প্রভাতবেলা অফিসে হামলার এক বছর : কথা রাখেননি কুতুবুল আলম

প্রকাশিত: ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২, ২০১৭

প্রভাতবেলা অফিসে হামলার এক বছর : কথা রাখেননি কুতুবুল আলম

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক : দৈনিক প্রভাতবেলা কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর ঘটনার একবছর পূর্ণ হলো আজ (২ মার্চ) বৃহস্পতিবার। গতবছরের এইদিন সন্ধ্যায় পাঞ্জাবী টুপি পরিহিত জঙ্গিদের হামলায় ক্ষত বিক্ষত হয় প্রভাতবেলা কার্যালয়। মাত্র ১৫/২০ মিনিটের নারকীয় তান্ডবে প্রমাণ করে এরা প্রশিক্ষিত জঙ্গি। কিন্তু এরা কারা? কেন এ তান্ডব চালালো? এমন প্রশ্ন নিয়ে যখন প্রভাতবেলা কার্যালয়ে সিলেটের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ভাবছেন। ঠিক এসময় নিজেরাই জানান দিল তারা কারা?
রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট সোবহানীঘাটস্থ হজরত শাহজালাল দারুস সুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা কুতবুল আলমের নেতৃত্বে একদল শাশ্রুমন্ডিত শিক্ষক প্রভাতবেলা কার্যালয়ে আসেন। তারা জানান, তাদের মাদ্রাসারই আবাসিক/অনাবাসিক কয়েকজন শিক্ষার্থী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রভাতবেলা সম্পাদকের হাত ধরে অনুরোধ করেন বিষয়টি আপোসে নিষ্পত্তির।
তাদের অনুরোধ আমলে নেন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। আপোষ রফার জন্য প্রেসক্লাবে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেন। শাহজালাল দারুস সুন্নাহ ইয়াকুবিয়া মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করেন। হামলায় আহত সাংবাদিকের চিকিৎসা ব্যয় ও অফিস ভাংচুরের ক্ষতিপুরণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রভাতবেলা সম্পাদক চিকিৎসা খরচ মাফ করে দেন । সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবিরের সভাপতিত্বে উক্ত শালিস বৈঠকে সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। তার নির্দেশনায় আপোসনামা লিখা হয়। আপোসনামায় স্বাক্ষরের পূর্বে কুতুবুল আলম জানান, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল কমর উদ্দিনের সাথে আলাপ না করে তিনি স্বাক্ষর করতে পারবেন না। দুইদিন সময় চেয়ে নেন। প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ তা মেনে নেন। কিন্তু একবছর পূর্ণ হলেও কুতুবুল আলমের দুইদিন হয়নি। সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশীদ মো: রেনু বারবার তাদের সাথে যোগাযোগ করলেও তারা কথা দিয়ে কথা রাখেনি। তিনি সিলেট প্রেসক্লাবে এক সভায় প্রকাশ্যে ঘোষনা করেন, সোবহানিঘাট মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল আমাদের সাথে ‘বেইমানী’ করেছেন। মাদ্রাসা শিক্ষকদের কাছে আমরা তা আশা করিনি।
এ নিয়ে সিলেটের সাংবাদিক ও সচেতন মহলে চাঁপা অসন্তোষ বিরাজ করছে। আলেমসমাজের একাংশের পক্ষ থেকে এমন উদাসীনতায় সচেতন মহলও ক্ষুব্ধ।
ওইদিন যা ঘটেছিলো :
২০১৪ সালের ২মার্চ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যারাতে নগরীর সোবহানীঘাট সিলেট ট্রেড সেন্টারস্থ দৈনিক প্রভাতবেলা অফিসে আসেন দুই যুবক। তাদের মাথায় টুপি পরনে পাঞ্জাবী ।
এ সময় কর্মরত সাংবাদিক মাসরুর রাসেলের সাথে অহেতুক ঝগড়া লাগাতে চান আগতরা। মাসরুর রাসেল তাদের অনেকভাবে বুঝাতে চেষ্টা করলে তারা আরো উত্তেজিত হয়ে ঊঠে। মোবাইল করে আরো ৪০/৪৫ জন উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী নিয়ে আসে। ঘটনা বুঝে উঠার আগেই তারা এলোপাতাড়ী হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের হামলায় মাসরুর রাসেল আহত হন। পরবর্তীতে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই দিন রাত সাড়ে ৭ টার দিকে ৪০/৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপের কথা বলে প্রভাতবেলা অফিসে প্রবেশ করে। অফিসে ঢুকেই তারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও ভাঙচুর শুরু করে। এসময় তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্ঠা করলে মাসরুর রাসেল ও আব্দুস সালাম মারধর করে জঙ্গীরা। তাদের এলোপাতাড়ি হামলায় মাসরুর রাসেল গুরুতর আহত হলে তাকে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে, ১০/১৫ মিনিট ধরে তান্ডব চালিয়ে সন্ত্রাসী চক্র প্রভাতবেলা অফিসের কম্পিউটার, চেয়ার, টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। সন্ত্রাসীরা পার্শ্ববর্তী শাহজালাল দারুস সুন্নাহ ইয়াকুবিয়া মাদ্রাসার ছাত্র বলে নিজেদের পরিচয় দেয়। হামলা ও ভাঙচুর শেষে তারা ওই মাদ্রাসার ক্যাম্পাসে ঢুকে যায়।
এদিকে, খবর পেয়ে সিলেট প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ গণমাধ্যমকর্মীরা ঘঠনাস্থলে ছুটে যান। এসময় সিলেট কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবির, সাবেক সভাপতি মুকতাবিস উন নূর, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ মো. রেনু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন শিহাব, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ, দৈনিক জালালাবাদেও ইকবাল মুন্সী, বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।
এ প্রসঙ্গে সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ মো. রেনু বলেন, ‘সোবহানীঘাট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে যোগাযোগ করবে বলে পরবর্তীতে উদাসীনতা দেখায়। তাদের কাছ থেকে কোনো সন্তুষজনক সুরাহা পাওয়া যায় নি। তারা কথা দিয়ে কথা রাখেনি।

সর্বশেষ সংবাদ