বরেণ্য শিক্ষাবিদ সৈয়দ মুক্তাদিরকে নিজগ্রামে সমাহিত করা হবে

প্রকাশিত: ২:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২০

বরেণ্য শিক্ষাবিদ সৈয়দ মুক্তাদিরকে নিজগ্রামে সমাহিত করা হবে

প্রভাতবেলা ডেস্ক ♦ বরেণ্য শিক্ষাবিদ,মৌলভীবাজারের কৃতি সন্তান জালালাবাদ এসোসিয়েশন ঢাকা’র সাবেক সভাপতি,সৈয়দ আব্দুল মুক্তাদিরের মরদেহ মৌলভীবাজার পৌছেছে। বাদ মাগরির তৃতীয় নামাজে জানাজা শেষে বরইউরির পরিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ধানমন্ডি ঈদগাহ মসজিদে তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর মরহুমের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বরইউরির উদ্দেশ্য হেলিকপ্টারে করে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুপুর ১ টার দিকে মৌলভীবাজার স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টার থেকে মরদেহ গ্রহণ করবেন মরহুমের ভাগ্নে (ফুফাতো বোনের ছেলে) স্থানীয় সংসদ সদস্য নেছার আহমদসহ স্বজনরা।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাদ আছর মৌলভীবাজার শহরের হজরত শাহ মোস্তফা (রহ) এর মাজার সংলগ্ন ঈদগাহে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা হবে। এরপর সদর উপজেলার অফিসবাজার সংলগ্ন বরইউরি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে। বাদ মাগরির সর্বশেষ নামাজে জানাজা শেষে পরিবারিক কবরস্থানে তাকে চিরদিনের জন্য সমাহিত করা হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকাল ৫টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিলো ৮০। তিনি দুই ছেলেসহ অসংখ্য স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

সৈয়দ আব্দুল মুক্তাদির আর নেই  ছিলেন ঢাকায় সিলেটিদের অন্যতম  অভিভাবক এবং দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তিত্ব ।

জালালাবাদ এসোসিয়েশনের ইতিহাসে সর্ব প্রথম সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত কমিটির সভাপতি ছিলেন সৈয়দ আব্দুল মুক্তাদির । 

সৈয়দ আব্দুল মুক্তাদির ছাত্রজীবনে (৬০-এর দশকের প্রারম্ভে) সিলেট এম সি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ছিলেন। বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত সহ অনেক মন্ত্রী , এম পি ,সচিব ও বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ ছিলেন তার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ঘনিষ্ঠ বনধু ।

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে অধ্যাপনার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে পরবর্তীতে তিনি পকিস্তান ট্যাক্সেশন সার্ভিসে যোগ দেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে টিএন্ডটি বোর্ডের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিবসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কনসালটেন্ট এবং রূপালী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন । তাঁর স্ত্রী ছিলেন সরকারি কলেজের অধ্যাপিকা I

মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় বরইউরি গ্রামের অধিবাসী সৈয়দ মুক্তাদির মাত্র ৪৫ বছর বয়সে সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন । জালালাবাদ এসোসিয়েশন ঢাকার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও তিনি ঢাকাস্থ মৌলভীবাজার জেলা সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জালালাবাদ ভবন ট্রাস্টের সদস্য, ইএনটি ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ, ওসমানী স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সহ বহু সামাজিক -সাংষ্কৃতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

সৈয়দ মুক্তাদির মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর ভাগ্নে ছিলেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 10
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ