এ নির্মমতার শেষ কোথায়?

প্রকাশিত: ৯:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২২

এ নির্মমতার শেষ কোথায়?

এ নির্মমতার শেষ কোথায়?

আমার পরিচিত এক চাচা এই শহরে বহু বছর থেকে উনার সাথে সখ্যতা।এখন বয়েস প্রায় ৫৫/৬০ হবে।দুই ছেলে এক মেয়ে আছে উনার।ছেলেরা পরিবার নিয়ে ব্রিটেনে থাকে।চাচির অত্যাচারে জীবন অতিষ্ঠ,কারো সাথে মিশতে পারেননা তিনি।ঘর থেকে বের হতেহলে অনুমতি লাগে।উনার বাসায় কাউকে নিয়ে যাবার সুযোগ নেই।

 

প্রায়দিন সকালে দেখতাম বাইরে এসে নাস্তা করছেন।অসম্ভব অমায়িক ব্যবহার উনার।একদিন তিনি হাটতে বেরিয়েছেন।আমার সাথে পথে দেখা,তখন বিকেলের শেষ সময়।আবদার করে বসলেন চলো খালেদ শহরের বাইরে থেকে ঘুরে আসি।চাচাকে গাড়িতে বসিয়ে আলুর তলের পথে ছুটে চলছি।

 

গাড়িতে আইয়ুব বাচ্চুর গান বাঝছে এখন অনেক রাত আমি খুলা আকাশের নিচে বসে আছি দরজারও পাশে।নীজের অজান্তেই কোথায় হারিয়ে গেলেন।চেয়ে দেখি বিরামহীন নোনাজল গাল ভিজে নিচে পড়ছে।বারবার জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে চাচা?না কোনো উত্তর নেই।বোবা কান্না আমাকেও স্তব্ধ করেদেয়।

 

বেশ কদিন উনার বাসা থেকে কান্নার শব্দ পাই।সবাই নীরবে বোঝেন কিন্তু না কোথাও কেউ নেই!মান সম্মান আর সমাজ ব্যবস্থার ভয়ে কোনদিন মুখ খুলতে পারেননি।বেশ কদিন থেকে চাচা ফোন বন্দ পাচ্ছি,বাধ্য হয়েই উনার বাসায় খবর নিতে গেলাম।কলিং বেল টিপতেই চাচি বের হলেন।সালাম দিয়ে বললাম চাচাকে দেখতে এসেছি,বললেন চাচা অসুস্থ।ভিতরে যেতে চাইলাম বললেন এখন ঘুমে পরে এসো।

 

একসাপ্তাহ পর আজ আবার বেহায়ার মতো বাসায় গেলাম।মায়া অদ্ভুত মনটা মানছেনা তাই।বেশ কয়েক বার কলিং বেল টিপলাম না অপাশ থেকে কোনো উত্তর নেই।অনেক ডাকাডাকি করলাম কেউ দোয়ার খুলেনি।অসম্ভব ঘৃণা আর যন্ত্রনা নিয়ে বাসায় ফিরলাম।চাচা হয়তো আমার কন্ঠ শুনে ছটফট করছেন কথা বলতে।তিনি আজ বড় অপারগ সাথে আমিও!

 

আমাদের দেশীয় আইনে নারী নির্যাতনের মামলা হয় কিন্তু না পুরুষ নির্যাতনের কোনো মামলা নাই।পরিচিত কেউ যদি স্ত্রীদের অত্যাচারে ভোগেন দয়াকরে বৃদ্ধ হবার আগেই ডিভোর্স দেন।তালাক হালাল কিন্তু অত্যাচার হারাম।সমাজের ভয়ে আর মানসম্মান বাচাতে মৃত্যুর কাছে নিজেকে সপে দেবেননা,এটা পাপ!বেঁচে থাকবার জন্য একচিমটি শান্তি আর স্বাধীনতা বড্ড দরকার। হ্যা চাচা হয়তো মৃত্যুর দিন গুনছেন তার কাছে মৃত্যুই স্বাধীনতা।

Khaledur Rahman এর টাইমলাইন থেকে
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ