সিলেট ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ২:১২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৪
হারুনের রিসোর্ট এলাকার মাঝে রয়েছে বিশাল আয়তনের একটি দীঘি। এর মাঝখানে হেলিপ্যাড। বিগত সরকারের একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী, সচিব এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রিসোর্টে বেড়াতে এসেছেন। বিশাল এসব স্থাপনার মালিক সদ্য সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ।
কৃষকদের জমি কেটে নির্মীয়মাণ বাঁধে মাটি ফেলা হচ্ছে। তবে বর্ষা এসে যাওয়ায় বাঁধটি সম্পূর্ণ হয়নি।
মিঠামইনের একটি গ্রামের ট্রলারচালক বলেন, ‘হারুন সাবোই এইতানের (এসবের) মালিক। মহামান্যরে সম্মান দেহাইয়া নাম রাখছে পেরসিডেন রিসুট।’ প্রসঙ্গত, মিঠামইন সদরের কামালপুর গ্রামে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়ি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পুলিশ প্রশাসন তাঁকে ডিবিপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হারুনের বিপুল সম্পদের উৎস সম্পর্কে খোঁজখবর নেয় অনেকেই। মিঠামইন সদর ও হোসেনপুর গ্রামের ভুক্তভোগী মানুষের সঙ্গে কথা বললেও কেউ নাম-ঠিকানা প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যেভাবে ‘সম্পদের পাহাড়’ গড়লেন হারুন
২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর রিসোর্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এরপর আট মাসেই এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে রিসোর্ট ও অ্যাগ্রো ফার্ম নির্মাণের কাজ শুরু করেন হারুন।
গাজীপুরের এসপি থাকাকালীনই হারুনের ‘ভাগ্যবদল’ ঘটে। সূত্রগুলো জানায়, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের এসপি থাকার সময় থেকেই হারুন তাঁর পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে বাড়ির পাশের হাওরে জমি কিনতে শুরু করেন। নামে-বেনামে তাঁর কমপক্ষে ১০০ একর জমি রয়েছে। আবার শতাধিক একর অন্যের জমি তাঁর দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও হারুনের শতকোটি টাকার সম্পদ থাকার গুঞ্জন রয়েছে।
যাঁদের জমি হারুনের দখলে
হারুনের নিজ গ্রাম হোসেনপুর পশ্চিমপাড়ার সৌদি আরবপ্রবাসী মানিক মিয়া জানান, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) থাকাকালীন তাঁর ভাই শাহরিয়ার, কেয়ারটেকার আবুল হাশিম এবং জনৈক গোলাম মওলার নেতৃত্বে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা হোসেনপুরে প্রায় সাড়ে পাঁচ একর জমি ২০১৮ সালে দখল করে নেন, যার বর্তমান মূল্য পৌনে দুই কোটি টাকা। ওই সময় তাঁরা তিন ভাইই প্রবাসে ছিলেন। পরে বিদেশ থেকে ফিরে চেষ্টা-তদবির করেও তাঁরা জমি উদ্ধার করতে পারেননি।
হারুনের কবজায় একজনেরই ২৫ একর জমি
প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের পশ্চিম পাশে অষ্টগ্রাম উপজেলা পরিষদের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোস্তাক আহম্মদ কমলের ছয় একরের একটি পুকুর রয়েছে। কমল অভিযোগ করেন, হারুন পুকুরটি দখল করে মাছ চাষ করছেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
কমল সরকারের কাছে হারুনের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের পাশাপাশি নিরীহ কৃষকদের জমি উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
বন্ধ অভিযুক্তদের ফোন
সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাই, প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট ও অ্যাগ্রো ফার্মের এমডি ডা. এ বি এম শাহরিয়ারের ফোনও বন্ধ রয়েছে।
তবে এ সময় উড়ীয়ন্দ গ্রামের একদল লোক একটি ট্রলারে চড়ে রিসোর্টে আসে। তারা এই প্রতিবেদককে বাধা দেয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরা হারুনের আত্মীয়-স্বজন।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি