ঘরের মাঠেও হারলো সিলেট

প্রকাশিত: ১২:০১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২৪

ঘরের মাঠেও হারলো সিলেট

আফজল হোসেন :

 

সিলেটে ক্রিকেট মানে গ্যালারি দর্শকে ঠাসা। ওয়ানডে কিংবা টি২০, সিলেট স্টেডিয়ামের গ্যালারি থাকবে ক্রিকেট পাগল দর্শকে ভরপুর। দেশের একমাত্র ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক লিগ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ টি২০-ও এর বাইরে নয়, দেশীয় তারকাদের পাশাপাশি বিদেশি তারকা চার-ছক্কার লড়াই দেখতে মুখিয়ে থাকেন সিলেটের ক্রিকেট প্রেমি দর্শকরা।

শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বিপিএলের সিলেট পর্বের প্রথম দিনে সিলেটের গ্যালারিতে দেখা গেছে দর্শকদের উপচে পড়া ভীড়। টিকেট নিয়ে হাহাকারের মধ্যেও সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ। দিনের দুই ম্যাচে বড় স্কোর না হলেও ছোট সংগ্রহের ম্যাচে মাঠে আসা দর্শকদের হতাশ করেননি দেশি-বিদেশি তারকারা।

দিনের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার দাসুন শানাকার ব্যাটে-বলে দারুণ নৈপুন্যে তারকাবহুল রংপুর রাইডার্সকে ২৮ রানে হারিয়েছে খুলনা টাইগার্স। দিনের অপর ম্যাচে আলিস আল ইসলামের দাপুটে বোলিংয়ে ৫২ রানে ঘরের মাঠে সিলেট স্ট্রাইকার্সকে পরাজয়ের স্বাদ দিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

দিনের প্রথম ম্যাচে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পঞ্চম উইকেটে মোহাম্মদ নওয়াজ ও দাসুন শানাকার ৭৭ রানের মহামূল্যবান জুটিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬০ রান সংগ্রহ করে খুলনা টাইগার্স। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৬৪ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে খুলনা।

এরপর শানাকা ও নওয়াজের পঞ্চম উইকেটে জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় খুলনা। এই দুই ব্যাটার ৭৭ রানের জুটি গড়ার পথে যথাক্রমে ৪০ ও ৫৫ রান করেন। শানাকা ৩৩ বলে ৪০ রানের ইনিংসটি সাজান ৫ চার ও ২ ছক্কায়। আর নওয়াজের ৩৪ বলে ৫৫ রানের ইনিংসটিতে ছিল ৫ চার ও ৩ ছক্কার মার। এছাড়া এলভিন লুইসের ব্যাট থেকে আসে ২৫ বলে ৩৭ রান।

আরও পড়ুন  করোনায় আবারও শতাধিক মৃত্যু

এর আগে মাহেদী হাসান ও হাসান মাহমুদ মিলে খুলনার টপ অর্ডারে ধস নামান। রংপুরের এই দুই বোলার শিকার করেন পাঁচ উইকেট। ২৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন হাসান। আর মাহেদী ২ উইকেট শিকার করতে ব্যয় করেন ২০ রান।

জবাবে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বাবর আজমের (২) উইকেট হারায় রংপুর রাইডার্স। বাবরের পর তিনে নাম ব্র‍্যান্ডন কিংকেও দাঁড়াতে দেননি মোহাম্মদ নওয়াজ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে এসে ওয়াসিম দলীয় ১১ রানে ব্র‍্যান্ডনকে (১) ফেরালে রান তাড়ায় শুরুতে হোঁচট খায় রংপুর।

এরপর রনি তালুকদার ও শামীম হোসাইন মিলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও সেটা ছিল মন্থর গতির। রনির ২৫ বলে ১৫ রানের ইনিংসই তার প্রমাণ। শামীম হাত ব্যাট চালালেও ২২ বলে ৩০ রানের বেশি করতে পারেননি।

পাঁচে নামা মোহাম্মদ নবী ৩০ বলে ৫০ রানের মারমুখী ইনিংসে রংপুরের সংগ্রহ একশো পার হয়। চোখের ইনজুরিতে ভুগতে থাকা সাকিব আল হাসান সাতে নেমেও ফিরেছেন মাত্র ২ রান করে। লঙ্কান অলরাউন্ডার শানাকার বলে সাকিব ফিরলে দলীয় সংগ্রহ আশির ঘরে থাকতেই ৭ উইকেট হারায় রংপুর।

এরপর দ্রুত আরও তিন উইকেট শিকার করে রংপুরকে ১৩২ রানে গুটিয়ে দেন শানাকা। ৩ ওভারে ১৬ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করার পাশাপাশি ১টি রান আউট করে ও ব্যাটিংয়ে ৪০ রানের সময়োপযোগী ইনিংসে খুলনার ৩২ রানের জয়ের নায়ক শানাকা।

আরও পড়ুন  ‘কর্মে অমর মাওলানা ক্বারী জমীরুদ্দীন’ স্মারক প্রকাশ

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যায় মুখোমুখি হয় সিলেট স্ট্রাইকার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স৷ ঢাকার মতো নিজ ঘরের মাঠে নিষ্প্রভ সিলেটের পারফরম্যান্স। সিলেটের বোলাররা ছন্দে ফিরলেও এই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে চরম ব্যর্থ হয়েছে সিলেট।

প্রথম বোলিং করে মাত্র ১৩০ রানে কুমিল্লাকে আটকে দেয় সিলেট। ফিটনেস সমালোচনায় পড়া সিলেটের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ৪ ওভারে কোনো উইকেট না পেলেও রান দেন মাত্র ১৯। তার সাথে দুর্দান্ত বোলিং করেন সামিত পাটেল ও রিচার্ড এনগারাভা। পাটেল ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে তুলে নেন কুমিল্লার ৩ উইকেট। অন্যদিকে এনগারাভা শিকার করেন ২ উইকেট। কুমিল্লার হয়ে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন ইমরুল কায়েস। এছাড়া ২৯ রান আসে জাকের আলী অনিকের ব্যাট থেকে।

১৩১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৭৮ রানে গুটিয়ে যায় সিলেট। রান তাড়ায় সর্বোচ্চ ৪০ রান আসে জাকির হাসানের ব্যাট থেকে। আলিস আল ইসলামের স্পিন ঘুর্ণিতে সিলেটের বাকী ব্যাটাররা মাতেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। আলিস ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট শিকার করে হয়েছেন ম্যাচ সেরা। এছাড়া রোস্টন চেজ নেন ২টি উইকেট। সিলেটের ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ রান আসে রায়ান বার্লের ব্যাট থেকে৷

 

সর্বশেষ সংবাদ