হক্বের মঞ্জিল পানে নিরন্তর পথচলা সৈনিক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

প্রকাশিত: ১১:২২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২১

হক্বের মঞ্জিল পানে নিরন্তর পথচলা সৈনিক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

হক্বের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে  এক আপোষহীন যোদ্ধা, চরম চাপ, জুলুম-নির্যাতন, ভয়-ভীতিতে  অন্যায়ের কাছে শীর নত না করা মুহাক্কীক আলেমে দ্বীন, হক্বের মঞ্জিল পানে নিরন্তর পথচলা সৈনিক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ♦ প্রভাতবেলা ডেস্ক

 

হাজারো আলেমের উস্তাদ, উপমহাদেশের বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর শায়খুল হাদীস এবং হেফাজতে ইসলামীর নির্বাচিত আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী দুনিয়ার সফর সমাপ্ত করে রাব্বি কারিমের ডাকে সাড়া দিয়েছেন।

 

বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এই শায়খুল হাদীসের জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে ত্যাগ আর কুরবানীর মধ্য দিয়ে।

 

 

ব্যক্তিগত পরিচয়
জুনায়েদ বাবুনগরী ১৩৭৩ হিজরি মোতাবেক ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে ( সনদ অনুযায়ী) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগরে জন্ম গ্রহণ করেন। ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট ৬৮ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার বাবা মরহুম হযরত আল্লামা আবুল হাসান। তার স্ত্রী, পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে।

লেখাপড়া
পড়াশোনা- প্রাথমিক শিক্ষা আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদরাসায়। এরপর তিনি মাধ্যমিক স্তর থেকে শুরু করে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসায়। তারপর পাকিস্তানের দারুল উলূম আল্লামা বিন্নুরি টাউন মাদরাসায় ভর্তি হয়ে ইলমে হাদিসে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফেরেন।

কর্মজীবন
আল্লামা কর্মজীবনের শুরুতে আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদরাসায় মুহাদ্দিস পদে শিক্ষকতায় যোগদান করেন। এরপর ২০০৫ সালে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসায় মুহাদ্দিস পদে যোগদান করেন। ২০১৭ সালে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের শায়খুল হাদিস পদে পদোন্নতি পান। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রাহ:-এর ইন্তেকালের পর তিনি দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষাসচিব পদে নিয়োগ পান।

অপরদিকে ২০১৩ সালে তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিবের দায়িত্ব পান। পরবর্তীকালে শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রাহ:-এর ইন্তেকালের পর ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর হেফাজতের আমির পদে মনোনীত হন তিনি।

মৃত্যু
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগরীর সিএসসিআর হাসপাতালে বেলা ১২টার দিকে ৬৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন আল্লামা বাবুনগরী।

 

আল্লামা আহমদ শফীর ইন্তেকালের পর বিভিন্ন বিতর্কের মধ্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের হাল ধরেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। এর আগে তিনি হেফাজতের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘ দিন। একই সাথে দেশে কওমি মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন মহলে পরিচিত হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালক ছিলেন বাবুনগরী। তবে হেফাজতের আমিরের নেতৃত্বের কারণে দেশ-বিদেশে তার ব্যাপক পরিচিতি পায়। বিশেষ করে হেফাজতের একটি অংশ যখন বর্তমান সরকারের সাথে সমঝোতার পক্ষ নেয়, তখন বাবুনগরীর সরকারবিরোধী দৃঢ় অবস্থানের বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হয়।

চলতি বছর ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে হেফাজতের ডাকে দেশে হরতাল ও পুলিশের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ আর হতাহতের ঘটনা ঘটে। গ্রেফতার করা হয় হেফাজতের একের পর এক কেন্দ্রীয় নেতাকে। সরকারের সাথে একাধিক বৈঠক করেও সমঝোতার সুযোগ না পেয়ে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা দেন সংগঠনটির আমির আল্লামা বাবুনগরী।

এরপর থেকে তিনি মাদরাসার কার্যক্রম নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। অবশ্য এর আগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরের ঘটনার পর গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ দিন রিমান্ড ও কারাভোগ করেছেন তৎকালীন হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ