বরেণ্য শিক্ষাবিদ ড. ছদরুদ্দিনের ইন্তেকাল

প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :  নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন প্রফেসর ড. ছদরুদ্দীন আহমদ চৌধুরী। শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর ডঃ.প্রফেসর ছদরুদ্দীন আহমদ চৌধুরী আজ বিকাল ৩ টা ৩০ মিনিটে ঢাকা ল্যাব-এইড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না্লি্ল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) আগামী কাল রোববার  সকাল ১০টায় শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ১ম নামাজে জানাজা,২য় নামাজে জানাজা সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে হজরত শাহ্‌জালাল দরগাহ প্রাঙ্গণে এবং ৩য় নামাজে জানাজা বাদ্‌ যোহর তাঁর পিতৃ নিবাস গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ী বড় মোকাম ঈদগাহ্‌ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। পরে  পারিবারিক গোরুস্তানে তাকে দাফন করা হবে ।

ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি পাড়ি জমান না ফেরার দেশে । মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

ড. ছদরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর ভাগনি কবি সোমা জায়গীরদার প্রভাতবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন থেকে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

ব্যক্তিজীবনে তিনি তিন কন্যসন্তানের জনক। তার বড় মেয়ে নাসেহা চৌধুরী ও ছোট মেয়ে নাইমা চৌধুরী ঢাকায় বসবাস করছেন। মেজো মেয়ে ড. নাজিয়া চৌধুরী বর্তমানে শাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর।

আরও পড়ুন  সিলেটের অনাবাদি পতিত জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনতে হবে

এদিকে ড. ছদরুদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে শাবি পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন শাবির বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভুঁইয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সিনিয়র শিক্ষক ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব।

সিলেটের গোপালগঞ্জের ফুলবাড়ি এলাকায় জন্ম নেয়া ড. ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী একাধারে ছিলেন শিক্ষাবিদ, পদার্থ বিজ্ঞানী, ভাষাসৈনিক, গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। এছাড়া তিনি পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

সিলেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন এবং এমসি কলেজ থেকে আইএসসি সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে কৃতিত্বের সঙ্গে অনার্স ও মার্স্টাস ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

তিনি ১৯৬৬ সালে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ‘এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফি’ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তার ৪০টিরও অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

রাজশাহী কলেজে পাঠদানের মধ্য দিয়ে বরেণ্য এ শিক্ষাবিদের শিক্ষকতা জীবনের শুরু। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষকদেরও একজন ছিলেন।

পরবর্তী সময়ে দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছাড়াও তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

আরও পড়ুন  রাজপথে সরব হতে চায় জামায়াত

১৯৮৯ সালে থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন ভিসি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন ড. ছদরুদ্দিন।

দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দেড় বছরের মধ্যে ১৩ জন শিক্ষক ও ২১০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে তিনি শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অগ্রদূত এই শিক্ষাবিদকে ২০১৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

শিক্ষকতা জীবনে ড. ছদরুদ্দিন আহমেদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যা ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগের প্রধান, শহীদ হাবিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির সদস্য, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের প্রশাসক, সিন্ডিকেট সদস্য, সিনেট সদস্যসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি অ্যাসোসিয়েশনের কাউন্সিল সদস্য, অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান, এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ডিন অব স্টাডিজ (একাডেমিক ভাইস চ্যান্সেলর), সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র প্রতিষ্ঠাতা ভিসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ