মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কাতার:
শাহবাগী হুজুর। এখনকার সময়ে শাহবাগী বলতে আব্দুল মতিন শাহবাগীকে বুঝায়। কিন্তু আমি যে শাগবাগীর কথা লিখছি, তিনি শাইখুল হাদীস আজিজুর রাহমান শাহবাগী-যিনি আব্দুল মতিন শাহবাগীর উস্তাদ।
মাওলানা আজিজুর রাহমান শাহবাগী। সুজাউল আলিয়া মাদ্রাসার প্রাক্তণ প্রিন্সিপাল। বর্তমান প্রিন্সিপাল মাওলানা ফয়জুর রাহমান তারই ছাত্র। সিলেটের বহু প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপালই তার ছাত্র। হাজার হাজার আলেমদের উস্তাদ আমাদের শাহবাগী হুজুর আর নাই। ফেইসবুকের কল্যাণে যখন খবরটা জানলাম, তখন দোয়া লিখে মন্তব্য করতেও কষ্ট হচ্ছিলে-হাত চলতে ছিলনা। দোয়া করি আল্লাহ যেন তার নেক আমল গুলো কবুল করে জান্নাতের মেহমান হিসাব উচ্চ মর্যদায় আসিন করেন।
আমার জীবনের ফেভারেট ০৩জন শিক্ষকের মাঝে তিনি সবশেষে স্থান পেয়েছেন যখন তার কাছে বুখারী পড়ছিলাম। অন্য দূ’জনের একজন হযরত মাওলানা ইব্রাহীম আলী-যিনির কাছে গাংকুল মাদ্রাসায় আলেম শ্রেনীতে উসুলে ফিকহ পড়েছিলাম। যার প্রতিটি ক্লাস আমার এখনো মনে আছে। দ্বিতীয় জন মৌলভী বাজার টাউন সিনিয়র মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সাহেব-যার কাছে জালালাইন পড়েছিলাম। তার প্রতিটি ক্লাস ছিল এক-একটা প্যাকেজ নোট বই। উল্লেখ্য যে, আমার ফেভারেট এই দুই টিচার শাহবাগী হুজুরের ছাত্র। আর আমি তার শেষ জামানার ছাত্র। ১৯৯১-৯২ সালে তার কাছ বুখারী শরীফ পড়েছি। তখন সুজাউল আলীয়া মাদ্রাসা ছাত্র সংসদের জিএস থাকার সুবাদে তার সাথে যে ঘনিষ্ঠতা শুরু হয়েছিল, তা প্রবাস জীবনে অনেক দূরে চলে আসলেও কম পড়েনি। তাই প্রবাস থেকে দেশে গেলে বারবার তাকে দেখতে গিয়েছি জকিগঞ্জের শাহবাগে তার বাড়ীতে।
শাহবাগী হুজুরকে নিয়ে আমার অনেক স্মৃতি আছে। যা লিখে মনটাকে হালকা করতে চাই।
লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও আলেমে দ্বীন।