নিজামীর ফাঁসির প্রতিবাদে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে তুরস্ক

প্রকাশিত: ৮:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০১৬

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

 জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসি দেয়ার পর তুরস্ক বাংলাদেশ থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করেছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় গত মঙ্গলবার রাতে।

বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করার পর থেকে যেসব দেশ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তুরস্ক তার অন্যতম।

এরদোগান এর আগে সেদেশে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে বলেছিলেন, মাওলানা নিজামী ‘কোনো অপরাধ করে থাকতে পারেন বলে আমরা বিশ্বাস করি না।’

এর আগে তুরস্কের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেত গুল বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের কাছে চিঠি লিখেছিলেন জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে যেন ফাঁসির দণ্ড দেয়া না হয় তার অনুরোধ জানিয়ে।

মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসি দেয়ার প্রতিবাদে তুরস্কে কয়েকটি বিক্ষোভও হয়।

তুরস্ক এবং অন্য কিছু দেশ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে বাংলাদেশ সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।

তুর্কী নিউজ ওয়েবসাইট আনাদুলু খবর দিচ্ছে, ঢাকায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ডেভরিম ওযটুককে শলাপরামর্শ করার জন্য আংকারায় ডেকে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  সেলফি তুলতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে এই নিউজ সাইটের খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত ডেভরিম ওযটুক আজ আংকারায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে বুধবার তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালায় এই ফাঁসির দণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের কাছে চিঠি লিখে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়। সংবাদ বিবিসির।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা মানবতাবিরোধী বিচারের কড়া সমালোচনা করলেও এই প্রথম কোনো দেশ তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করলো।

বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির বিরুদ্ধে এর আগেও অবস্থান ব্যক্ত করেছে উদীয়মান মুসলিম পরাশক্তি হিসেবে খ্যাত তুরস্ক।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে ফাঁসি স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছিলেন তুরস্কের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এরদোগান।

এরপর গত বছর নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করায় দুঃখ প্রকাশ করে তুরস্ক। সেই সাথে বাংলাদেশকে জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায় দেশটি।

আরও পড়ুন  করোনা আপডেট ১৬ জুন: নতুন আক্রান্ত ৩৮৬২, মৃত্যু ৫৩

মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাসি কার্যকরের পর তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা দুঃখের সাথে অবগত হয়েছি যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপির নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বিরুদ্ধে দেওয়া বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।’

এতে আরো বলা হয়, ‘এটা উদ্বেগের কারণ এই যে, তারা (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাদি) দুজই আইনগত অধিকার প্রয়োগ করে প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন কিন্তু তাদের সেই আবেদন খারিজ করে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড বিলোপকারী একটি দেশ হিসেবে তুরস্ক বলছে, এই পদ্ধতিতে অতীতের ক্ষত নিরসন করা সম্ভব না।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভ্রাতৃপ্রতীম দেশ হিসেবে আমরা মনে করি, শাস্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যতো দ্রুত সম্ভব মৃত্যুদণ্ডের বিকল্প অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করবে, যা সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠায় অধিক সহায়ক হবে।’

সর্বশেষ সংবাদ