জুড়ীতে প্রেম বিয়ে তালাকের পর মামলার ফাঁদে স্কুলছাত্রী

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২২

জুড়ীতে প্রেম বিয়ে তালাকের পর মামলার ফাঁদে স্কুলছাত্রী
জুড়ীতে প্রেম বিয়ে তালাকের পর মামলার ফাঁদে স্কুলছাত্রী।
জুড়ীতে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রেম, ধর্ষণ,কাবিননামা, তালাকনামা ও সর্বশেষ হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলার অভিযোগ এক স্কুল ছাত্রীর । ভুক্তভোগী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের দরিদ্র শাহাদত হোসেন এর মেয়ে রোকসানা আক্তার(১৮) জায়ফরনগর উচ্চ বিদ্যালয় হতে ২০২২ সালের একজন এস এস সি পরীক্ষার্থী।
শনিবার ৩ সেপ্টেম্বর জুড়ী উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরেন এ স্কুলছাত্রী। স্কুলছাত্রী রোকসানা আক্তার লিখিত অভিযোগে জানান, উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের জায়ফরনগর  গ্রামের প্রবাসী আব্দুল করিম এর বখাটে পুত্র সুলতান আহমদ(২৪) আমাকে বিয়ে করে ঘর সংসার করবে বলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে।
বেশ কিছুদিন আমার সাথে শারিরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলে আমি তাঁকে ঘরে তুলে নেয়ার জন্য চাপ দেই। সে বলে আমার বয়স ১৮ পুর্ণ না হলে কাবিন হবে না। আমি তাঁর কথামতো অপেক্ষায় থাকি। গত ৯ আগষ্ট-২০২২ বয়স পূর্ণ হলে সুলতান আমাকে তাঁর পিত্রালয়ে নিয়ে শারিরিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকে।
দুইদিন ধরে কারো সাথে দেখা সাক্ষাৎ করতে না দিয়ে একটি কক্ষে ধর্ষণ করে বন্ধি রাখে। আমি বিয়ের জন্য চাপ দিলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ১১ আগষ্ট রাতে আমাকে বলে তোমার বাপের বাড়ী চলে যাও। আমি এভাবে যাবো না বললে সে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ভয়ে তাঁর কথায় রাজি হলে সে রাতে আমাকে নিয়ে আমার বাবার বাড়ী যাওয়ার পথিমধ্যে এলাকার লোকজন আটক করেন। ইউপি সদস্য আজাদ মিয়া ও জাকির হোসেন মনির ও তাঁর অভিভাবক তাঁর দুলাভাই খালেদ আহমদ এর মধ্যস্হতায় বিবাহ সম্পন্ন হয়।
প্রতারক সুলতানের দুলাভাই ও তাঁর প্রতারণার সহযোগি খালেদ আহমদ এর প্রস্তাবে মুরব্বিরা আমাকে এক সপ্তাহের জন্য বাবার বাড়ীতে থাকার অনুরোধ করে বলেন, তাঁর বাবা দেশে আসতেছেন। এসেই অনুষ্টানের মাধ্যমে আমাকে ঘরে তুলে নিবেন। সুলতান একজন প্রতারক,নারীলোভী,লম্পট। আমার উপর তাঁর লোলুপ চরিতার্থ আদায় করে গত ১৭ আগষ্ট একজন নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে তালাকনামা লিপিবদ্ধ করে।
মূলত সে ও তাঁর দুলাভাই সমাজের চিহ্নিত অপরাধী। তাঁরা উভয় নারীলোভী। তাঁর ভাইয়েরা ও আমার মতো অসহায় দুইজন নারীকে কিছুদিন পূর্বে ফুসলিয়ে অসৎ চরিতার্থ হাসিল করে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ এলাকাবাসীর জানা রয়েছে। যাহা আমার জানা ছিলো না। তাঁর একমাত্র বড় বোন খালেদ আহমদ এর সাথে জোরপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে বলে সকল মানুষ অবগত।
সর্বশেষ গত ২২ আগষ্ট লম্পট সুলতান আহমদ এর মা মমতা বেগম(৩৫) বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৬ নং আমল আদালত,মৌলভীবাজার বরাবর আমার পরিবার ও আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষীদের কে হয়রানীর উদ্দেশ্যে একটি মিথ্যা চুরির অভিযোগ দায়ের করেন। যার নং সিআর মামলা-১২০/২২. যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
আসল ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাঁর মা মমতা বেগম প্রতারক ছেলের পক্ষ অবলম্বন করছেন। আমি একজন অসহায় দরিদ্র পরিবারের সন্তান। মহামান্য আদালত,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে এবং আপনাদের লেখনির মাধ্যমে আমি সঠিক বিচার চাই। আমার জীবন শেষ। আমি বাঁচতে চাই।
মিথ্যা মামলার নিন্দা জানাই। এসময় উপস্থিত ইউপি সদস্য আজাদ মিয়া স্কুল ছাত্রীর অভিযোগের সম্পূর্ণ বিষয়টি সঠিক বলে দাবী করেন। এ ছাড়া উপস্হিত ছিলেন বাহাদুর পুর পন্ঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা আজিজুল ইসলাম মাসুক ও রোকসানার পিতা শাহাদত হোসেন প্রমূখ।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ