‘কলি’ না ফুটতেই এত গন্ধ !

প্রকাশিত: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

‘কলি’ না ফুটতেই এত গন্ধ !

কবীর আহমদ সোহেল:

‘‘ রোগ নিয়ে লজ্জা নয়। গোপনীয়তা বজায় রাখবেন ঠিক কিন্তু একজন ডাক্তার এর সান্নিধ্যে যেয়ে তার সামাধান করাই শ্রেয়। তাতে করে আপনি সুস্থতা ফিরে পাবেন ? অনেকেই এই সব সমস্যার কারনে আত্মহত্যাও করতে প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। so I say u should do not it.
এই সব ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে ওষুধ সেবন করেন ।

 

আজকের আলোচনায় যৌন সমস্যা সমাধান।

যৌন সমস্যায় ভুগছেন? আপনি কি জানেন,, সমস্যা হতেই পাওে বসে না থেকে সুন্দর সমাধান দিয়ে আপনি আপনার দাম্পত্য জীবন সুখী রাখতে পারেন।।
পুরুষত্বহীনতা যা পুরুষের শারীরিক অক্ষমতা বা দুর্বলতাকে বুঝায়। যা সমাজে প্রকট আকার ধারন করেছে। এতে উঠিতি বয়সের যুবকরা হতাশ। এ সমস্যা যে কোন বয়সেই হতে পারে, সে ক্ষেএে লজ্জা, অবহেলা, আজ কাল, না করে জটিল হওয়ার পূর্বেই দ্রুত চিকিৎসা নেয়া আবশ্যক।

কারণঃ অতিরিক্ত কু-অভ্যাস ( হস্তমৈথুন, পর্নছবি,) যৌনবাহিত রোগ( সিফিলিস, গনোরিয়া).রক্তে সেক্স-হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, ডায়াবেটিস, দুশ্চিন্তা,টেনশন, অবসাদ, ও অ-পুষ্টি, যৌনরোগ বাএইডস ভীতি, সেক্স-এডুকেশের অভাব, বয়সের পার্থক্য, পার্টনারকে অপছন্দ(দেহ-সৌষ্ঠব,ত্বক, মূখশ্রী,আচরন, ব্যক্তিত্ব),নারীর ত্রুটিপূর্ণ যৌনাসন, মানসিক ও শারীরিক সম্যসা।

 

অনেকই হাতুড়ে ডাক্তার, ক্যানভাসারের নিকট থেকে হরমোন ইঞ্জেকশন, ট্যাবলেট, অনুমোদনহীন ক্ষতিকর ঔষধ সেবন করে, এর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ায় পুরুষত্বহীনর আশংকা অনেক বেশী যা থেকে আরোগ্য কঠিন।যৌন সমস্যার মধ্যে আরো রয়েছে স্বপ্নদোষ সমস্যা, লিঙ্গ অকেজো, ক্ষুদ্রাকৃতি, লিঙ্গের অসারতা, ইচ্ছা লোপ, বিবাহ ভীতি। এসব সমস্যায় ‘হোমিওপ্যাথি’ বেশ কার্যকরভাবে কাজ করে। এর কোনো বিরূপ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও নেই। লজ্জা ও জড়তা ঝেড়ে ফেলে খোলা মনে ডাঃ এর সাথে আলাপ করুন। এ সমস্যা খুবই সাধারণ এবং এর সফল চিকিৎসাও রয়েছে।

 

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা: হোমিও ঔষধ পুরুষত্বহীনতা বা যৌনরোগের সহজ এবং স্বল্প খরচে কোন রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন পাকৃতিক ভাবে শতভাগ আরোগ্য করে, অন্যদিকে মহিলাদেরও যৌন দুরবলতা, যৌনকর্মে অনীহা ইত্যাদি থাকতে পারে এবং হোমিওপ্যাথিতে তারও চমৎকার চিকিৎসা আছে।

আরও পড়ুন  এইচএসসির ফল প্রকাশে সংসদে বিল পাস

 

এই রোগের জন্য হোমিওপ্যাথিক Best medicine । so i say take treatment homeopathic medicine and get Magic result .

 

ডাঃটিকলি রায় কলি, প্রভাষকঃ জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, সিলেট ”

 

এই অশ্লীল কথামালা একজন চিকিৎসকের ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া। যৌন সুড়সুড়ি মার্কা কথা দিয়ে রোগী টানবার কৌশল। অথচ দেশের প্রচলিত আইনে চটকদার বিজ্ঞাপন ও যৌন সুড়সুড়ি মার্কা কোন প্রচার নিষিদ্ধ। কিন্তু এই চিকিৎসক তা করছেন। মানুষের গোপন দুর্বলতা ও আবেগকে ব্যবহার কওে হেনস্থা করছেন এমন অভিযোগ ভুক্তভোগি অনেকের। চটকদার এসব কথায় আবেগতাড়িত হয়ে বহু যুবক তার কাছে গিয়ে সর্বসান্ত হয়েছেন। ঔষধের নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ডা. কলি। ফলাফল থাকে শূণ্য। তখন কলিকে কিছু বল্লে তিনি অন্যরুপ ধারণ করেন। লোকলজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগিরা তখন না পারে বলতে, না পারে সইতে।

কলি তার নাম নিয়েও খেলছেন ভানুমতির খেল। কখনো টিকলি রায় কলি। কখনো কলি রায় টিকলি। ২০১৯ সালের জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল শীটে তার নাম ডা. কলি রায়। পিতা গোপেশ রঞ্জন রায়, মাতা শিখা রানী রায়। স্বপ্নীল-৫৭, ইউনিট-৮, মীর্জাজাঙ্গাল, সিলেট তার ঠিকানা। তাহলে একেক জায়গায় একেক নাম কেন? রহস্যজনক ভাবে তার নামের ব্যবহার খোদ হোমিও চিকিৎসকমহলের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। পদবীতেও তার প্রতারণা। প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি প্রভাষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও তার ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেন, প্রফেসর, জালালাবাদ হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। বিজনেস কার্ডে লিখা মেডিসন বিশেষজ্ঞ। অথচ হোমিও চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ বলে কোন কিছু নেই।

 

ইংরেজীতে ভুল বানানে লেখা কলির এমন পদবী ব্যবহারের পেছনে অসৎ উদ্যেশ্য রয়েছে। মনে করেন সচেতন মহল।

জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ২০১৯ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। বিতর্কিত এই পরীক্ষায়ই নিয়োগ পান কলি রায় সহ তিনজন। অভিযোগ রয়েছে ঐ পরীক্ষার প্রবেশপত্রে কোন রোল নাম্বার ছিল না। ছিলনা কোন আসন বিন্যাস। কলিসহ পছন্দেও পরীক্ষাথীদের বিশেষ স্থানে বসিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়। পরীক্ষার পূর্বরাত্রে পরীক্ষাবোর্ডেও একজন সদস্য কলিকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে নিয়োগের আশ্বাস দেন এমন অভিযোগও রয়েছে। ৫ এপ্রিল ২০১৯ সালে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রভাষক পদের জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় কমপক্ষে ৩ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। অথচ কলি রায় ২০১৭ সালে ডিএইচএমএস পাশ করেন। অর্থাৎ দেড় বছরের মাথায় নিয়োগ পেয়ে যান এই ভাগ্যবতী তরুণী। নিয়োগ বোর্ডের দু’জন সদস্যের সাথে বিশেষ সম্পর্কেও সুবাদেই কলি’র ভাগ্যে ফুল ফটে এমন সুর ও কথায় মুখর সিলেটের হোমিও অঙ্গন।

আরও পড়ুন  আলিম দার অনন্য কীর্তির কর্ণধার

 

জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ২০১৯ সালের নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম ও ডা. কলি রায় এর যথেচ্ছাচার নিয়ে ডা. বুশরাতুত তানিয়া সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দফায় দফায় অভিযোগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি করে দিয়েছেন। কিন্তু কলি রায় এর অসম্ভব কারিশমায় তদন্ত রিপোর্টও বদলে যায়। জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন ছাত্রকল্যাণ পরিষদ অভিযোগ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মষুচী পালন করে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ এসব অনিয়ম ও কলি’র যথেচ্ছাচার চিকিৎসা নীতি বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রীট করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে ডা. কলি রায় প্রভাতবেলা’কে জানান, তিনি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। কোন অনিয়ম হলে সেটা ‘স্যাররা জানেন। যৌন সুড়সুড়িমুলক প্রচারণা বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ২০১৯ সালের নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম ও ডা. কলি রায় এর যথেচ্ছাচার বিষয়ে প্রবীন ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রভাতবেলাকে বলেন, এ লক্ষণ ভালো নয়। তারা বলেন, কলি না ফুটতেই এত গন্ধ? এটা তো সুগন্ধ নয়।

 

প্রভাতবেলা/এমএ

সর্বশেষ সংবাদ