সিলেট ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৪
তানজীল শাহরিয়ার
শিরোপা প্রত্যাশী মোহামডানকে উড়িয়ে দিয়ে সিলেট লিগে বঙ্গবীর অগ্রগামী ক্রীড়া চক্রের জয়ধারা অব্যাহত রয়েছে। মঙলবার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে মোহামেডান এবং বঙ্গবীর অগ্রগামী ক্রীড়া চক্রের ম্যাচ ঘন কুয়াশার কারণে বিলম্বিত হয়। দেরিতে শুরু হওয়ায় ম্যাচটি ৪৭ অভারের দৈর্ঘ্যে নেমে আসে।
টসে জয়লাভ করে বঙ্গবীর মোহামেডানকে প্রথমে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানায়। সহায়ক পরিবেশে শুরু থেকেই বঙ্গবীরের বোলাররা বেশ আঁটসাঁট বোলিং করতে থাকেন। ১০ অভার শেষে মোহামেডানের স্কোর ছিলো ২৩/১!
আনু, রিহাদ, অমিত, আরাফাত সানি জুনিয়র, ইলিয়াস সানি, নবাব — প্রত্যেকেই উইকেটে সেট হয়ে যাওয়ার পরেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ৪র্থ উইকেটে অমিত এবং আরাফাত সানি জুনিয়র ৪০ রানের জুটি গড়েন। ৭ম উইকেট জুটিতে ৩৪ রান তোলেন ইলিয়াস সানি এবং নবাব।
সাদাকালো শিবিরের ব্যাটাররা খানিকটা থিতু হলেও দ্রুত রান তোলা কিংবা বড়ো ইনিংস গড়া — কোনোটাই করতে পারেননি। বঙ্গবীরের স্পিনাররা ইনিংসে দারুণ বোলিং করেছেন। অভিজ্ঞ অলক কাপালি, মাহবুব হাসান, রাহাতুল ফেরদৌস জাভেদ, নাঈম ইসলাম, আহমেদ সাদিকুর রহমান তাজিন — ৩৬ অভার বল করে মাত্র ১০৯ রান দিয়েছেন এই স্পিনাররা। উইকেট নিয়েছেন ৬টি। অভারপিছু রান দিয়েছেন ৩.০২!
প্রথমে বোলিং করার সুবিধাটুকু আদায় করে নিতে এতটুকু কার্পণ্য করেননি বঙ্গবীরের বোলাররা। মোহামেডানের ব্যাটারদের যেমন উইকেটে স্বস্তিতে থাকতে দেননি, তেমনই হাত খুলে খেলার সুযোগটাও শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। ৪৬.৩ অভার ব্যাট করে মাত্র ১২টা বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন মোহামেডানের ব্যাটাররা, যার মধ্যে চার ছিলো ১০টি, ছক্কার মার ছিলো ২টি।
শেষ পর্যন্ত সব উইকেট হারিয়ে সাকল্যে ১৬০ রান তোলে মোহামেডান।
অমিত ২২, আনু ২১, আরাফাত সানি জুনিয়র ১৯, নবাব ১৯, রিয়াদ ১৮, ইলিয়াস সানি ১৭ রান করেছেন। রাহাতুল ফেরদৌস জাভেদ ৮ অভারে ২৪ রান দিয়ে ৩টি, রাহি ২৬ রান দিয়ে ২টি, অলক কাপালি ৭ অভারে ১৭ রান, তাজিন ৭ অভারে ২৭ রান, নাঈম ইসলাম ৭ অভারে ২৮ রান দিয়ে ১টি করে উইকেট লাভ করেন।
১৬১ রানের লক্ষ্যকে মামুলি সংগ্রহ বানিয়ে দেন বঙ্গবীরের দুই ব্যাটার — ইমতিয়াজ হোসেন তান্না এবং রাহাতুল ফেরদৌস জাভেদ। উইকেটের চারপাশে বাউন্ডারির ফুলঝুরি ছোটান এই দুই ব্যাটার।
৫ম অভারে ২৬ রানের মাথায় এজাজ বিদায় নিলেও, তান্না এবং জাভেদ সেটার কোনো প্রভাব পড়তে দেননি। মোহামেডানের বোলারদের পাল্লা দিয়ে তুলোধুনা করেছেন দু’জনেই।
তান্না ৬৯ বল ব্যক্তিগত অর্ধশত রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। অর্ধশত রানের মধ্যে ২৬ রানই এসেছে চার-ছয় থেকে। ৫টি চার আর ১টি ছক্কা ছিলো যখন তিনি পঞ্চাশ রান পূর্ণ করেন। জাভেদ ছিলেন আরো আগ্রাসী। মাত্র ৪১ বলেই তিনি অর্ধশত রান পূর্ণ করেন। তার পঞ্চাশে ছিলো ১টি চার আর ৫টি ছক্কা!
এই দুই ব্যাটারের ব্যাটিং ঝড়ে মোহামেডানের বোলাররা দিশাহারা হয়ে পড়েন। শিরোপা লড়াইয়ের আমেজ নিয়ে শুরু হওয়া ম্যাচে বঙ্গবীরের কাছে এভাবে নাস্তানাবুদ হবে — ঐতিহ্যবাহী সাদাকালো শিবিরের কারো মনে কি এই ভাবনা এসেছিলো?
২৫.৫ অভারেই ১ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান তুলে ম্যাচ জয় সম্পন্ন করে বঙ্গবীর।
তান্না ৮৭ বল খেলে ৭৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন। জাভেদ মাত্র ৪৩ বলে ৬০ রান করে অপরাজিত রয়ে যান। এজাজ ১৪ রান করে আউট হয়েছেন।
মোহামেডানের ইলিয়াস সানি ৬ অভারে ৪১ রান দিয়ে ম্যাচের একমাত্র উইকেটটি লাভ করেন।
ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন জাভেদ।
এই ম্যাচ জয়ের ফলে শিরোপা থেকে আর মাত্র ২ ম্যাচের দূরত্বে রয়েছে তারকায় ঠাসা বঙ্গবীর অগ্রগামী ক্রীড়া চক্র। পক্ষান্তরে, ৭ম ম্যাচে এসে ১ম হারের স্বাদ পাওয়া মোহামেডানের জন্যে এখন বাকি দুই ম্যাচ জয়ের সঙে কামনা করতে হবে বঙ্গবীরের পরাজয়। দুই দলেরই শিরোপা প্রত্যাশী আরেক শক্তিশালী দল জিমখানার সঙে খেলা বাকি রয়েছে।
বঙ্গবীরে অলক-তান্না-রাহি’র মত তারকা ক্রিকেটারের সঙে বহিরাগত কোটায় খেলেছেন জাতীয় দলে খেলা নাঈম ইসলাম। অন্যদিকে মোহামেডানে স্থানীয় তারকা ক্রিকেটার কেউই ছিলেন না, ঢাকা থেকে উড়িয়ে আনা ইলিয়াস সানি অবশ্য বাংলাদেশ দলে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, অন্য রিক্রুট আরাফাত সানি জুনিয়র এখনো শীর্ষ পর্যায়ে থিতু হতে পারেননি।
সিলেট লিগের দুই শক্তিশালী দলের লড়াই এমন একপেশে হওয়ায় লিগের ঝাঁজ কমে গেছে বলাই বাহুল্য।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি