আড়াই লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার♦️গ্রেফতার ৫

প্রকাশিত: ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৫

আড়াই লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার♦️গ্রেফতার ৫
  • আড়াই লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার♦️গ্রেফতার ৫

আহমদ মারুফ♦

সিলেটে মিলল প্রায় আড়াই লাখ ঘনফুট পাথর। শনিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত যৌথ বাহিনী পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে এসব পাথর উদ্ধার করেছে।

সাদাপাথরসহ সিলেটের বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে লুট করা পাথর উদ্ধারে যৌথ বাহিনী গত বুধবার রাত থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযানে নামে। এরই অংশ হিসেবে চতুর্থ দিনের মতো আজ সদর উপজেলায় পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সদর উপজেলার ধোপাগুল ও মহালদিক এলাকায় যৌথ বাহিনীর দুটি অভিযান শুরু হয়। এসব অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকার মামুনুর রশীদ। তাঁদের সঙ্গে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন।

অভিযানে ধোপাগুল এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ঘনফুট ও মহালদিক এলাকায় আরও প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়। ক্রাশার মেশিনের সামনে স্তূপাকারে এসব পাথর ছিল। এর বাইরে বিভিন্ন রাস্তা ও বাড়ির পাশে মাটি ও বালু দিয়েও এসব পাথর ঢেকে রাখা হয়েছিল। কেউ কেউ ত্রিপল দিয়েও এসব পাথর ঢেকে রেখেছিলেন।

আরও পড়ুন  করোনায় এক দিনে মৃত্যু ৪২, শনাক্ত ২৭৪৪

সারা দেশে ৫১টি কোয়ারি (পাথর, বালু ইত্যাদি উত্তোলনের নির্দিষ্ট স্থান) রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে রয়েছে আটটি পাথর কোয়ারি। এর বাইরে সিলেটে আরও ১০টি জায়গায় পাথর রয়েছে। যেমন সাদাপাথর, জাফলং, বিছনাকান্দি ও উৎমাছড়া। এসব জায়গা পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

সাদাপাথর লুটে জড়িতদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ হাইকোর্টেরঃ
পাথর আসে সীমান্তের ওপারে ভারতের পাহাড়ি নদী থেকে। ২০২০ সালের আগে সংরক্ষিত এলাকা ছাড়া সিলেটের আটটি কোয়ারি ইজারা দিয়ে পাথর উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হতো। তবে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতির কারণে ২০২০ সালের পর আর পাথর কোয়ারি ইজারা দেওয়া হয়নি।

সিলেটের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক দলের নেতারা সব সময় পাথর উত্তোলনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। বিগত পাঁচ বছরে তাঁরা নানাভাবে কোয়ারি ইজারা আবার চালুর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সরকার অনুমতি দেয়নি। এ অবস্থায় রাতে লোকজন অবৈধভাবে পাথর তুলতেন।

পাথর লুটে গ্রেপ্তার ৫
কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র থেকে পাথর লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  জামানের পথ ধরে সিলেটে আরো ১১ নেতার পদত্যাগ

শনিবার এই পাঁচজনকে খনিজ সম্পদ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান। তিনি জানান, শুক্রবার দিনগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত হলেন-মোহাম্মদ কামাল মিয়া (পিচ্চি কামাল, ৪৫), মো. আবু সাঈদ (২১) ও মো. আবুল কালাম (৩২)। তাদের সবাইকে কোম্পানীগঞ্জ এলাকার নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

এছাড়া, ডাম্প ট্রাকে করে ক্রাশ করা সাদা পাথর পরিবহনের সময় চেকপোস্ট বসিয়ে ইমান আলী (২৮) ও জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) নামের আরও দুজনকে পাথরসহ আটক করা হয়।

সর্বশেষ সংবাদ