গোপলার কচুরিপানা, কৃষকের কান্না

প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২০

গোপলার কচুরিপানা, কৃষকের কান্না

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হাইল হাওরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত গোপলা নদীর পাড়ে কৃষক চলাচলের বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় সেই ভাঙ্গা অংশ দিয়ে গত দু বছর ধরে কচুরিপানা প্রবেশ করে আটকা পড়ে কৃষকের জমিতে। ফলে দু বছর ধরে উপজেলার মীর্জাপুর ইউনিয়নের যতরপুর ও শহশ্রী এলাকায় শতাধিক কৃষক ধান চাষ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ।

গত দু বছর নানা আবেদন নিবেদন করেও মেরামত হয়নি বাঁধ। কচুরিপানা পরিস্কারেও আসেনি কোন সহায়তা এমন অভিযোগ যতরপুর ও শহশ্রী এলাকার শতাধিক কৃষকের। আর এ অবস্থায় চলতি বছরেও প্রচুর পরিমান কচুরিপানা প্রবেশ করায় আগামী মৌসুমে ধান চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন যতরপুর ও শহশ্রী গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মুহিত পাল জানান, গত দুই বছর ধরে উপার্জনের একমাত্র উপায় ধান চাষ না করার কারনে গ্রামের কৃষকরা অনেকেই ধার দেনা করে দিনযাপন করছেন। গোপলার দুই পাড়ে জমে থাকা কচুরীপানা অপসারন কৃষকদের একার পক্ষে সম্ভব না, সরকারের সহায়তা  জরুরী। একই সাথে ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ মেরামতও  আবশ্যক।

শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাইল হাওরের যতরপুর গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৮শ বিঘা জমিতে জমে আছে কচুরিপানা। এই জমি থেকে এখন পানি নামছে। কচুরিপানাগুলো প্রায় দুই তিন বছর ধরে জমে থাকার কারনে এই জায়গাটি পরিত্যাক্ত ভুমিতে রুপ নিচ্ছে।

স্থানীয় মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ এর ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য মোহিত পাল আরো বলেন,  এই বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এগিয়ে আসতে হবে।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, তিনি জায়গাটি পরিদর্শন করে এসেছেন।  বিষয়টি তিনি উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবগত করবেন।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান,  গোপলা নদী খনন প্রকল্প নিতে পারলে একই সাথে খনন এবং বাঁধ মেরামত দুটোই হবে। এ ক্ষেত্রে  বাঁধ মেরামত এবং নদী খননের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে আবেদন করতে হবে।

এ ব্যপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, বিষটি খোজ নিয়ে কৃষদের জন্য যা যা করনীয় তিনি সে উদ্যোগ নিবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 11
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ