জৈন্তায় নিরাপত্তাহীনতায় ব্যবসায়ী, থানায় অভিযোগ

প্রকাশিত: 10:10 PM, October 9, 2023

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুরে আওয়ামীলীগ সরকার দলীয় ক্যাডারদের রোষানলে পড়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন এক ব্যবসায়ী। চাঁদা না পেয়ে তার উপর গত ৩ অক্টোবর হামলা চালিয়েছে তারা। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে ঘটনার ৪ দিন পর গতকাল রোববার (৮/১০/২০২৩) জৈন্তাপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন আব্দুল খালিক (৪৮) নামে ঐ ব্যবসায়ী। তিনি জৈন্তাপুর উপজেলার বাউরভাগ কাটাখালের রফিকুল হকের পুত্র। অভিযোগে তিনি আওয়ামীলীগ নেতা কামাল আহমদ ও লিয়াকত আলীসহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জনকে আসামী করেছেন।
অভিযোগে আব্দুল খালিক উল্লেখ করেন “বিবাদীগন টেন্ডার কারসাজি, চোরাচালান, জবর দখল ও সহিংস কর্মকান্ডে মদদ দাতা, চাঁদাবাজ অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির লোক। আমি একজন ব্যবসায়ী হিসাবে জৈন্তাপুর থানাধীন ৪নং বাংলা বাজার নামক স্থানে তাসনিম স্টোন ক্রাশার ও জৈন্তাপর বাসষ্টেশনে তাসমিয় মেডিসিন কর্ণার নামীয় ০২ (দুই)টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রহিয়াছে। বিবাদীগন আওয়ামীলীগের দাপট দেখাইয়া এলাকার বিভিন্ন অপকর্ম করে থাকে। বিবাদীগন সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ সাহেবের নেতৃত্বে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তানসিম স্টোন ক্রাশার নামীয় প্রতিষ্ঠান হইতে ভাঙ্গা পাথরের অর্ডার দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে পাথরের মূল্য বাবদ টাকা সময় মত পরিশোধ না করায় এবং আমার ম্যালকানাধীন তাসনিম মেডিসিন কর্ণার নামীয় ফার্মেসীর মাধ্যমে ভারতীয় অবৈধ ঔষধ খরিত করতে চাপ সৃষ্টি করে। আমি তাহাদের কথায় রাজি না হওয়ায় বিবাদীগনের সাথে আমার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় ঘটনার তারিখ ০৩/১০/২০২৩ইং বেলা অনুমান ১২:০০ ঘটিকার সময় বিবাদীগন সহ তাহার সহযোগী ১৫/২০জন বিবাদী দা, রোল, রড, হকিস্টিক, চাইনিজ কোড়াল, জিআই পাইপ, পিস্তল ইত্যাদি নিয়া আমার ফার্মেসীতে অনাধিকার ভাবে প্রবেশ করিয়া ১ ও ২নং বিবাদীগন আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করে। আমি তাহাদের গালাগালি শুনিয়া প্রতিবাদ করায় বিবাদীগন আমাকে হুমকি দিয়া বলে যে, বর্ণিত স্থানে ব্যবসা করিতে হইলে তাহাকে ৩০,০০,০০০/- (ত্রিশ লক্ষ) টাকা চাঁদা প্রদান করিতে হইবে। আমি বিবাদীগনের এহেনও কর্মকান্ডে স্বীকার হইয়া চাঁদা দিতে অপারগতা। প্রকাশ করিলে ১ ও ২নং বিবাদীগন তাহাদের সংগীয় অজ্ঞাত নামা ১৫/২০জন বিবাদীকে হুকুম দিয়া বলে যে, কুত্তার বাচ্চার দোকান ভাঙ্গিয়া ফেল। উক্ত হুকুম পাইয়া অপরাপর বিবাদীগন আমার দোকান কোঠা ভাংচুর শুরু করে। তখন ১নং বিবাদী আমার দোকানের ক্যাশ রেজিষ্টারে থাকা ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা লুট করে নিয়া যায়। আমার ছোট ভাই সাক্ষী আব্দুল মতিন ও দোকান কর্মচারী খগেন্দ্র চন্দ্র আমাকে বিবাদীগনের কবল থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করিলে সমূহ বিবাদীগন আমাকে ও আমার ভাই ও দোকান কর্মচারীকে বেধড়ক ভাবে মারপিট করিয়া চলিয়া যায়। পরবর্তীতে আমার পাশ্ববর্তী ফার্মেসীর মালিক জালাল উদ্দীন সহ স্থানীয় লোকজন আমাদেরকে উদ্ধার করে জৈন্তাপুর হাসপাতালে নিয়া গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার সাহেব আমার ভাই ও দোকান কর্মচারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং আমার অবস্থা আশংকাজনক দেখিয়া আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট রেফার্ড করেন। পরবর্তীতে আমার আত্মীয় স্বজনগন আমার উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাকে সিলেট ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করেন। আমি বর্নিত হাসপাতাল হইতে চিকিৎসা গ্রহন করিয়া ছাড়পত্র সংগ্রহ পূর্বক বাড়ীতে আসিয়া বর্ণিত ঘটনার বিষয় স্থানীয় মুরব্বিয়ানগনের নিকট বিচার প্রার্থী হই। কিন্তু বিবাদীগন স্থানীয় সালিশ বিচার না মানিয়া আমার উপর হুমকি অব্যহত রাখায় বিবাদীগনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অত্র অভিযোগ দাখিল করিলাম।
এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর থানার ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্তরা এলাকার সম্মানী ব্যক্তি। তাই ব্যবসায়ীর অভিযোগের সত্যতা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন  শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধাঞ্জলি
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন...

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ