‘আতিয়ামহল’ ঘিরে কি ঘটছে?

প্রকাশিত: ১:২৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০১৭

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক, শিববাড়ী থেকে: 

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি পাঠানপাড়ায় জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহল’ মহল ঘিরে কী ঘটছে, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী দেয়া সর্বশেষ তথ্যেই বা কী জানা যাচ্ছে? এসব বিষয়ে সিলেট নগর ও শহরতলীজুড়ে চলছে নানা জল্পনা। সমালোচকরা বলছেন সবই ‘নাটক” রাত সাড়ে ১টা পর্যন্ত দীর্ঘ ২২ ঘন্টা ধরে ‘আতিয়া মহল’ ঘিরে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী ‘জঙ্গিবিরোধী’ অভিযান চালাচ্ছে।

 

রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ভিতরে রয়েছেন ভবনটির সাধারণ বাসিন্দাসহ জঙ্গিরা। গত বৃহস্পতিবার রাত ৩ টা থেকে শুক্রবার দিবাগত সাড়ে ১২ৎ টা পর্যন্ত ২২ ঘন্টার বেশি সময় ধরে চলছে এই অভিযান। সেটি কখন শেষ হবে তাও জানা যাচ্ছে না। শেষ খবরে জানা যাচ্ছে পাশের একটি ভবন থেকে আতিয়া মহলের সামনের দিকে খালি অংশ আলোকিত করা হয়েছে। এখনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর

 

এদিকে বাড়ি ঘিরে অবস্থান নিয়েছে পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াত সদস্যরা, আছে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। ঘটনাস্থলে বিকেলে আনা দুটি অ্যাম্বুলেন্স সন্ধ্যার দিকে ফিরে গেলেও রাত সাড়ে ১০টা দিকে আবার ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স এসেছে।

অভিযানে সেনা সদস্যরা অংশ নেবেন কিনা এ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু বলে নি। তবে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বলেছেন, সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে এসে জঙ্গি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

 

এদিকে পুলিশ ধারণা করছে, ভেতরে জঙ্গিদের কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরক থাকতে পারে। এছাড়া ভবনের ২৮ পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবেও চূড়ান্ত অভিযানে দেরী করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকের প্রাণের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই এগুচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

আরও পড়ুন  সিলেটের সংবাদপত্র হকার্সদের মাঝে বিএনপি নেতা এমদাদ চৌধুরীর ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ

তবে মধ্যরাতে না ভোরের দিকে চূড়ান্ত অভিযান চালানো হবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায় নি। ভোরের দিকে চূড়ান্ত অভিযান শুরু হতে পারে বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ভেতরে সন্দেহভাজন কক্ষ থেকে সন্ধ্যা পর থেকে আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

এখন উৎসুক জনতাও ঘটনাস্থল থেকে সরে গেছেন। সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছাড়া তেমন কেউ নেই ঘটনাস্থলের আশপাশে।

 

এদিকে, ভেতরে জঙ্গিদের মধ্যে মর্জিনা নামের এক নারী রয়েছেন। আর তার সঙ্গে আরো একাধিক পুরুষ জঙ্গি রয়েছেন বলে ধারণা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। ফ্রিজের কমপ্রেসর ব্যবহার করে শক্তিশালী বোমা তৈরি করে রাখতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এ অভিযানে অংশ নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

 

এর আড়ে, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় পৌঁছান পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াট সদস্যরা।পরে তারা বিকেল ৫টার দিকে ভেতরের দিকে প্রবেশ করলেও কিছুক্ষণ পর পিছু হটে।

 

এর আগে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে ‘আতিয়া মহল’ নামের পাঁচতলা বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। বাড়ির নিচতলার ফ্ল্যাটে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা অবস্থান করছে বলে ধারণা পুলিশের।

আরও পড়ুন  হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়ে

 

এদিকে সারাদিন ধরেই ভবনটি ঘিরে চলে নানা নাটকীয় ঘটনা। সোয়া টিম আসায় এখন অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা করছে পুলিশ। বেলা আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ১০ বারের বেশি পুলিশের ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা গেছে।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলে প্রথমে জঙ্গিরা সোয়াত আসলে আত্মসমর্পণের কথা বললেও পরবর্তীতে আর সাড়া দেয় নি।

 

ঢাকা-চট্টগ্রামের ওই অভিযানের পর আটক জঙ্গিদের দেওয়া তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শিববাড়ি এলাকার পাঁচতলা বাড়িটি ঘিরে রাখেন সিলেটের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ ঢাকা থেকে আসা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা।

 

এরপর ওই বাড়ির মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন তারা। আজ ভোরে ভেতরে থাকা জঙ্গিরা গ্রেনেড চার্জ করে বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়। পুলিশও কয়েক দফা গুলি ছোড়ে।

 

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার পাঠানপাড়া সড়কের পাশে অবস্থিত পাঁচতলা ও চারতলাবিশিষ্ট দুটি ভবনের নাম আতিয়া মহল। সিলেট নগরীর আতিয়া ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির বান্দরঘাটের (বন্দরঘাট) বাসিন্দা উস্তার মিয়া। গত জানুয়ারি মাসে প্রাণ কোম্পানির অডিট অফিসার পরিচয়ে কাওসার আহমদ ও মর্জিনা বেগম ওই বাড়ি ভাড়া নেন বলে জানিয়েছেন বাড়ির মালিক।

সর্বশেষ সংবাদ