গত নির্বাচনে ফাঁকা মাঠে গোল করা হয়েছে : সাবেক সিইসি

প্রকাশিত: ১:১৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৭

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক : “ইটস আ পলিটিক্যাল গেইম। পলিটিক্সে আপনি যদি নির্বাচনে না নামেন, লোক তো ফাঁকা মাঠে গোল করেই যাবে।” নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সাফল্যের সঙ্গে মেয়াদ শেষ করার দাবি জাতির সামনে রেখে বিদায় নিতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ গত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বর্জনের বিষয়ে ইংগিত করে এসব কথা বললেন।
৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাচন ভবনে শেষ দিন অফিস করে সঙ্গী নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী ও মো. শাহনেওয়াজকে নিয়ে হাসিমুখে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে শেষ ব্রিফিংয়ে আসেন সিইসি কাজী রকিব। এ সময় এক পাশে রাখেন ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমানকে। পরে ব্রিফিংয়ে যোগ দেন নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ; তবে নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক উপস্থিত ছিলেন না।
কাজী রকিব বলেন, “শপথ নেওয়ার পরই আমি বলেছিলাম কাজে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করব। ৫ বছর মেয়াদে আমরা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি এবং তা সফলভাবে অতিক্রম করেছি। শেষে এসে বলতে পারি- আমরা জাতির সামনে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করেছি।”
জানা গেছে, বিদায়ী কমিশনের সিইসি কাজী রকিবের সঙ্গে তিন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, আবু হাফিজ ও জাবেদ আলীর পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হল বুধবার। আর নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ ১৪ ফেব্রুয়ারি তার মেয়াদ শেষ করবেন।
অর্থাৎ, নূরুল হুদার কমিশন অফিস শুরুর আগে এক সপ্তাহের জন্য দেশে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকবেন কেবল একজন। সিইসির অনুপস্থিতিতে তিনিই আপাতত ভারপ্রাপ্ত সিইসির দায়িত্ব পালন করবেন বলে ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, কাজী রকিবের এই কমিশন ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের পুরো মেয়াদই কেটেছে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও বৈরি পরিবেশের মধ্যে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সাড়ে সাত হাজার ভোট হয়েছে এই কমিশনের অধীনে, যার বেশিরভাগই সহিংসতা ও ব্যাপক কারচুপির কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
দশম সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা হয়, কেবল ভোটের দিনই নিহত হন অন্তত ২১ জন। ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ডও হয় সেই নির্বাচনে । মেয়াদের শুরুতে চার সিটি করপোরেশন ও শেষে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন ছাড়া এ কমিশনের অধীনে হওয়া উপজেলা, পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনগুলো গোলযোগ-সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগের কারণে পর্যবেক্ষকদের কাছে খুব বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ