অটুট থাকছে জামায়াত বিএনপি জোটের সম্পর্ক

প্রকাশিত: ৩:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৬

অটুট থাকছে জামায়াত বিএনপি জোটের সম্পর্ক
জামায়াত – বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সম্পর্ক অটুট থাকছে। এই মুহুর্তে জামায়াত ছাড়ার যৌক্তিক কারণ দেখছে না বিএনপি।দুই যুগের  বিশ্বস্থ রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতকে সঙ্গে রাখার সিদ্ধান্তে অটুট রয়েছে  বিএনপি।সূত্রমতে, ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীর প্রস্তাব ও পরামর্শ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার কাছে কোন গুরুত্ব পায়নি। কারণ এরা সবাই জনসমর্থনহীন ও সাংগঠনিক ভিত্তিহীন।

 

সূত্রমতে, জাতীয় ঐক্য নিয়ে আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের জামায়াত ছাড়ার শর্ত, বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষি ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীর খোলা চিঠি, জোট শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের হঠাৎ সংবাদ সম্মেলনে মধ্যবর্তী নির্বাচন দাবি চিন্তায় ফেলে দেয় বিএনপিকে।

 

বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য ১৮ ও ২১ আগস্ট যথাক্রমে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। সেখানে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সম্পর্ক কী হবে- তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

আলোচনার এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন- জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট থাকছে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের। বিভিন্ন মহল ও শুভাকাঙ্ক্ষিদের অনুরোধ, পরামর্শ ও উপদেশ উপেক্ষা করে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে গত এক সপ্তাহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা হয় ।

 

আলাপকালে বেশিরভাগ নেতা জানান, এই মুহূর্তে জামায়াত ছাড়ার যৌক্তিক কোনো কারণ তারা দেখছেন না। বরং ২০ দলীয় জোটের অখণ্ডতা বজায় রেখে সামনের দিনগুলোতে সরকারবিরোধী শক্ত অবস্থান গড়ে তোলা-ই বিএনপির বড় লক্ষ্য।

 

আরও পড়ুন  সন্ধ্যায় বৈঠকে বসছে বিএনপি'র স্থায়ী কমিটি

আর এই লক্ষ্য অর্জনে জামায়াতের জনসমর্থন, অর্থিক ও সাংগঠনিক শক্তি, আন্তর্জাতিক লবিং, আনুগত্য, রাজপথের আন্দোলনে পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বিএনপি।

 

সূত্রমতে, ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীর প্রস্তাব ও পরামর্শ ভেবে দেখার জন্য বিএনপির প্রগতিশীল অংশ দলটির হাইকমান্ডকে অনুরোধ করেন। জামায়াত ছাড়লে বিএনপির কী কী ‘উপকার’ হবে- সে বিষয়গুলো বোঝানোর চেষ্টা করেন।

 

কিন্তু বিএনপির মুল নীতি নির্ধারকরা  খালেদা জিয়াকে বোঝাতে সক্ষম হন- জামায়াত হচ্ছে সাংগঠনিক মজবুত ভিত্তিসম্পন্ন দল। দলীয় শৃংখলা, অভিজ্ঞতা এবং ইসলাম পন্থী জনমত বিএনপির প্রয়োজন।

 

তাছাড়া যাদেরকে জোটে ভেড়ানোর জন্য জামায়াত ছাড়ার কথা বলা হচ্ছে, সেই আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, আ স ম আব্দুর রবের জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল (জে এস ডি), ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, ডা. একিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারা, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সিপিবি ও খালেকুজ্জামানের বাসদ মিলেও জামায়াতের জামায়াতের এক  জেলার জনশক্তির চেয়েও কম।।

 

এ দলগুলোর জনসমর্থন ও সাংগঠনিক শক্তি একখানে করলে জামায়াতের চার ভাগের একভাগও হবে না। সর্বপরি দল পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন-তাও নেই ওইসব রাজনৈতিক দলের।

আরও পড়ুন  সিলেট -৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী  আতিকুর রহমান আতিক

 

অধিকন্তু, জামায়াত ছাড়লেই আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, আ স ম আব্দুর রব, ড. কামাল হোসেন, ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করতে আসবেন-এমন প্রতিশ্রুতিও মেলেনি তাদের কাছ থেকে।

 

বরং নাগরিক ঐক্য’র আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা সুলতান মো. মনসুর, সিপিবির মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের খালেকুজ্জামান, গণফোরামের ড. কামাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আব্দুল কাদের সিদ্দিকীকে নিয়ে আলাদা একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের চেষ্টা দীর্ঘ দিন ধরেই করে যাচ্ছেন আ স ম আব্দুর রব।

 

গুলশানে জঙ্গি হামলার পর এই ঐক্য প্রচেষ্টার পালে হাওয়া লাগানোর চেষ্টা করেন তিনি। ওই সময়  তিনি বলেছিলেন- জাতীয় ঐক্য’র ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো কথা বিএনপিকে দিইনি। বরং নিজেরাই আলাদা একটা জোট গঠনের চেষ্টা করছি।

 

বিএনপি নেতারা বলছেন- যারা জামায়াত ছাড়ার কথা বলছেন, তারা কেউ বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্য’র ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। অতীতে তাদের সঙ্গে বিএনপির কোনো ঐক্যও হয়নি। সুতরাং তাদের ভরসায় দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতকে ত্যাগ করা ঠিক হবে না।

 

এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিভক্তির রেখা টেনে জাতীয় ঐক্য হয় না। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট আন্দোলন ও নির্বাচনের। সেটা থেকে সরে আসার যৌক্তিক কোনো কারণ দেখছি না।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ