মেয়র আরিফের মেয়াদকালে আনুষ্টানিক উদ্বোধন হচ্ছেনা কদমতলী বাস টার্মিনাল

প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৩

মেয়র আরিফের মেয়াদকালে আনুষ্টানিক উদ্বোধন হচ্ছেনা কদমতলী বাস টার্মিনাল
সিলেট কদমতলী বাস টার্মিনাল। ঐতিহ্যের শৈল্পিক ধারণে আধুনিক কারুকার্য সমন্বিত এক দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। ৮ একর ভূমিতে  নির্মিত এই বাস টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক মানের বলা হলেও এ নিয়ে আছে নানা প্রশ্ন। বাস টার্মিনালে বাস সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার চেয়ে অবকাঠামোগত আধুনিকায়নকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। ফলে টার্মিনালে বাস রাখার স্থান সংকুলানে সংকট থেকেই গেছে। আছে নির্মাণে ক্রুটি, নামকরণসহ নানা জটিলতা। নির্মাণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন সব কাজ সম্পন্ন হলেও আনুষ্টানিক উদ্বোধন হচ্ছেনা। সুত্র মতে, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মেয়াদকালে বাস টার্মিনালের আনুষ্টানিক উদ্বোধনের কোন সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাস টার্মিনালের আনুষ্টানিক উদ্বোধন হচ্ছেনা। প্রভাতবেলা প্রতিবেদক♦
বাস মালিকরা  অনানুষ্ঠানিক ভাবেই টার্মিনাল চালু করেছেন। মেয়রের সাথে আলোচনা করে সিটি করপোরেশেনকে ইজারা দিয়ে টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল করছে। ৯৬ লক্ষ ৫০ হাজার ৫শ টাকায় টার্মিনালটি  ইজারা দিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন।
বাস মালিক ও শ্রমিকদের একাংশ বলছেন, বাস টার্মিনাল দৃষ্টিনন্দন ঠিক আছে।  কিন্তু এতে তাদের আশার প্রতিফলন হয়নি। টার্মিনালে বাসের স্থান সঙ্কুলানের চেয়ে অবকাঠামোকে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।  ফলে  বাস সংরক্ষণে সমস্যা থেকেই যাবে, যানজট সমস্যার উত্তরণ হবেনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেড়শো থেকে ২শ বাসের জায়গা এই টার্মিনালে হবে। অথচ বাস রয়েছে প্রায় ১ হাজার।  ৭/৮ শ’ বাস আগের মতোই রাস্তায় থাকতে হবে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায় , শুরুতেই টার্মিনালের নানান জটিলতা সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।  কিছু জায়গায় পানি পড়া, ফাটল এসব নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। যদিও তা মেরামত করা হয়েছে কিন্তু এতে শ্রমিকরা আশঙ্কা মুক্ত নয়। কারণ কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা স্থাপনায় শুরুতেই যদি ফাটল দেখা দেয় তবে মেরামতে কী হয়েছে আল্লাহ মালুম। তবে সিসিক সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মূল স্থাপনায় কোনো ত্রুটি ছিল না, সৌন্দর্য্য বর্ধনের কিছু জায়গায় নকশায় ক্রটির জন্য সমস্যা দেখা দিয়েছিল, যা সারিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিটি কর্পোরেশন সূত্র  বলছে , ‘কদমতলী বাস টার্মিনালে’ বিমানবন্দরের আদলে বহির্গমন, আগমনের আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্থাপনার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে গোলাকার পাঁচতলা একটি টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে টার্মিনাল পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কার্যালয়, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, পুলিশ কক্ষ এবং পর্যটন কার্যালয় স্থাপন করা হবে। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ক্বীন ব্রিজ, আলী আমজাদের ঘড়ি ও আসাম টাইপ বাংলোর স্থাপত্যশৈলী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কদমতলী বাস টার্মিনাল প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন করা হয়। এই টার্মিনালের নকশা করেন স্থপতি সুব্রত দাশ, স্থপতি রবিন দে ও স্থপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
মিউনিসিপ্যাল গভর্নমেন্ট সার্ভিস প্রজেক্ট–এমজিএসপি প্রকল্পের আওতায় সিলেট সিটি করপোরেশন সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে। প্রায় ৮ একর জমির ওপর এই টার্মিনাল নির্মাণ কাজে ব্যয় ধরা হয় ১১৭ কোটি টাকা। এরমধ্যে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য ৫৬ কোটি টাকা এবং টার্মিনালের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৬১ কোটি টাকা। নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায় টার্মিনাল ভবনের ব্যয় অনেকটা বেড়ে যায়। ছয়তলা ভিত্তির তিনতলা কমপ্লেক্সটি তিনটি অংশে ভাগ করা হয়েছে।
এর মধ্যে প্রথম অংশের ‘বহির্গমন ভবন’র দৈর্ঘ্য সাড়ে ৩০০ ফুট। এই অংশে ৪৮টি বাস একসঙ্গে থাকতে পারবে। এ ছাড়া যাত্রীদের বসার জন্য রয়েছে ৯৭০ আসনের বিশাল হল। রয়েছে ৩০ আসনের ভিআইপি কক্ষ, ৩০টি টিকিট কাউন্টার ও নামাজের জন্য আলাদা কক্ষ। রয়েছে পুরুষ, নারী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের ব্যবহার উপযোগী ছয়টি টয়লেট। প্রয়োজনে হুইল চেয়ার নিয়েও টয়লেট ব্যবহার করা যাবে। উপরে উঠার জন্য রয়েছে লিফট এবং খাবারের জন্য রেস্টুরেন্ট ও ফুড কোর্ট। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়া যাত্রীর জন্য আলাদা শয্যা ও ব্রেস্ট ফিডিং জোন রয়েছে।
দ্বিতীয় অংশে ‘আগমনী ভবন’ প্রায় ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের। এখানে রয়েছে  ৫১০ আসনের বসার স্থান ও ৩০ আসনের ভিআইপি কক্ষ, আধুনিক টয়লেট সুবিধা, ব্রেস্ট ফিডিং জোন, লিফট, রেস্টুরেন্টসহ অন্যান্য সুবিধা। ‘আগমন ভবন’ ও ‘বহির্গমন ভবন’ আলাদা করা হলেও করিডোরের মাধ্যমে পুরো স্থাপনাকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এই ভবনের পশ্চিম-দক্ষিণ কোণে সড়কের সঙ্গে গোলাকার পাঁচতলা টাওয়ার ভবনে রয়েছে টার্মিনাল পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কার্যালয়। যেখানে থাকবে পুরো টার্মিনালের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ও সিসিটিভি মনিটরিং কক্ষ, পুলিশ কক্ষ ও পর্যটন কার্যালয়। টার্মিনালের পেছনের দিকে তৃতীয় অংশে নির্মিত হয়েছে একটি মাল্টিপারপাস ওয়েলফেয়ার সেন্টার। যেখানে মালিক ও চালক সমিতির জন্য আছে ২৪ বেডের বিশ্রামকক্ষ, ক্যান্টিন, সভা অনুষ্ঠানের জন্য মাল্টিপারপাস মিলনায়তন। যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ওয়ার্কশপ স্থাপন করা হয়েছে।
১৫ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলেও বর্তমানে এটি বলা যায় পুরোদস্তুর চালু আছে। জনৈক হেলালুজ্জামান হেলাল সহ কয়েকজন এই ইজারা টেন্ডারের মাধ্যমে পেয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।
সুত্রমতে, গত মার্চে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক প্রকল্পের সাথে টার্মিনাল উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা আর হয়নি। উদ্বোধনের আগে টার্মিনাল ভবনের আস্তরে ফাটল ও গ্লাস ফিটিংসের কাজে ত্রুটি ইত্যাদি সামনে আনা হয়। মূলত রাজনৈতিক কারণে আনুষ্টানিক উদ্বোধন হচ্ছেনা কদমতলী বাস টার্মিনালের।
এখন আর কবে এটি উদ্বোধন হবে তা জানেনা সিসিক।

সর্বশেষ সংবাদ