সিলেটের হাটে অল্প পশু ,স্বল্প ক্রেতা

প্রকাশিত: ৪:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০

সিলেটের হাটে অল্প পশু ,স্বল্প ক্রেতা
 লোকমান হাফিজ ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ আসার আগেই পাড়া মহল্লা রাস্তাঘাট হাটবাজারে একটা জমজমাট দৃশ্য দেখা যেত। চারদিকে কেবল পশু। গরু, ছাগল, উট, দোম্বা, ভেড়া নিয়েই মাতামাতি। রাস্তায় সড়কে পশুর হাট। কে কি কিনছেন। কত দিয়ে কিনছেন? এক অপরকে জিজ্ঞাসা করছেন বড় গলায়। “ভাই, বিছাল কত দিয়া কিনলা”

 

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছর জমে উঠত সিলেট নগরীর পশুর হাট। দেখা যেত গরু ভর্তি ট্রাক এসে শহরে ঢুকছে। সড়কে গড়ে উঠা বাজারে পশুবাহী ট্রাক আটকে দেয়া। হাট ইজারাদাররা জোর করে পশু নামিয়ে নিজ হাটে নেয়ার তৎপরতা। এসব নিয়ে অনেক সময় ঘটতো হাঙ্গামা।
হাটে হাটে মানুষের ভীড়। কেউ গরু কেনার জন্যে, আবার কেউ দেখার জন্যে ভিড় জমাতেন পশুর হাটে। প্রতি বছর কোরবানির ঈদে সিলেট নগরীর ২০/২৫টি জায়গায় বসানো হত পশুর হাট। এবার এর ছিটেফোটাও নেই। একমাত্র কাজীরবাজার ছাড়া কোথাও বসেনি পশুর হাট। কুরবানী ঈদের কোন আমেজ নেই এই শহরে।
কিন্তু কোভিড-১৯ এর জন্য এবার পুরোই ব্যতিক্রম। পশুর হাট বসাতে হবে বড় জায়গায়। সিলেট এম.সি কলেজ মাঠ, সিলেট আলিয়া মাদরাসার মাঠ ও দক্ষিণ সুরমার ট্রাক টার্মিনালে পাশের মাঠকে জেলা প্রশাসন থেকে অস্থায়ী পশুর হাট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
 সিলেট আলিয়া মাদরাসার মাঠে পশুর হাট ঘোষণা করার সাথে সাথে প্রতিবাদ শুরু হয় ।  মাঠটির দক্ষিণ পাশে শহীদ শামসুদ্দনি হাসপাতাল। যেটা সিলেটের একমাত্র করোনা আইসলোশন সেন্টার। পশুর হাট পাশে থাকলে করোনা আক্রান্তরা ঝুঁকিতে পড়বেন এমন যুক্তিতে প্রতিবাদী হয়ে উঠে মানুষ।
মাদরাসার ঐতিহ্য ও মাঠের পবিত্রতা নস্ট হবে এমন দাবীতে জেলা প্রশাসন বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেন আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র প্রতিনিধিবৃন্দ। এমন পরিস্থতিতে  আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে পশুর হাট বসানো থেকে সরে আসে প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন।
এদিকে সিলেট এম সি কলেজ মাঠে পশুর হাট ঘোষনা করা হলে এমসি কলেজের ছাত্র শিক্ষকরাও প্রতিবাদ মূখর হয়ে উঠেন। ছাত্র শিক্ষকরা মানববন্ধন করেন গত শনিবার। প্রতিবাদের তাপে এবং চাপে এখানেও এখনো পশুর হাট বসার কোন লক্ষণ দেখা যায়নি সোমবার বিকেল অবধি।
নগরীর চৌকিদেখি, লাক্কাতুরা, টিলাগড়, সুবিদবাজার, রিকাবিবাজার, মাছিমপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবছর অস্থায়ী পশুর হাট বসতে দেখা গেলেও এখনো পর্যন্ত এ জায়গা গুলোতে পশুর হাট বসতে দেখা যায়নি। ঈদুল আযহার দিন ঘনিয়ে আসলেও এখনো পর্যন্ত  জমে উঠছেনা পশুর হাট।
কুরবানীকে কেন্দ্র করে অনেক মৌসুমি পশু ব্যবসায়ী কয়েকমাস আগে থেকেই কিছু  লাভের আশায় কেনাবেচা করেন। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাটে ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম থাকায় তারা কেনা দামও পাচ্ছেন না। এমনটাই জানান নগরীর কাজিরবাজারে আসা পশু বেপারীরা। ঐতিহ্যবাহী এই পশুর হাট দেখে ঈদের হাট বুঝা মুশকিল।
পশু ব্যবসায়ী গনি মিয়া জানান, “বউত চিন্তাত আছি গরু লইয়া, যে দামে কিনছিলাম ঔ দাম উ ফাইরামনা ইবার” তিনি ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে যে গরু কিনেছেন সেটার দাম হচ্ছে ৫০ হাজার ৫৫ হাজার টাকা। গত ৬মাস আগে ৩টি গরু কিনেছিলেন কোম্পানীগঞ্জ থেকে আসা রুহুল মিয়া। তার আশা ছিল তিনটি গরু থেকে ভালো একটা টাকা পাবেন যা দিয়ে কৃষিকাজ করতে পারবেন। তিনি বলেন, ১ লাখ ২০ হাজার টাকার গরু দাম হচ্ছে ৮০হাজার টাকা। ৫৫ হাজার টাকার গরু ৪৮ হাজার টাকা।
প্রতি বছর ভারত থেকে গরুর আসার পাশাপাশি সিলেটের বাহিরে অবস্থিত জেলা গুলো থেকেও অনেক গরু আসত।কিন্তু এ বছর ভারত থেকে এখনো কোনো গরু আসেনি।  রাজশাহী থেকে আসা এক ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ট্রাকে করে গরু নিয়ে আসতে সমস্যা হচ্ছে কারণ এ বছর গাড়ি ভাড়া বেশি দিয়ে আনতে হচ্ছে।
সুমন মিয়া নামক এক ব্যবসায়ী বলেন, আমি খয়েখজন ব্যবসায়ী হখলর গেছ তাকি টেখা আনিয়া ১০টা গরু কিনছিলাম। তারার লগে মাত আছিল যা লাভ অইব অর্ধাঅর্ধি। এখন লাভ তো দোরর খতা আসল উ ফাইমু খরি বুঝরামনা। এখন তারারে কিতা জুয়াফ দিতাম আমি। আর আমার বাড়িত অত জাগাও নাই যে না বেছিয়া নিয়া বাড়িত রাখতাম। ( আমি কয়েকজন ব্যবসায়ির নিকট থেকে টাকা এনে গরু কিনেছি। ব্যবসা করে লাভ অর্ধেক তাদেরকে দেব এই শর্তে। এখণ লাভ দুরের কথা আসল পাব কি না সেটা ভাবছি। এখন তাদেরকে কি জবাব দেব। এদিকে বাড়ীতে জায়গাও নেই না বিক্রি করে যে রাখব।)

সর্বশেষ সংবাদ