ফরীদ চৌধুরীঃ পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১

ফরীদ চৌধুরীঃ পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রতিচ্ছবি
সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা ফরীদ উদ্দীন চৌধুরী গুরুতর অসুস্থ। ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জামায়াতের দলীয় নেতা কর্মী সহ কানাইঘাট-জকিগঞ্জের মানুষ তাঁর সুস্থতা কামনা করছেন। গত দু’দিন থেকে সোস্যাল মিডিয়ায় ফরীদ উদ্দীন চৌধুরীর সুস্থতা কামনার স্ট্যাটাসে সয়লাম ভার্চুয়াল জগত। প্রভাতবেলা ডেস্ক♦
আটলান্টিকের ওপার থেকে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতিকর্মী সুলায়মান আল মাহমুদ ফরীদ চৌধুরীর অসুস্থতার এই সময়ে তাঁর সুস্থ জীবন নিয়ে লিখেছেন চমৎকারভাবে। প্রভাতবেলা পাঠকদের জন্য কিঞ্চিত সম্পাদনা করে তা উপস্থাপন হলো;
সাবেক এমপি, কানাইঘাট-জকিগঞ্জের মাটি ও মানুষের আপনার চেয়েও আপন যে জন, শাহজালালের পূন্যভূমি সিলেটের কৃতিসন্তান, রাজনীতির জীবন্ত কীংবদন্তী অধ্যক্ষ মাওলানা ফরীদ উদ্দীন চৌধুরী।
মাটি ও মানুষের আপনজন মারা গেলে তার জন্য মন কাঁদে, আঁখি কাঁদে, কাঁদে সকল প্রাণ-বৈচিত্রও। জীবন্ত এক ফরীদ উদ্দীন চৌধুরীর জন্য আজ কাঁদছে কানাইঘাট-জকিগঞ্জের মাটি ও মানুষ, কাঁদছে সিলেটবাসী, কাঁদছে আকাশ-বাতাস। কারণ, তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকাস্থ একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সবাই দোয়ায় শামিল রাখুন, যেনো মহান আল্লাহ তাঁকে পূর্ণ সুস্থতা দান করেন। আমীন!
অধ্যক্ষ মাওলানা ফরীদ উদ্দীন চৌধুরী। সিলেটের রাজনীতির এই জীবন্ত কীংবদন্তী যুগ যুগ ধরে জিইয়ে থাকবেন। শুধু কানাইঘাট-জকিগঞ্জের মানুষজনের মনের মণিকোঠায় নয়; বৃহত্তর সিলেটের এই অবিসংবাদিত নেতা দাগ কেটে আছেন সমগ্র সিলেটবাসীর মাঝে। ফরীদ উদ্দীন চৌধুরী- নামটিই আজ অমর-অক্ষয়-অব্যয়। জীবন্ত এই বীরপুরুষ আজ লাখো তরুণের অশ্রুসিক্ত নয়ন মাঝারে ঠাঁই নিয়েছেন।
কে এই ফরীদ উদ্দীন চৌধুরী? কী তাঁর পরিচয়? জনতার ফরীদ উদ্দীন চৌধুরীর পরিচয় নতুন করে উন্মোচন করার কিছুই নেই। তবুও স্বগোতোক্তি করি, কিছু বলি। অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় থেকে তিনি একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হলেও নির্বাচনের রাজনীতিতে ফরীদ উদ্দীন চৌধুরীর আত্মপ্রকাশ আজ থেকে ৩৫ বছর আগে। তরুণ বয়সে ১৯৮৬ সালে নির্বাচনে হাজির হয়েছিলেন কানাইঘাট-জকিগঞ্জের জনগণের সামনে।
সে যে শুরু, থামেনি আর সে পথপরিক্রমা। ১৯৯১ সালে বিজয়ের কাছাকাছি গিয়েও বিজয়ী হতে পারেননি। বিগত নির্বাচনে যেমন তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন, তাঁকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছিলো ১৯৯৬ সালেও। বিজয়ী হয়েও, রেডিও-টিভিতে ঘোষণার পরও গলে উঠাতে পারেননি বিজয়ের মালা। সেদিন তাঁর বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অব্যাহত ষড়যন্ত্র জনতার ফরীদ উদ্দীন চৌধুরীকে দাবায়ে রাখতে পারেনি। অতীতের গণজোয়ারের ধারাবাহিকতায় ষড়যন্ত্রের সকল জাল ছিন্ন করে ২০০১ সালে সিলেটের এই গর্বিত সন্তান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাঁচটি বছর এমপি হিসেবে জনগণের কাছে ছিলেন সর্বদা। কানাইঘাট-জকিগঞ্জে এই পাঁচ বছরে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়, তা আগের ত্রিশ বছরের চাইতেও বেশি। বুরহান উদ্দীন রাস্তায় গাড়ির চাকা ঘুরানো সহ প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় তাঁর উন্নয়নের হাত সম্প্রসারিত ছিল। জনগণ ও আপনারা স্বাক্ষী-তাঁর উন্নয়নের, সুন্দর আচরণের, তাঁর সততা ও যোগ্যতার এবং একাগ্রতার। ফলে উন্নয়ন আর নিষ্ঠার ফিরিস্তি তুলে ধরার অবকাশ নেই।
২০০৭ থেকে ২০২১, এই ১৪ বছর এমপি ছিলেন না। কিন্তু এক যুগ যেভাবে মানুষের কাছাকাছি থেকেছেন, তাঁর এমপি পদের মেয়াদ শেষের পর যে শিশুটির জন্ম হয়, সেই শিশুটিও চিনে ফরীদ উদ্দীন চৌধুরীকে। ১ বছরের বহু যুবক তার ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকেও চিনেনা, কিন্তু কানাইঘাট-জকিগঞ্জের দুই পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়নের প্রতিটি যুবক ফরীদ উদ্দীন চৌধুরীকে বাই-নেমে চিনে, চিনে চেহারায়। কারণ, তারা এই গুণী মানুষটিকে প্রায় দেখে তাদের এলাকায়। এমপি থাকাকালীন এলাকায় কতটা সময় দিয়েছেন, সেটা না-ই-বা বললাম; কিন্তু এমপি না থাকাকালীন তিনি এলাকায় যত সফর করেছেন, তার হিসেবে যদি রাখা হতো তাহলে সেই সফরের পরিমাণ কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যেতো। সুখে-দুখে, হাসি-কান্নায় যে মানুষটিকে জনগণ তাদের কাছে পেয়েছে, সেই মানুষটি আজ গুরুতর অসুস্থ। ও আল্লাহ, তুমি তো দেখিতেছো মানুষের হৃদয়ের আর্তনাদ। তাঁকে সুস্থ করে দাও।
কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণকারী ফরীদ উদ্দীন চৌধুরী তাঁর প্রায় এই ৭৩ বছরের জীবনে সব সময়ই ছিলেন ক্লিন ও স্বচ্ছ এক মানুষ। সাদা কাপড়ে লাগেনি আজো কোন দাগ সেই শিশুকাল থেকে এই বয়স পর্যন্ত। তাঁর পিতা মাওলানা আব্দুল হক চৌধুরী অনেক বড় মাপের আলেম ছিলেন। তাঁর দাদাও বড় মাপের মানুষ ছিলেন। বংশ পরপম্পরায়ও তিনি ভাল গুণগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করেছেন। এমপি হিসেবে দুর্নীতি করা তো দুরে থাক, তাঁর অজান্তেও কোন অনিয়ম হয়নি। অন্যায়, অসততা ও দুর্নীতির ব্যাপারে তিনি সচেতন ছিলেন। নিজেকে সকল বিতর্কের উর্দ্ধে রেখে নিরসলভাবে মানুষের জন্য কাজ করেছেন।
ফরীদ উদ্দীন চৌধুরী শুধু একজন কিংবদন্তী রাজনীতিবিদই নন, এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান-ই শুধু নন; তিনি একজন উঁচু মাপের মুফাসসিরের কুরআন ও প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, একজন শিক্ষাবিদ ও শিক্ষানুরাগী, বহু মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, নিরহংকার ও অমায়িক ব্যবহারের এক সজ্জন ব্যক্তি। এমন একজন রাহবার কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বেডে। ওগো মাবুদ, তাঁকে তুমি রহম করো।
সুলায়মান আল মাহমুদ, গণমাধ্যম ও সংস্কৃতিকর্মী, ওয়ারেন, মিশিগান, আমেরিকা।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 12
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    12
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ