৪৬-এও অবিবাহিত! বহু প্রত্যাখানের পর তরুণ মডেলের সঙ্গে প্রেম ……

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০

৪৬-এও অবিবাহিত! বহু প্রত্যাখানের পর তরুণ মডেলের সঙ্গে প্রেম ……

আনন্দঝর্ণা ডেস্ক:  মুম্বাইয়ের এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া গীতা কাপুর আজ বলিউডের প্রথম সারির ড্যান্স কোরিওগ্রাফার। ছিল না বলিউডি কানেকশন, ছিল না কোনো খানদানি তকমাও।

নিজের ইচ্ছাশক্তির উপর ভর করেই জুনিয়র আর্টিস্ট থেকে হয়েছেন গীতা মা। তার জীবনে প্রেম এসেছে, ভে’ঙেছেও। কেমন ছিল সেই যাত্রাপথ?

১৯৭৩ সালের ৫ জুলাই গীতার জন্ম। ছোট থেকেই নাচতে ভালোবাসতেন। শিখতেনও নিয়মিত। কিন্তু তথাকথিত নৃত্যশিল্পী হওয়ার ইচ্ছা কোনো দিনই ছিল না।কারণ, বিমানসেবিকা হতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই মতো প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।

কিন্তু ছোটবেলাতেই দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হওয়ায় তিন বার বিমান সেবিকার পরীক্ষা দিয়েও শারীরিক পরীক্ষার সময় বাদ পড়ে যান। এদিকে সংসারের দায়িত্বও বাড়ছিল।

বাধ্য হয়েই মাত্র ১৫ বছর বয়সে গীতা যোগদান করেন বলিউডের বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার ফারাহ খানের নাচের গ্রুপে। কলেজে পড়ার সময়েই গীতার কাছে ছোট ছোট কাজের অফার আসতে থাকে।

নিজেও কাজ করতে শুরু করেন জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে। শ্রীদেবীর ‘খুদা গাওয়া’, অনিল কাপুরের ‘নায়ক’ ছবিতে খুব ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেন তিনি। একইসঙ্গে চলছিল নাচের তালিমও।

ফারাহর সঙ্গে গীতার পরিচয়টাও খানিক অদ্ভুত। ফারাহর গায়ে বলিউডের গন্ধ রয়েছে। গীতার গায়ে নেই। তা সত্ত্বেও তাদের আলাপ হল কী করে? সে এক মজার কাণ্ড। ফারাহর নাচ দেখে গীতার বাবা একদিন মেয়ের সামনেই প্রশংসায় ফেটে পড়েন।

ভীষণ রেগে যান গীতা। মনে মনে হিংসfও হয়। বাবা অন্য কোনও মেয়ের নাচ তার থেকে ভালো বলবে, তা কী করে হয়? এর কিছু দিন পরেই গীতার কাছে একটি অনুষ্ঠানে নাচের প্রস্তাব আসে।

জানা যায়, ওই অনুষ্ঠানে যার মূলত নাচ করার কথা ছিল, তিনি হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়ায় গীতার ডাক পড়ে। গীতাও মন-প্রাণ ঢেলে দেন সেই শোতে। তার বাবাও মেয়ের নাচ দেখে মুগ্ধ। এমনকি যে শিল্পীর আদপে সেই অনুষ্ঠানটি করার কথা ছিল তিনিও গীতাকে অভিবাদন জানান।

সেই শিল্পী আর কেউ নন, ফারাহ খান। নাচ দেখে তিনি নিজেই গীতাকে তার দলে যোগ দেয়ার প্রস্তাব দেন। গীতাও পুরনো হিংসা ভুলে যোগ দেন সেখানে। ফারাহর জন্যই ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবির ‘তুঝে ইয়াদ না মেরি আয়ি’ গানটি কোরিওগ্রাফ করার সুযোগ পান গীতা। নিজে অভিনয়ও করেন।

এরপর দিল সে ছবির ‘ছাঁইয়া ছাঁইয়া’-সহ আরও বেশ কিছু ছবিতে কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন তিনি। বাড়তে থাকে পরিচিতও। কিন্তু ফারাহর দলের অংশ হয়ে কাজ করা আর বেশিদিন ভালো লাগছিল না তার। গীতা চাইছিলেন বলিউডে নিজের পরিচয় তৈরি করতে। যেমন ভাবা সেই কাজ। গীতা বেরিয়ে আসেন ফারাহর গ্রুপ থেকে। কিন্তু এটা বলিউড। এখানে শুধু মাত্র গুণ থাকলেই হয় না। একই সঙ্গে দরকার নেটওয়ার্কিং, যা গীতার ছিল না। ফলে ব্যর্থ হয়ে তিনি আবার ফিরে আসেন ফারাহর কাছেই।

ফারাহও তাকে ফেরাননি। কাছে টেনে আবার কাজ দিতে শুরু করেন। এদিকে ফারাহ সিনেমা পরিচালনার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লে তার নাচের গ্রুপের অনেকটা দায়িত্বই গীতার কাঁধে এসে পড়ে। এর পর আর থামেননি গীতা। ‘ম্যায় হু না’, ‘থোড়া প্যায়ার থোড়া ম্যাজিক’, ‘হে বেবি’-সহ বিখ্যাত প্রযোজনা সংস্থাগুলোর ছবির ড্যান্স কোরিওগ্রাফ করার দায়িত্ব তখন তার উপর। পরিচিত বাড়তে থাকে ক্রমশ।

এরই মধ্যে ফারাহর ভাই সাজিদ খান প্রেমের প্রস্তাব দেন গীতাকে। কিন্তু গীতা তা ফিরিয়ে দেন। শুধু সাজিদ খানই নন, ইন্ডাস্ট্রির অনেক নামি দামি পরিচালক, অভিনেতাও তাকে বিয়ে করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। কিন্তু সেখানেও সটান না বলে দেন গীতা। তিনি চেয়েছিলেন নিজের কেরিয়ার সাজাতে, আরও পোক্ত করতে।

টাকা পয়সার অভাব কাটিয়ে উঠছিলেন, ইন্ডাস্ট্রির মানুষজনও তাকে ক্রমশ চিনতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ? নায়ক-নায়িকাদের নাচের পেছনে যে আরও বেশ কিছু মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম থাকে সেই কনসেপ্টটাই তো অজানা ছিল সে সময়। ঠিক এই সময়েই গীতার জীবনে আশীর্বাদের মতো আসে রিয়ালিটি শো ‘ডান্স ইন্ডিয়া ডান্স’-এ বিচারকের আসন। গীতাও রাজি হয়ে যান। ছোট পর্দার মাধ্যমেই জায়গা করে নেন দর্শকের বসার ঘরে।

এই সময়েই শোনা যায়, গীতা নাকি প্রেম করছেন। কিন্তু কার সঙ্গে? উঠতি মডেল এবং কোরিওগ্রাফার রাজীব। যদিও সে কথা গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দেন গীতা। বলেন তারা বন্ধু। একসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় হাজির হলেও কখনও এই সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি। গীতার বয়স ৪৬। তিনি আজও অবিবাহিত। বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই বলেন, এখনও সময় আসেনি।

কিন্তু তা সত্বেও গীতা মা হয়ে গেলেন কী করে? গীতার নাচের অ্যাকাডেমিতে এক ছাত্র, নাম ফিরোজ। তিনিই প্রথম তাকে মা বলে ডাকতে শুরু করেন। যেভাবে পরম মায়ায় কাজ শেখাতেন গীতা, তা যেন একেবারে মায়ের মতোই। ব্যস সেখান থেকেই শুরু। রিয়ালিটির শো’র মঞ্চ হোক বা সাধারণ জনগণ, সবার কাছেই আজ তিনি ‘গীতা মা’। আকাশ ছুঁতে চেয়েছিলেন গীতা, ছুঁলেনও। তবে বিমানসেবিকা হয়ে নয়, নাচের মধ্য দিয়ে পৌঁছে গেলেন উন্নতির শিখরে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ