হাটে হাটে মানুষের ভীড়। কেউ গরু কেনার জন্যে, আবার কেউ দেখার জন্যে ভিড় জমাতেন পশুর হাটে। প্রতি বছর কোরবানির ঈদে সিলেট নগরীর ২০/২৫টি জায়গায় বসানো হত পশুর হাট। এবার এর ছিটেফোটাও নেই। একমাত্র কাজীরবাজার ছাড়া কোথাও বসেনি পশুর হাট। কুরবানী ঈদের কোন আমেজ নেই এই শহরে।
কিন্তু কোভিড-১৯ এর জন্য এবার পুরোই ব্যতিক্রম। পশুর হাট বসাতে হবে বড় জায়গায়। সিলেট এম.সি কলেজ মাঠ, সিলেট আলিয়া মাদরাসার মাঠ ও দক্ষিণ সুরমার ট্রাক টার্মিনালে পাশের মাঠকে জেলা প্রশাসন থেকে অস্থায়ী পশুর হাট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
সিলেট আলিয়া মাদরাসার মাঠে পশুর হাট ঘোষণা করার সাথে সাথে প্রতিবাদ শুরু হয় । মাঠটির দক্ষিণ পাশে শহীদ শামসুদ্দনি হাসপাতাল। যেটা সিলেটের একমাত্র করোনা আইসলোশন সেন্টার। পশুর হাট পাশে থাকলে করোনা আক্রান্তরা ঝুঁকিতে পড়বেন এমন যুক্তিতে প্রতিবাদী হয়ে উঠে মানুষ।
মাদরাসার ঐতিহ্য ও মাঠের পবিত্রতা নস্ট হবে এমন দাবীতে জেলা প্রশাসন বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেন আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র প্রতিনিধিবৃন্দ। এমন পরিস্থতিতে আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে পশুর হাট বসানো থেকে সরে আসে প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন।
এদিকে সিলেট এম সি কলেজ মাঠে পশুর হাট ঘোষনা করা হলে এমসি কলেজের ছাত্র শিক্ষকরাও প্রতিবাদ মূখর হয়ে উঠেন। ছাত্র শিক্ষকরা মানববন্ধন করেন গত শনিবার। প্রতিবাদের তাপে এবং চাপে এখানেও এখনো পশুর হাট বসার কোন লক্ষণ দেখা যায়নি সোমবার বিকেল অবধি।