টাঙ্গুয়ার হাওরে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ

প্রকাশিত: ৫:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২০

টাঙ্গুয়ার হাওরে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক, সিলেট ♦ দিনে পারবেন। রাতে পারবেন না। টাঙ্গুয়ার হাওরে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ। সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর—বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি এবং দর্শনীয় স্থান। সাম্প্রতিক করোনার ছোবলে আক্রান্ত এ পর্যটন কেন্দ্রও। মার্চ এর তৃতীয় সপ্তাহ থেকে একেবারে পর্যটক শূণ্য হয়ে পড়ে বিশ্বের অন্যতম মিটাপানির এ জলাভূমি।

অতি সম্প্রতি কিছু ভ্রমণ বিলাসী পর্যটক টাঙ্গুয়ার হাওরে আসতে শুরু করেন। এদের অনেকেই এখানে রাত্রিযাপন করে থাকেন। অভিযোগ উঠে রাতের বেলা তাদের অনেকেই অপরাধ কাজে জড়িয়ে পড়েন। বিশেষ করে ঢাকা থেকে অনেকেই অসামাজিক কার্যকলাপের উদ্যেশে সাথে অবঞ্চিত নারী নিয়ে আসেন। চাঁদের আলোর রজনীতে ফুর্তি আনন্দে মেতে উঠেন। প্রশাসন মনে করছে এদের অনেকেই অপরাধে কার্যক্রম সংঘটিত করে থাকেন। তাই টাঙ্গুয়ার হাওরে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রশাসন বলছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সুনামগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্র তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর ও টেকেরঘাটের শহীদ সিরাজ লেকে পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। সোমবার(১৭ আগস্ট) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে বিষয়টি সবাইকে অবগত করেন তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিনের বেলায় নৌকা নিয়ে টাঙুয়ার হাওরে ঘুরতে পারবেন পর্যটকরা।

প্রসঙ্গত: টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০টিরও বেশি ঝরা (ঝরনা) এসে মিশেছে এই হাওরে। দুই উপজেলার ১৮টি মৌজায় ৫১টি হাওরের সমন্বয়ে ৯,৭২৭ হেক্টর এলাকা নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর জেলার সবচেয়ে বড় জলাভূমি। পানিবহুল মূল হাওর ২৮ বর্গকিলোমিটার এবং বাকি অংশ বসতি ও কৃষিজমি। একসময় গাছ-মাছ-পাখি আর প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের আধার ছিল এই হাওর। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে টাঙ্গুয়ার হাওরকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তখনই অবসান হয় দীর্ঘ ৬০ বছরের ইজারাদারির। ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে ২০ জানুয়ারি এই হাওরকে ‘রামসার স্থান’ (Ramsar site) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আইসিইউএন এই হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছে। হাওর এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন, সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ড সরকারের মধ্যে ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের ৯ নভেম্বর থেকে হাওরের নিয়ন্ত্রণ নেয় জেলা প্রশাসন। সুইস অ্যাজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (এসডিসি) এবং আইসিইউএন ২০০৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ‘টাঙ্গুয়ার হাওর সমাজভিত্তিক টেকসই ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্প পরিচালনা করছে।

শীত মৌসুমে পানি শুকিয়ে কমে গেলে এখানকার প্রায় ২৪টি বিলের পাড় (স্থানীয় ভাষায় কান্দা) জেগে উঠলে শুধু কান্দার ভিতরের অংশেই আদি বিল থাকে, আর শুকিয়ে যাওয়া অংশে স্থানীয় কৃষকেরা রবিশস্য ও বোরো ধানের আবাদ করেন। এ সময় এলাকাটি গোচারণভূমি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বর্ষায় থৈ থৈ পানিতে নিমগ্ন হাওরের জেগে থাকা উঁচু কান্দাগুলোতে আশ্রয় নেয় পরিযায়ী পাখিরা —রোদ পোহায়, জিরিয়ে নেয়। কান্দাগুলো এখন (২০১২) আর দেখা যায় না বলে স্থানীয় এনজিও ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় সেখানে পুঁতে দেয়া হয়েছে বাঁশ বা কাঠের ছোট ছোট বিশ্রাম-দণ্ড।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 29
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ