জুড়ীতে পৈশাচিক বর্বরতা, ২হাজার মোরগ পুড়িয়ে হত্যা

প্রকাশিত: ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ২, ২০২০

জুড়ীতে পৈশাচিক বর্বরতা, ২হাজার মোরগ পুড়িয়ে হত্যা

এম রাজু আহমেদ, জুড়ী: এ কেমন বর্বরতা? এ কেমন আমনবিকতা! নিরীহ প্রাণী পুড়িয়ে হত্যা করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা? আমনবিক পৈশাচিক এ কান্ডটি ঘটেছে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায়। গত রোববার (৩১ মে)   উপজেলার আমতৈল গ্রামের “বন্ধু পোল্ট্রি ফার্ম”  এ ঘটনাটি ঘটে।খামার মালিক দিনবন্ধু বলছেন প্রভাবশালী উপজেলা চেয়ারম্যান মোঈদ ফারুক ও রাধা কান্ত এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

অভিযুক্ত মোঈদ ফারুক ও রাধা কান্ত বলছেন,খামারে বড় অংকের ব্যাংক ঋণ রয়েছে। আমাদেরকে ফাঁসানোর জন্য এসব নিরীহ জ্যান্ত মোরগ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।  এটা সাঁজানো ঘটনা।

পুলিশ বলছে,তালাবদ্ধ খামারে আগুন জ্বলছে। মালিক পাশে দাড়িয়ে দেখছে। চাবি চাইলে গড়িমসি করে দেয়া হয়নি। কয়েক বালতি পানি দিলেই তা নেভানো যেত।

সচেতন মহল বলছেন, খামার মালিক ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষকে গ্রেফতার কিরে রিমান্ডে নেয়া উচিত। তাহলেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

খামার মালিক দিনবন্ধু সেন জানান, রাত ৩টার দিকে প্রতিবেশী একজন আমাকে ডাক দিয়ে খামারে আগুন জ্বলছে বলে জানায়। আমি সাথে সাথে সেখানে গিয়ে দেখি খামারে দাউ-দাউ করে আগুন জ্বলছে। পুড়ে গেছে অধিকাংশ জীবন্ত মোরগ। বিষয়টি জুড়ী থানা পুলিশকে জানালে, থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফায়ারসার্ভিসকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফায়ারসার্ভিস এসে আগুন নেভায়। এ খামার নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ আদালতে আমাদের উভয় পক্ষের মামলা চলছে।

আরও পড়ুন  ওসমানী মেডিকেল কলেজে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ

তিনি আরো জানান, মামলা চলাকালীন অবস্থায় গত ১ মে রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলা পরিষদ এর চেয়ারম্যান এম এ মোঈদ ফারুক ও রাধা কান্ত দাসসহ যারা হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছিলো, তাঁরাই এ কাজটি করেছে।

দিনবন্ধুর ভাষ্যমতে, এ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে  খামারের প্রায় ২ হাজার মোরগী, ৩৫ বস্তা খাদ্য, প্রচুর ডিম। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার ক্ষতি ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের রাধা কান্ত দাস বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, যারজন্যে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। যদি আগুনে পুড়িয়ে খামার পুড়ানোর মনোভাব আমাদের থাকতো, তাহলে খামারের দুর্গন্ধে আমরা ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ২বছর থেকে আদালত ও সংবাদ মাধ্যমের দ্বারে-দ্বারে না ঘুরে অনেক আগেই সেটা পুড়িয়ে অথবা বিভিন্ন ভাবে উচ্ছেদ করে দিতে পারতাম।  আমাদেরকে ফাঁসানোর জন্য এসব নিরীহ জ্যান্ত মোরগগুলোকে পুড়িয়ে হত্যা করে এ ষড়যন্ত্রটি করা হয়েছে।

অপর অভিযুক্ত উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মোঈদ ফারুক বলেন, খামারে বড় অংকের ব্যাংক ঋণ রয়েছে। ঘটনাটি তাদের সাঁজানো।

আরও পড়ুন  পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনে দুদকের অভিযান

জুড়ী থানা পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার খবর পেয়ে সাথে সাথে তাঁরা সেখানে উপস্থিন হন। গিয়ে দেখেন, খামারের দরজা তালাবদ্ধ, পাশে দাঁড়িয়ে আছেন খামার মালিক দীনবন্ধু সেন। অল্প অংশে আগুন জ্বলছে, যা কয়েক বালতি পানি দিলে আগুনটি নেভানো সম্ভব। এমতাবস্থায়, আগুন নেভানোর জন্য পুলিশ দীনবন্ধুর কাছে তালার চাবি চাইলে, দীনবন্ধু সেন বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে চাবিটি দেননি। চাবি না পেয়ে যতটুকু সম্ভব পুলিশ আগুন নেভায়।

পরে ফায়ারসার্ভিস এসে আগুনটি নিয়ন্ত্রণে আনে। জুড়ী থানার ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ সংবাদ