দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

প্রকাশিত: ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৬

bd1মাঠে ময়দানে ডেস্ক: বাংলাদেশের দেওয়া ২৩৯ রানের টার্গেটের জবাবে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৪৪.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২০৪। ৩৪ রানে জয় পেল বাংলাদেশ যা ইংলিশদের বিপক্ষে সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে ব্রিস্টলে ৫ রানে, অ্যাডিলেডে ১৫ রানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে রান তাড়া করে জয় পেয়েছিল ২ উইকেটে।

ব্রিস্টল ও ঢাকার ম্যাচের মধ্যে অনেক মিল। কার্বন কপি বললেও ভুল হবে না। প্রথম জয় পাওয়া ম্যাচে বাংলাদেশ করেছিল ২৩৬। আজ স্কোরবোর্ডে যোগ হল ২ রান। সে ম্যাচেও ৭৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ইমরুল কায়েস। আজ সেই কাজটা করল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৭৫)। ব্রিস্টলের ম্যাচের নায়ক মাশরাফি ব্যাট হাতে আটে নেমে করেছিলেন ২২। আজ নয়ে নেমে করলেন ৪৪ রান।

বোলিংয়ে মাশরাফি, সাকিব, রাজ্জাক, শফিউলরা নিয়েছিলেন ২ উইকেট করে। আজ সেই কাজটা করল মাশরাফি, সাকিব, নাসির, তাসকিনরা। ব্রিস্টলে ইংল্যান্ডের হয়ে দৃঢ়তা দেখিয়েছিল জনাথন ট্রট (৯৪), আজ ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার ৫৭ রানের ইনিংস খেলে গড়লেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। শেষ পর্যন্ত একই গল্পের পুনরাবৃত্তি। শেষ হাসিটা হাসে বাংলাদেশ। জয়ের নায়কও এক। মাশরাফি বিন মুর্তজা।

অ্যাডিলেডেও ছিল একই আবহ। সেবার মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ১০৩ রান। আজ সেই মাহমুদউল্লাহই করলেন ৭৫ রান। ৪০’র ঘরের ইনিংস খেলেছিলেন সৌম্য। আজ সেই কাজটা করে দেখিয়েছেন মাশরাফি। বোলিংয়েও একই চিত্র। সেবার পেস অ্যাটাক নেতৃত্ব দিয়েছেন রুবেল হোসেন। আজ সেই কাজটা করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি ও তাসকিন।

আরও পড়ুন  ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি

জয়ের আবহ এক হলেও পূর্বের ম্যাচগুলোর মতো এ ম্যাচে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি ইংল্যান্ড। শুরুতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা নিজেদের উইকেট বিলিয়ে না আসলে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা থাকত বাংলাদেশের। আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।

অ্যাডিলেডের সেঞ্চুরির স্মৃতি বারবার ফিরিয়ে আনছিলেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। কিন্তু ব্যক্তিগত ৭৫ রানে নিজের উইকেট আত্মাহুতি দেন তিনিও। ড্রেসিং রুম থেকে রিভিউ আছে তা জানানোর পর উইকেট বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ৮৮ বলে ৬ বাউন্ডারিতে সাজানো ইনিংস সেখানেই থেমে যায়। এরপর মিরপুর মাতান মাশরাফি। ২৯ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান। এ ইনিংস খেলার পথেই প্রথম ছক্কা মেরে ছ্ক্কার ‘অর্ধশতক’ পূর্ণ করেন মাশরাফি। ১০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ পর একাদশে ফিরে আসা নাসির হোসেনের গুরুত্বপূর্ণ ২৭ রানে লড়াকু সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

বোলিংয়ে শুরুতেই মাশরাফি শো। ভিঞ্চ, রয় ও স্টোককে ফেরালেন ২৬ রানের মধ্যে। মাঝে সাকিব নিলেন তরুণ বেন ডাকেটের উইকেট। ২৬ রানে ৪ উইকেট হারানো ইংল্যান্ড সামান্য ভিত পায় পঞ্চম উইকেটে। বেয়ারস্টো ও বাটলার ৭৯ রান করে ইংলিশদের বিপদের পথ থেকে উদ্ধার করেন।

আরও পড়ুন  ভোগ-এর প্রচ্ছদ মডেল সৌদি রাজকুমারী

ভয়ংকর এ জুটি ভাঙেন তাসকিন। থানা প্রান্ত থেকে প্রথম ২ ওভারে ১৯ রান খরচ করে তাসকিন দুয়োধ্বনি শুনেন। কিন্তু ২৪তম ওভারে প্রান্ত বদল করে সঠিক পথে ডানহাতি এ পেসার। মিডিয়া প্রান্ত থেকে করা তৃতীয় বলে আউট করেন বেয়ারস্টোকে। এক ওভার পর পরপর দুই ওভারে দুই উইকেট। তাসকিনের দ্বিতীয় শিকার বাটলার (৫৭), তৃতীয় ওয়কস (৭)। এরপর ম্যাচে ফিরতে পারেনি সফরকারীরা। ২০৪ রানে শেষ তাদের প্রতিরোধ। শেষ উইকেটে ৪৫ রানের জুটি গড়লেও তা শুধু পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র।

বোলিং মাশরাফি, সাকিব, তাসকিনররা উইকেট নিয়ে ইংরেজ সাম্রাজ্য পতন ঘটিয়েছেন। কিন্তু আড়ালেই থেকে গেছেন নাসির হোসেন। ১০ ওভারে ২৯ রানে নাসির নিয়েছেন ১ উইকেট। পুরো ইনিংসে ডট বল করেছেন ৩৪টি।

প্রথম ম্যাচে তাড়াহুড়ো না করলে আজই সিরিজ জিতে যেত বাংলাদেশ। পূর্ণ হত ঘরের মাঠে টানা সপ্তম সিরিজ জয়ের স্বপ্ন। ৩ ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতা আসল। প্রস্তুত থাকুন চট্টগ্রামবাসি। টাইগাররা আসছে আপনার শহরে। সিরিজ জয়ের উৎসব বন্দরনগরীতেই করবে মাশরাফিবাহিনী।

 

সর্বশেষ সংবাদ