বাড়ছে সুরমা-কুশিয়ারার পানি, সিলেটে বন্যার শঙ্কা

প্রকাশিত: ৬:২৯ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২৪

বাড়ছে সুরমা-কুশিয়ারার পানি, সিলেটে বন্যার শঙ্কা
প্রভাতবেলা প্রতিবেদক: সিলেটের প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বাড়তে শুরু করেছে। গেল কয়েকদিন ধরে প্রতিদিনই সিলেটে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত হচ্ছে ভারতের আসামের শিলচরে ও মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদী ও হাওরের পানি বাড়তে শুরু করেছে। নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী দুইদিনের মধ্যে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

 

 

এ তথ্য জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান।

 

তিনি বলেন, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সকল প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার শেষরাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলে বজ্রঝড় হবে। একইসঙ্গে ১১ মে শনিবার পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলে বজ্রঝড় এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন  বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করলো ওয়ান পাউন্ড হসপিটাল

 

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্যের বরাতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এ সময় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি সমতল সময় বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে সিলেট জেলার সীমান্ত সংলগ্ন সুরমা নদীর কানাইঘাট, লোভাছড়া নদীর লোভাছড়া, সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট ও গোয়াইনঘাট পয়েন্টে পানি সমতল স্বল্পমেয়াদে প্রাকমৌসুমী বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।

 

জানা গেছে, পশ্চিমা লঘু চাপের প্রভাবে মে মাসের ৩ তারিখ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলো, মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জি ও আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মে মাসের ৫ তারিখের পর থেকে পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগ ও কিশোরগঞ্জের জেলার হাওর এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন  ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় বহাল

 

 

অন্যদিকে বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যমতে, গেল ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের জৈন্তাপুরের লালাখাল স্টেশনে ৭০ মিলিমিটার, জকিগঞ্জ পয়েন্টে ৬৮ মিলিমিটার, বিয়ানীবাজারের শেওলা পয়েন্টে ৫৪ মিলিমিটার, কানাইঘাট পয়েন্টে ৫১ ও সিলেট শহর পয়েন্টে ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে ভারতের আসামের শিলচরে ৬২ মিলিমিটার এবং মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তানভীর ইসলাম বলেন, আগামী কয়েকদিন সিলেটে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় ভারতের আসামের শিলচরে ও মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতেও ভারী বৃষ্টিপাতে সম্ভাবনা আছে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদী ও হাওরের পানি আরো বৃদ্ধি পাবে। তা অব্যাহত থাকলে সিলেট অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ