয়স ছেলের চেয়ে দশ বছর কম হয়ে গেছে, মায়ের নামের জায়গায় বসে গেছে স্ত্রী’র নাম, এমন নজিরও রয়েছে। যা নিয়ে খবরও হয়েছে এর আগে।

তবে এবার যে ত্রুটি দেখা যাচ্ছে তা একেবারেই নতুন। শুধু মৌলভীবাজারেই এমনটা কেন ঘটলো আর নামটা অন্য কোন দেশ না হয়ে ভেনেজুয়েলা কেন হল সেসব বিষয়ে আপাতত জানা যাচ্ছে না।

তবে রোমানা বেগমের মতো যারা এই বিভ্রাটের শিকার হয়েছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার পর ভেনেজুয়েলা সম্পর্কে এখন কিছুটা হলেও সম্ভবত তারা জানেন।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ