‘নাদিরাকে পাওয়া যায় ৮শ’ টাকায়’

প্রকাশিত: ২:২৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২০

‘নাদিরাকে পাওয়া যায় ৮শ’ টাকায়’

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক: করোনা সংক্রমনের ভয়াবহ এই সংকটকালে একজন ডাক্তার ৮২০ টাকা নিয়ে মোবাইলে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তিনি ডা.নাদিরা বেগম। একটি বেসরকারী হাসপাতালের অধ্যাপিকা পরিচয়দানকারী এই নাদিরা বেগম নিজেকে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বলে দাবী করেন। আপাদমস্তক অনিয়ম অপচিকিৎসা অসদাচারণ অচিকিৎসক সুলভ অপকর্মে জড়িত এই নাদিরা বেগম। দীর্ঘসময় থেকে সিলেটে যথেচ্ছাচার করে আসছেন। গত দু’দিনে এই ৮২০ টাকা ভিজিট নিয়ে মোবাইল সেবার ঘটনায় তার অপকর্ম এখন ভাইরাল।

এটা তার একেবারে ছোট একটি অনিয়ম। ২০০৯ সালে ডা. নাদিরা বেগমের অনিয়ম অনাচার অপচিকিৎসা নিয়ে দৈনিক প্রভাতবেলায় ধারাবাহিক কয়েকটি রিপোর্ট  প্রকাশ হয়। দরগাহ গেইট আম্বরখানা রোডের আল বান্না হাসপাতালে এক রোগীর ৮ মাসের চিকিৎসা সেবার নামে অপচিকিৎসার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছিলো সেগুলো। সেসময় বেরিয়ে এসেছিল তার নানা কাহিনী। এক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় প্রভাতবেলা ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ স্থগিত করে। ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হন ডা. নাদিরা বেগম।

১০ বছরের মাথায় তার অপকর্ম নিয়ে প্রভাতবেলা’তেই লিখতে হচ্ছে। এ জাতির কি দূর্ভাগ্য। একজন মহিলা, একজন চিকিৎসক অপকর্ম থেকে বেরিয়ে আসতে পারলোনা। এবার কেবল গণমাধ্যম নয় তার অপকর্মের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে এমনটাই বলছেন সচেতনমহল।

ডা. নাদিরা পরিচয় দেন জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক( অবস ও গাইনী)। হাসপাতালের একটি সুত্র বলছে তিনি এখানে কর্মরত না। আবার ঐ হাসপাতালের ওয়েব সাইটে ডাক্তারদের তালিকায় নাদিরা বেগমের নাম রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্টিত এবং চলমান। এই অনিয়মের ধারাবাহিকতায় নাদিরারা সুযোগ পায় অনিয়ম করার। মানুষকে হয়রানি করার। এ বিষয়ে প্রভাতবেলা’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আসছে।

আরও পড়ুন  সোহাগের চোখ ও হাত বেঁধে রাখা হয়েছিল

এখন কি ঘটলো?  সিলেটের মেজরটিলা এলাকার এক  বাসিন্দা তার স্ত্রীকে গত কয়েকমাস থেকে নি’র্ধারিত ফি দিয়ে ডাক্তার নাদিরা বেগমের কাছে নিয়মিত চে’কআপ করান এবং তার কাছ থেকে স্বাস্থ্যপরামর্শ নেন। গত ২০ এপ্রিল- সোমবার তার স্ত্রীর স্বাস্থ্যপরামর্শের প্রয়োজন পড়লে তিনি ডাক্তার নাদিরা বেগমের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করেন। এসময় ডাক্তার নাদিরা তাকে বলেন,

‘আমার সহকারীর মোবাইল ফোনে কল দিয়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান এবং পরে আমার মোবাইল ফোনে কল দেন, তখন আমি আপনার স্ত্রীকে পরামর্শ দিবো।’

পরে এ ভদ্রলোক ডাক্তার নাদিরার সহকারীর মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি একটি বিকাশ নাম্বার দিয়ে বলেন- ‘ওই নাম্বারে ৮২০ টাকা বিকাশ করার পরেই কেবল কল করে ম্যাডামের পরামর্শ নিতে পারবেন।’

এ বিষয়ে ঐ সেবা প্রত্যাশী ব্যক্তি বলেন, ‘আমি আমর স্ত্রীর গা’ইনি রি’লেটেড প্র’বলেমের জন্য সোমবার প্রফেসর নাদিরা বেগম ম্যাডামকে ফোন দেই। তিনি আমাকে বলেন- করোনার কারণে তিনি চেম্বারে রো’গী দেখছেন না। সিরিয়েলের যে নাম্বার আছে তাতে ফোন দিতে বলেন আমাকে। আমি সে নাম্বারে কল দিলে আমাকে একটা বিকাশ নাম্বারে ৮২০/- টাকা বিকাশ করতে বলা হয়। আমাকে আরও বলা হয়- টাকা না দিলে ম্যাডাম পরামর্শ দিবেন না।’ তিনি বলেন, ‘অথচ নাদিরা ম্যাডামকে আমি ওয়েসিস হাসপাতালে যতবার দেখিয়েছি তিনি ফি বাবদ ৭০০টাকা রাখতেন। অথচ বর্তমান করোনার ক’ঠিন সময়ে তিনি ফি-তো বাড়িয়েছেনই, শুধুমাত্র ফোনে পরামর্শ দেয়ার কারণে নিতে চাচ্ছেন ৮০০ টাকা। নাদিরা ম্যাডামের এমন অ’মানবিক আচরণ আমাকে ম’র্মাহত করেছে এবং আমি আর পরবর্তীতে টাকা বিকাশ করিনি, তার পরামর্শও নেইনি।’

আরও পড়ুন  লঞ্চে কিশোরীকে ধর্ষণ, প্রেমিক গ্রেফতার

এ বিষয়ে জানতে প্র’সূতি ও স্ত্রী’রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নাদিরা বেগমের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি ৮২০ টাকার বিনিময়ে মোবাইল ফোনে স্বাস্থ্যপরামর্শ দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি যথেষ্ট সময় নিয়ে রো’গীর সঙ্গে কথা বলি এবং প্রয়োজনে তাকে ভিডিও কলে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেই। করোনা প’রিস্থিতিতে রো’গী সমাগম করা যাবে না তাই আমি এমনটি করছি এবং এটি আমার কাছে সঠিকই মনে হচ্ছে। ৮২০ টাকা কি এই প’রিস্থিতিতে ‘রো’গীর জন্য ম’রার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে যাচ্ছে না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তো একটারো’গীর জন্য দীর্ঘ সময় দিচ্ছি। সে দৃষ্টিতে মোটেও ৮২০ টাকা বেশি হচ্ছে না। আর কেউ যদি দিতে অ’পরাগ হয় তবে আমাকে বললেই হয়। আমি ছাড় দেবো।’

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন- এটি মোটেও ঠিক নয়। এরকম হলে তার বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, যদিও এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশেন নামের সংগঠনেরই প’দক্ষেপ নিতে হবে। তবে আমার বক্তব্য হচ্ছে- এটি মোটেও সঠিক প’দ্ধতি নয়। সরাসরি রো’গী দেখে চিকিৎসক যে পরামর্শ দেবেন সেভাবে ফোনে দেয়া সম্ভব নয়। আর এই সময়ে এই পরিমাণে ফি নেয়াটাও মানবিক নয়। এ প্র’সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশেন (বিএমএ) সিলেট শাখার সভাপতি ডা. রোকন উদ্দিন আহমদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এ বিষয়ে আসলে কিছু না জেনে ম’ন্তব্য করতে পারছি না।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ