সিলেট ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০২৪
আফজল হোসেন
২০৭ রানের লক্ষ্য, শুরুটা যেভাবে করার কথা; সেই শুরু হল কই! রান তাড়ায় ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই অপরিপক্ব শটেই সাজঘরে ফিরলেন লিটন দাস (০)। লিটনের এমন দৃষ্টিকটু আউট আজ নতুন নয়, এর আগেও একাধিকবার এভাবেই তড়িঘড়ি করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়েছেন তিনি। লিটনের এমন উইকেট জলাঞ্জলির পরও বাংলাদেশ রান তাড়ায় লড়াই করে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ উপহার দিয়েছে অভিষিক্ত জাকের আলী অনিক ও অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জোড়া ফিফটিতে। সোমবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষ অবধি লড়াই করে বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে মাত্র ৩ রানে।
লিটন ফিরলেন দ্রুত, তিনে নামা নাজমুল হোসাইন শান্তও (২২ বলে ২০) শুরুটা করলেন রয়ে সয়ে। আরেক প্রান্তে থাকা সৌম্য সরকারও (১২) উইকেটে থিতু হওয়ার আগেই ফিরলেন সাজঘরে। চারে নামা তৌহিদ হৃদয় রানের খাতা খুললেন বিশাল এক ছক্কায়। আগ্রাসী ব্যাটিং করতে গিয়ে হৃদয়ও ফিরেছেন দ্রুত।
হৃদয়ের আউট হওয়া দেখে মনে হয়েছিল তিনি মনে হয় লিটন দাসকেই কপি করার চেষ্টা করলেন৷ উইকেট ছেড়ে এসে খেলতে চাইলেন বড়শট, ফলাফল ইনসাইড এজে বল পড়ল উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা৷ লঙ্কানদের আবেদনে সাড়া দিলেন আম্পায়ার, সেই সিদ্ধান্ত যেন মেনে নিতে পারলেন হৃদয়। মাঠ আম্পায়ারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে নিলেন রিভিউ, সেখানে সিদ্ধান্ত আসল মাঠ আম্পায়ারের পক্ষে, ফলে আউট মেনেই মাঠ ছাড়তে হল হৃদয়কে। প্যাভিলিয়নের পথে হাটা হৃদয়ের উইকেট তুলে নিয়ে লঙ্কানদের সফল বোলার তখন ম্যাথিউজ।
রান তাড়ায় ৩০ রানে নেই ৩ উইকেট। বাংলাদেশকে জিততে হলে ১০১ বলে করতে হবে ১৭৭ রান, উইকেটে তখন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর তার সঙে যোগ দেন নবাগত জাকের আলী অনিক। রিয়াদ থাকায় অনিককে শুরুতে এতোটা আগ্রাসী হতে হয়নি। দ্রুত রান তোলার দায়িত্বটা তখন রিয়াদ নিজের কাঁধেই নিলেন, নবীন অনিককে তখন নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলার সুযোগ করে দিলেন।
যেমনটা অনিক ম্যাচ শেষে বলছিলেন, ‘যখন ব্যাটিংয়ে যাই, ক্রিজে রিয়াদ ভাই ছিল। স্বাভাবিক ব্যাটিং করতে বলেছেন। ওরকমই চেষ্টা করেছি যেরকম আমি সচরাচর খেলি। বাড়তি কোনো পরিকল্পনা ছিল না। রিয়াদ ভাই ঝুঁকি নিয়ে কিছু বাউন্ডারি বের করলে আমার কাজ সহজ হয়ে যায়।’
দ্রুত রান তোলায় মনোযোগী রিয়াদ ২৭ বলে হাঁকান ফিফটি, অনিকের সঙে ২৯ বলে গড়েন ৪৭ রানের জুটি। দলীয় ১১৫ রানে রিয়াদ (৫৪) ফিরেন সাজঘরে।
রিয়াদের বিদায়ের পর হাত খুলে খেলতে থাকেন অনিক, জাতীয় দলের হয়ে প্রথম খেলতে নেমেই মাত্র ২৫ বলে ৬ ছক্কা এবং এক বাউন্ডারিতে হাঁকান দৃষ্টিনন্দন ফিফটি। নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ফিফটির দিনে অনিক ষষ্ঠ উইকেটে মাহেদী হাসানকে নিয়ে ২৭ বলে ৬৫ রানের জুটি গড়ে ম্যাচটা শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয়তায় নিয়ে যান। ইনিংসের শেষ ওভারের তৃতীয় বলে অনিক যখন আউট হন বাংলাদেশ তখন জয় থেকে মাত্র ১০ রান দূরে। দলকে জয় এনে না দিতে পারলেও প্রথম ম্যাচেই পাহাড়সম চাপ সামলিয়ে অনিক নিজের জাত চিনিয়েছেন ৩৪ বলে ৬৮ রানের হার না মানা এক ইনিংসে।
এর আগে শ্রীলঙ্কা টস হেরে ব্যাট করতে নেমে কুশল মেন্ডিস (৫৯) ও সাদিরা সামারাবিক্রমার (৬১) জোড়া ফিফটিতে ২০৬ রানের বড় সংগ্রহ দাড় করায় শ্রীলঙ্কা। ১ম অভারেই শরিফুল সাজঘরে ফেরান ফার্নান্দোকে, ৫ম অভারে তাসকিনের বলে সৌম্য’র তালুবন্দি হন কামিন্দু মেন্ডিস, ৩৭ রানে টপ অর্ডারের দুই ব্যাটার হারালেও কুসাল মেন্ডিস এবং সামারাবিক্রামার চোখ ধাঁধাঁনো ব্যাটিং শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পাইয়ে দেয়।
শেষদিকে ২১ বলে ৬ ছক্কায় অপরাজিত ৪৪ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন চারিথা আসালাঙ্কা।
লঙ্কান এই তিন ব্যাটারের সামনে স্বাগতিক বোলাররা ছিলেন অসহায়। এলোমেলো বোলিংয়ে স্বাগতিক দর্শকদের তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমানরা হতাশ করেছেন। শরিফুল ৪ ওভারে ১ উইকেট নিতে খরচ করেছেন ৪৭ রান, তাসকিনেরও ১ উইকেট নিতে রান গুনতে হয়েছে প্রতি ওভারে দশ করে। ৪ ওভারে ৪২ রান দিয়ে মুস্তাফিজ কোনো উইকেটের দেখা পাননি।
বাংলাদেশের ইনিংসে তিন ক্যাচ নিয়ে ৩ রানের জয়ে আসালাঙ্কা রেখেছেন দারুণ অবদান। সেই পুরষ্কারও পেয়েছেন আসালাঙ্কা ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে।
শেষ ওভারে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৩ রানের জয় নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি