বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশীর বর্ণনায় লিবিয়ার নৃশংস হত্যাকান্ড

প্রকাশিত: ২:১৯ পূর্বাহ্ণ, মে ৩০, ২০২০

বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশীর বর্ণনায় লিবিয়ার নৃশংস হত্যাকান্ড

বিশ্বভূবন ডেস্ক: লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে গু’লি করে হ’ত্যার সময় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান একজন। নৃ’শংস এই হ’ত্যাকাণ্ডের সাক্ষী ঐ বাংলাদেশি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

ত্রিপলীস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে তিনি জানান, লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাতে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলের অবস্থান ত্রিপলী থেকে ১৮০ কি.মি. দক্ষিণে।

ঐ বাংলাদেশির ভাষ্য, ১৫ দিন আগে লিবিয়ার বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে ত্রিপলিতে নেওয়া হচ্ছিল ৩৮ বাংলাদেশিকে। পথেই তাদের মুক্তিপণ আদায়ের জন্য জি’ম্মি করে মানব পা’চারকারীরা। মিজদা শহরে নেওয়ার পর তাদের ওপর শুরু হয় নি’র্যাতন।

নি’র্যাতন যখন কঠিন পর্যায়ে চলে যায়, তখন বাধা দেন অপহৃত ব্যক্তিরা। একপর্যায়ে অপহৃত ব্যক্তিরা মূল মানব পা’চারকারীর লিবিয়ান ব্যক্তিকে হ’ত্যা করেন।

এ ঘটনার খবর চলে যায় ওই নি’হত পাচারকারীর স্বজনদের কাছে। তারাসহ অন্য দু’ষ্কৃতিকারীরা জি’ম্মিদের উপর এলোপাতাড়ি গু’লিবর্ষণ শুরু করে। এতে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জন অভিবাসী ঘটনাস্থলেই নি’হত হন।

আরও পড়ুন  ইংলিশদের সাথে ইন্ডিয়ানদের এ কেমন আচরণ?

বেঁচে যাওয়া ঐ বাংলাদেশি বর্তমানে একজন হৃদয়বান লিবিয়ানের আশ্রয়ে আ’ত্মগোপন করে আছেন। এ বিষয়ে ত্রিপলীস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছে।

দূতাবাস জানায়, নি’হত ২৬ বাংলাদেশির লাশ মিজদাহ হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে। আ’হত বাকি ১১ বাংলাদেশির হাত-পায়ে ও বুকে-পিঠে গু’লি লেগেছে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সমর্থিত লিবিয়ার জাতীয় সরকার (জিএনএ) জানিয়েছে, মিজদা শহরে ২৬ বাংলাদেশি এবং চারজন আফ্রিকান অভিবাসী মা’রা গেছেন। আ’হত হয়েছেন ১১ জন।

তুরস্ক সরকার সমর্থিত সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহার খবরে বলা হয়, এক পা’চারকারী পরিবার প্রতিশোধ নিতে এই হ’ত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। ঐ পা’চারকারী আগেই মা’রা গেছে। সেই মৃ’ত্যুর দায় এই অভিবাসীদের ওপর চাপিয়েছে তার স্বজনরা। ফলে তাদের হ’ত্যা করা হয়।
তেল নির্ভর অর্থনীতির দেশ লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের গন্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের সন্ধানে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ থেকেই তরুণেরা অবৈধ পথে দেশটিতে পাড়ি জমায়। এদের মধ্যে বেশির ভাগের চেষ্টা থাকে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ