থমকে গেছে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ অভিযান

প্রকাশিত: ২:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৬

আহমদ মারুফ

সিলেট নগরীতে ৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙ্গার কাজ থমকে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো রক্ষায় লোক-দেখানো মার্কেটের সিঁড়ি ও সামনের অংশ মেরামত কাজ করছেন মার্কেট মালিকরা। অভিযোগ রয়েছে, ভবন অপসারণ ঠেকাতে এসব চক্রের সদস্যরা সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের টাকায় বশীভুত করেছেন। এবং তাদের পরামর্শেই এমন লোক দেখানো সংস্কার কাজ চলছে। ফলে নগরীতে ৩২টি ভবন ভাঙ্গার অভিযান এখন হিমাগারে।
সিসিক সূত্রে জানা গেছে, সিসিকের তাঁতিপাড়া ও সিটি সুপার মার্কেট অপসারণ অভিযান শুরুর পর থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটের তালিকার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সিটি করপোরেশনে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেন। তারা তাদের মার্কেট না ভাঙ্গতে সিসিকের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করার মিশনে নামেন। প্রথমে তাদের মার্কেট ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে দাবি করা হয়। সিসিক কর্তৃপক্ষ হার্ডলাইনে থাকলেও কতিপয় কর্মকর্তা ম্যানেজ লাইনে চলে আসেন। তালিকাভুক্ত মার্কেটগুলো রক্ষায় শুরু হয় গোপন লেনদেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব মার্কেট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সিসিকের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিনিময়ে অপসারণের তালিকাভুক্ত মার্কেটগুলো রক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আর বন্ধ হয়ে যায় সিসিকের অভিযান। তারপরই ওই সব মার্কেটের সিঁড়ি, দেয়াল ও সামনের অংশ শুরু হয় মেরামত কাজ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সুরমা মার্কেটের বড় বড় ফাটা দেয়াল-ছাদে সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। রাজা ম্যানশনের নড়বড়ে সিঁড়ি ভেঙ্গে সেখানে আরেকটি সিঁড়ি বানানো হচ্ছে। ফাটলগুলো সিমেন্টের প্রলেপে ঢাকা পড়ছে। একইভাবে তালিকার সব মার্কেটেই মেরামত কাজের নামে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা থেকে বের করে আনতে ফন্দির আশ্রয় নেওয়া হয়। অথচ মার্কেটের ঝুঁকি রয়েই যাচ্ছে। একটি বড় ভূমিকম্প হলে ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলো ধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, নগরীতে অতি ঝুঁকিতে রয়েছে ৩০টি ভবন। সিটি কর্পোরেশন এ ভবনগুলো চিহ্নিত করেছে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, ব্যাংক-বাণিজ্যিক ভবন ছাড়াও আবাসিক ভবন। সম্প্রতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করে সিসিক। এতে ৩০টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এগুলো ভেঙ্গে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দিয়েছে সিসিক। এর মধ্যে সিসিকের মালিকানাধীন একটি বাণিজ্যিক ভবনও রয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিস দাবি করছে নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে দু’শতাধিক।
ফায়ার সার্ভিস এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর প্রকৌশল বিভাগের গবেষণা মতে, নগরীর সুরমা মার্কেট, রাজা ম্যানশন ও মধুবন সুপার মার্কেট অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিসিক এই তিনটি মার্কেটসহ ৩২টি ভবন অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তাঁতিপাড়ায় ও শাহী ঈদগাহে দুটি আবাসিক ভবন অপসারণ এবং সিটি সুপার মার্কেটের অংশ বিশেষ ভাঙ্গার পর সিসিকের এ অভিযান থমকে আছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় রয়েছে, কালেক্টরেট ভবন-৩, সমবায় ব্যাংক ভবন, জেল রোডের মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, জিন্দাবাজারের কাস্টমস ও ভ্যাট অফিস, জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের এসএ রেকর্ড অফিস, সুরমা মার্কেট, বন্দরবাজার সিটি সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজারের রহমান প্লাজা, মিতালী ম্যানশন, সিলেট মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, কারিগরি ইন্সটিটিউট, সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মদিনা মার্কেটের পেছনের কয়েকটি বাসা, আজমীর হোটেল, মদনমোহন কলেজের নবনির্মিত ভবন।
সিলেট ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার জাবেদ মোহাম্মদ তারেক জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবন ভাঙ্গার সব প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছে। ভবন ভাঙ্গার সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মোকাবেলা করবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব জানান, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে একটি ভবন ও একটি মার্কেট ভাঙ্গা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল মহানগরের আরো ৩১টি ভবনকে ‘অধিক ঝুকিপর্ণ’ ভবন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পর্যায়ক্রমে এসব ভবন ভাঙ্গা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ