সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীকে প্রসতুত থাকতে হবে

প্রকাশিত: ৮:১৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০১৬

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:  সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পবিত্র সংবিধান এবং দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে আভ্যন্তরীণ কিংবা বৈশ্বিক যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

বুধবার সিলেট সেনানিবাসে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের ১১ পদাতিক ব্রিগেডসহ নয় ইউনিটকে পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সিলেটে সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের যাত্রা শুরু হয়।

তিন বছরের মাথায় এ ডিভিশনের অধীনে একটি নতুন পদাতিক ব্রিগেডসহ নয়টি ইউনিটের গোড়াপত্তন করা সম্ভব হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি সত্যিই অভিভূত।’

নতুন ব্রিগেড ও ইউনিট প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সিলেট অঞ্চলে অবকাঠামো, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন প্রাণ সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৭ পদাতিক ডিভিশনের উন্নয়ন এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আশা জাগাচ্ছে এবং আপনাদের কাছে তাদের প্রত্যাশা বেড়েছে।’

দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিগেড পর্যায়ে স্পেশাল ফোর্স গঠনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা।

নতুন এই ব্রিগেড ও ইউনিটগুলোর ‘বিক্রমশালী’ প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে এ ডিভিশনের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেনাবহিনীর উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন।

আরও পড়ুন  ৪ সেপ্টেম্বর সিলেট-৩ শূন্য আসনে উপনির্বাচন

বঙ্গবন্ধু উন্নত ও পেশাদার সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ১৯৭৪ সালেই প্রতিরক্ষা নীতিতে দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন জানিয়ে পিতার বক্তৃতা থেকে কিছু অংশ উদ্ধৃত করেন শেখ হাসিনা।

‘তিনি বলেছিলেন, ‘পদ্ম, মেঘনা ও যমুনা নদী সমগ্র দেশকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছে। সেনাবাহিনীকেও সেই মোতাবেক সক্ষমতার দিক থেকে স্বতন্ত্র ও প্রশাসনিকভাবে সামর্থ্য‘বান তিনটি কমান্ডে নিয়োজিত হতে হবে’।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘১৯৭৪ সালে জাতির পিতার সুদূরপ্রসারী ওই প্রতিরক্ষা নির্দেশনার আলোকেই আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি জ্ঞানভিত্তিক পেশাদার বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলাম।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে আমরা সেনাবাহিনীর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের নৈতিক ও মানসিক শক্তি এবং পেশাগত জ্ঞান বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছি।’

তিনি জানান, ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর আওতায় তিন বাহিনীর পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দৃঢ় করার জন্য সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের অংশ হিসাবে নতুন পদাতিক ডিভিশন ও বেশ কিছু ব্রিগেড প্রতিষ্ঠার কথা প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার মধ্যবর্তী পায়রা নদী সংলগ্ন এলাকায় লেবুখালী সেনানিবাসে একটি পদাতিক ডিভিশন গঠনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

আরও পড়ুন  যে ১শ’৭৯ আসনে লড়বেন জামায়াত প্রার্থী

এভাবেই দ্রুত ও সমন্বিত আধুনিকায়নের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ দেশের সম্পদ, দেশের মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসের প্রতীক। তাই পেশাদারিত্বের গুণগত মান অর্জনের জন্য আপনাদের সবাইকে পেশাগতভাবে দক্ষ, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সৎ এবং মঙ্গলময় জীবনের অধিকারী হতে হবে।

এর আগে দুপুর ১টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাসে অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে সশস্ত্র সালাম জানায়। এরপর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে তিনি সদর দফতর ১১ পদাতিক ব্রিগেড ও নয়টি ইউনিটের পতাকা উত্তোলন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমদ সিদ্দিক, সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লে. জেনারল আনোয়ার হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া জয়নুল আবেদীন, বীর-বিক্রম, সিলেট সেনানিবাসের ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেন।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ