পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ জনের প্রাণহানি

প্রকাশিত: ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৭

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক: পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় বাস-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের হয়েছেন ১৩ জন। ফরিদপুরের নগরকান্দায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
১২ ফেব্রুয়ারি (রোববার) সকাল পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার দড়িকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহতদের মধ্যে ফারজানা (৩৫), তার ছেলে মারুফ (১০), কামরুন নাহার লিপি (৪০), রাব্বী (৩) ও কাওসার মিয়া (৩২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহতদের মধ্যে ১১ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন-শারমিন (১৮), মানিক মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী মাফিয়া খাতুন (৪৫), ছেলে আনসার আলম (১২), হাছান মিয়া (৪০), তার স্ত্রী হালিমা খাতুন (৩০), ছেলে ইশান মিয়া (১০), সিদ্দিক মিয়ার স্ত্রী সাধনা আক্তার (৪০), বাচ্চু মিয়ার মেয়ে ঝুমা আক্তার (১৫), হিরা মিয়া (৪৫) ও মরম আলীর ছেলে নাজমুল (৩০)। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী। তাদের সবার বাড়ি কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ছাতিরচরে। তারা মাইক্রোবাসে করে ঢাকার কামরাঙ্গীর চর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। আর বাসটি হবিগঞ্জ থেকে ঢাকা যাচ্ছিল।

বেলাবো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বদরুল আলম খান জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ১১ জনের মৃত্যু হয়। এতে আহত হন বেশ কয়েকজন। এদের মধ্যে শারমিনসহ ছয়জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণ পর মৃত্যু হয় শারমিনের। পুলিশ জানায়, সকালে কামরাঙ্গীচর থেকে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে মাইক্রোবাসটি ছাতিরচরে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দড়িকান্দি বাজারে বিপরীত দিক থেকে আসা অগ্রদূত পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থালেই দুই শিশু ও চার নারীসহ ১১ জন নিহত হন। এসময় আহত হন কমপক্ষে ১০ জন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে থানা পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে ভৈরবসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়।
ভৈরব হাইওয়ে থানার ওসি একেএম মিজানুল হক ঘটনাস্থল থেকে জানান, দুর্ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মসহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন দু’টি সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. মোজ্জাম্মেল হক, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ট্রাকের চাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতের নাম আসিফ মাহমুদ স্বপন (২৮)। তিনি ঢাকার শেওড়াপাড়া এলাকার আক্তার হামিদের ছেলে।
সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহম্মদ হোসেন সরকার জানান, রোববার সকালে ঢাকা থেকে মোটরসাইকেল করে আসিফ টাঙ্গাইলে যাচ্ছিলেন। পথে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা খাড়াজোড়া এলাকার ফরেস্ট অফিসের কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা কাঁচামালবোঝাই একটি ট্রাক মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ট্রাকটি আটক করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. রিফাত (২৬) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন  ‘শান্তির জন্য পরিবর্তন’ স্লোগানে জাপার ইশতেহার

এছাড়া, রোববার বিকেলে উপজেলার কুটি ইউনিয়নের লেশিয়ারা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিফাত উপজেলার মেহারি ইউনিয়নের যমুনা গ্রামের মো. ফারুক মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেলে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি থেকে কসবা উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন রিফাতসহ তিনজন। পথে লেশিয়ারা এলাকায় তার মোটরসাইকেলে সঙ্গে একটি রিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে পড়ে গিয়ে রিফাত ও তার সঙ্গে থাকা দু’জন আহত হন। এ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক রিফাতকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে, ফরিদপুরের নগরকান্দায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩৫ জন। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নগরকান্দার গজারিয়া এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এজাজুল ইসলাম জানান, নড়াইল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস হানিফ পরিবহনের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে হানিফ পরিবহনের ওই বাস ও কাভার্ডভ্যানে আগুন লেগে যায়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে ১৩ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন ১৫ জন।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। ওসি এজাজুল জানান, কাভার্ডভ্যানের চালক মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে বাকিরা বাসের যাত্রী।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এইচ নাসিম জানান, বাসটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট কাজ করে। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মমতাজ উদ্দিন জানান, আহতদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আটজনকে মোকসেদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ