ঐতিহ্যবাহী ‘লাকড়ি তোড়ার মিছিল’ আজ  

প্রকাশিত: ১০:৪৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০১৬

প্রায় ৭’শ বছরের প্রাচিন , শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও আভিজাত্যের গৌরব ধ্বংসের শিক্ষায় ঐতিহ্যবাহী উৎসব
 
আব্দুল করিম কিম: আজ (১লা আগস্ট, সোমবার) সিলেটে দেশের অন্যতম প্রাচিন লোকায়ত উৎসব ‘লাকড়ি তোড়ার মিছিল’ । শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও আভিজাত্যের গৌরব ধ্বংসের শিক্ষা নিয়ে প্রায় সাত’শ বছর ধরে সিলেটে এ উৎসব উদযাপন করা হয় । সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ)-এর স্মৃতি বিজড়িত এ উৎসব হিজরী বর্ষের ২৬ শে শাওয়াল পালন করা হয় । এ উৎসব উপলক্ষ্যে দরগা-ই-হযরত শাজালাল প্রাঙ্গন থেকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে হাজার হাজার শাহজালাল ভক্তের বর্ণাঢ্য মিছিল লাক্কাতোড়া চা বাগানের নির্দিষ্ট পাহাড়ের দিকে ছুটে যায় । সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয় লাকড়ি । সেই লাকড়ি কাঁধে নিয়ে পুনরায় মিছিল দরগা প্রাঙ্গনে ফিরে আসে। যা এ উৎসবের ২১ দিন পর অনুষ্ঠিতব্য হযরত শাহজালাল (রহ)-এর বার্ষিক উরশ শরীফের শিন্নী রান্নায় ব্যাবহার করা হয় । প্রায় সাত শ বছর ধরে চিরাচরিত প্রথায় এ উৎসব পালন হয়ে আসছে ।
প্রতি বছর ২৬ শাওয়াল জোহর নামাজ শেষ হতেই বেজে ওঠে ঐতিহ্যবাহী ‘নাকাড়া’ ।  ‘শাহজালাল বাবা কী জয়’, ‘৩৬০ আউলিয়া কী জয়,’ ‘লালে লাল শাহজালাল’ স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে সিলেট নগর । নাঙ্গা তলোয়ার, দা-কুড়াল ও লাল-ঝাণ্ডা হাতে হাজার হাজার শাহজালাল ভক্ত সকাল থেকেই খণ্ড খন্ড মিছিল নিয়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত দিয়ে শাহজালাল দরগা প্রাঙ্গনে জমায়েত হতে থাকে । কেউ একা আসে-কেউ আসে প্রতিবেশী আশেকানদের সাথে । বিভিন্ন মাজার-খানকা ও গঞ্জ-গ্রাম থেকে দুপুরের নামাজ পর্যন্ত চলে ভক্তদের জমায়েত পর্ব । জোহরের নামাজ শেষ হতেই শত বছরের প্রাচীন ঐতিয্যবাহী ‘নাকাড়া’ বেজে ওঠে । বেজে ওঠে ভক্ত-আশেকানদের শত শত ঢোল-ডঙ্কা । বিভিন্ন কাফেলার সাথে আসা অসংক্ষ্য ব্যন্ড-পার্টির বাদ্যের তালে তালে চলে হাজার মানুষের স্লোগানে স্লোগানে নগ্ন পায়ে ছুটে চলা l বেশির ভাগ মানুষের অঙ্গে থাকে লাল কাপড় । অনেকেই মাথায় লালপট্টি বাঁধে । এই মিছিল ছুটে চলে হযরত শাহজালাল (রঃহঃ) এর ঐতিহ্যবাহী লাকড়ি তোড়া বা লাকড়ি ভাঙ্গার উৎসবে । প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়া এ মিছিলের শুরু যখন গন্তব্যে পৌঁছে তখনো এর শেষ অংশ থাকে দরগা প্রাঙ্গনে । কোনো প্রচার-প্রচারণা ছাড়া প্রতি বছর বিশ থেকে ত্রিশ হাজার মানুষের জমায়েত হয় । পুণ্য লাভের মূলা ঝোলানো মাইকিং নেই, উদ্ভোধক নেই, প্রধান অতিথি নেই, এক মুষ্টি ডাল-চালের খিচুরী ছাড়া পেট চুক্তি কোনো খাবারও নেই; তবুও প্রতি বছর এই জনপদের সব চাইতে প্রাচীন ‘লৌকিক ও অসাম্প্রদায়িক’ এ লাকড়ি তোড়ার (ভাঙ্গার) মেলা’ বা ‘লাক্কাতোড়ার উরস’ উদযাপিত হয়ে আসছে চিরাচরিত প্রথায় ।

এ উৎসব হটাৎ করে শুরু হয়নি । প্রাচীন এই উৎসবের সাথে জড়িয়ে আছে সুলতানুল বাঙাল হজরত শাহ্জালাল (র.হ.)-এর স্মৃতি । প্রায় সাতশত বছর ধরে হিজরি বছরের ২৬ শাওয়াল এই ‘লাক্কাতোড়ার মেলা’ বা ‘লাকড়ি ভাঙ্গার উরস’ উদযাপিত হয়ে আসছে । এই দিনটি হলো হজরত শাহজালাল (র.হ.) কর্তৃক সিলেট বিজয়ের দিন । ০৩ হিজরী’র ২৬শে শাওয়াল অত্যাচারী রাজা গৌড়গোবিন্দকে পরাজিত করে প্রাচিন শ্রীহট্র নগরী সুফি সাধক হযরত শাজালাল (রহ)-এর হাতে বিজিত হয় । তাই এদিন ‘শ্রীহট্ট বিজয় দিবস’ নামেও পালিত হয় । আবার এ দিনেই ৭২৫ হিজরীতেঁ হযরতের মামা ও মুর্শিদ হযরত সৈয়দ আহমদ কবির (রঃহঃ)-এর ওফাত হয় । পিতৃ-মাতৃহীন হযরত শাহজালাল (রঃহঃ) শৈশবকাল মামা হযরত সৈয়দ আহমদ কবির (রঃহঃ)-এর কাছে লালিতপালিত হয়েছিলেন ।তিনি ভাগনেকে শুধু লালন-পালনই করেননি আধ্যাত্মিক শিক্ষায়ও শিক্ষিত করেন । কামালিয়াতের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় তিনি ভাগনেকে ইসলামের দাওয়াতে নিয়োজিত করেন । মক্কা শরিফের এক মুঠো মাটি দিয়ে বলেন এই মাটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্থানেই তাঁর দাওয়াতি মিশন সমাপ্ত করতে । হযরত সৈয়দ আহমদ কবির (রঃহঃ) ছিলেন জগত বিখ্যাত সুফিসাধক হযরত জালালুদ্দিন সুররুখ বুখারী (রঃহঃ) এর পুত্র ও হযরত মাখদুম জালালুদ্দিন জাহানিয়ান জাহানগাস্ত বুখারী (রঃহঃ)-এর পিতা ।২৬ শাওয়াল হযরত সৈয়দ আহমদ কবির (রঃহঃ) পাঞ্জাব প্রদেশের ভাওয়াল জেলার উচ নগরীতে ইন্তেকাল করেন । তাই এইদিনটি শাহজালাল (রঃহঃ) এর মুর্শিদের পবিত্র উরস শরীফ হিসাবেও উদযাপন করা হয় ।

আরও পড়ুন  সেই কিশোরটি বাড়ী ফিরেছে

লাকড়ি ভাঙ্গা উৎসবের সম্পর্কে যে কিংবদন্তী প্রচলিত আছে তা হজরত শাহ্জালাল (র.হ.) এর সাথে ঐতিহাসিকভাবে সম্পর্কিত । রাজা গৌরগোবিন্দকে পরাজিত করার পর হজরত শাহ্জালাল (র.হ.) তাঁর সঙ্গী সাথিদের এই অঞ্চলের নানা প্রান্তে ইসলাম প্রচারে প্রেরন করলেন । তাঁর সঙ্গীদের তিনি ছিলেন নেতা বা মুর্শিদ । তাই প্রতি বছর সিলেট বিজয়ের এই দিনে সঙ্গীও আউলিয়াগন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসতেন মুর্শিদের কাছে । মুর্শিদের সান্ন্যিদ্ধে এসে সিলেট বিজয়ের এই গৌরবের জন্য আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা জানাতেন । সিলেট বিজয়ের পর প্রায় প্রতি বছর এ বিজয় দিবস মহাসমারোহে উদযাপিত হতো । নানা অঞ্চল থেকে আউলিয়ারা আসতেন হযরত শাহজালালের (রঃহঃ) এর দরবারে । এরূপ এক বছর বিজয় দিবস উদযাপনের কিছুদিন পূর্বে হযরতের কাছে এক নও-মুসলিম কাঠুরে এক ফরিয়াদ নিয়ে এলো । কাঠুরের ফরিয়াদ হল- তাঁর বিবাহযোগ্যা ৫ মেয়ে আছে । কিন্তু সে অত্যন্ত দরিদ্র ও নিচু জাতের মানুষ বলে মেয়েদের জন্য কোনও বিবাহ আলাপ আসেনা । কাঠুরে হযরতের কাছে এ দুর্ভাবনার প্রতিকার চান । হযরত কাঠুরের ফরিয়াদে অত্যন্ত বেদনাহত হলেন । তিনি কাঠুরেকে কিছুদিন পরে ‘সিলেট বিজয়ের দিন’ এর প্রতিকার করবেন বলে আশস্থ করলেন । সিলেট বিজয়ের দিন বরাবরের মতো সবাই সমবেত হলে সঙ্গীগণসহ হযরত শাহজালালের (রঃহঃ) জোহরের নামাজ আদায় করলেন । নামাজ শেষে তিনি কুড়াল হাতে করে পাহার-টিলা ব্যষ্টিতো (বর্তমান লাক্কাতোড়া চা বাগানের নির্ধারিত টিলা) উত্তর প্রান্তের গভীর জঙ্গলের দিকে যেতে থাকলেন । সঙ্গিরা তাকে অনুসরণ করতে থাকেন । এক জায়গায় এসে তিনি নিজ হাতে লাকড়ি সংগ্রহ করতে লাগলেন । মুর্শিদের অনুশরন করতে থাকলেন শিস্যরা । প্রত্যেকেই সংগ্রহ করলেন লাকড়ি । লাকড়ি সংগ্রহের পর হযরত মোরাকাবায় (ধ্যান) বসলেন । মোরাকাবা শেষে হযরত শাহজালালের (রঃহঃ) উপস্থিত সবাইকে অশ্রুসিক্ত নয়নে জানান কিছু সময় পূর্বে ‘উচ শরিফে’ তাঁর মামা ও মুর্শিদ সৈয়দ আহমদ কবির (রঃহঃ)-এর ওফাত হওয়ার কথা । তিনি সমবেতদের নিয়ে স্বীয় মুর্শিদের জন্য ফাতেহা পাঠ করেন । এরপর লাকড়ি কাধে করে নিয়ে সঙ্গিদেরসহ ফিরে আসেন নিজ আস্তানায় । লাকড়ি এক জায়গায় স্তূপ করে রেখে দেয়া হয় । এরপর সমবেতদের নিয়ে আসর নামাজ আদায় করেন । নামাজ শেষে তিনি সঙ্গিদের কাছে জানতে চাইলেন, আজ আমরা কি কাজ করেছি ? উপস্থিতরা বলেন, হযরত আমরা আজ লাকড়ি ভেঙ্গেছি । তিনি তখন বলেন যারা লাকড়ি ভাঙ্গে তারা যদি কাঠুরে হয় তবে আজ থেকে আমরাও কাঠুরে কারন আজ আমরাও লাকড়ি ভেঙ্গেছি । এরপর তিনি সমবেতদের কাছে ইসলামের সাম্যের বানী ও শ্রমের মর্যাদার কথা  তুলে ধরেন ও গরিব কাঠুরের ফরিয়াদের কথা জানান । তখন সমবেতদের মধ্য থেকে অনেকেই কাঠুরের কন্যাদের বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন । কাঠুরে এবার আগ্রহিদের মধ্য থেকে উপযুক্ত পাত্র বাছাই করেন । এই বিজয় উৎসব পালনের ২১ দিন পর হজরত শাহজালাল (র.হ.) এর ওফাত হয় । মুর্শিদের দেহান্তরের সংবাদে দূরদূরান্ত থেকে মুরিদ ও ভক্তরা সমবেত হতে থাকলেন । এই সমবেত মানুষের খাবার রান্নায় এই লাকড়ি ব্যবহার করা হয় । এই স্মৃতির ধারাবাহিকতায় শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও আভিজাত্যের গৌরব ধ্বংস করার জন্য এই ‘লাকড়িতোড়ার প্রথা’ পালন করে যাওয়া অব্ব্যহত থাকে ।

সিলেট বিজয়ের ফলে যে ‘শাহজালালের’ মাধ্যমে এই অঞ্চলে ইসলামের বিজয় নিশান উড়েছে সেই ‘শাহজালালের’ ওফাতের পর হটাৎ করে কেউ তাঁর নামে এমন একটি অনুষ্ঠান শুরু করবে এটা ঐতিহাসিকভাবে নির্ভরযোগ্য নয় । হয়তো তখন যা সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ ছিলো এখন তা হাজার মানুষের মিছিল । তখনো কুচকাওয়াজের রীতিতে যে ‘নাকাড়া’ বাজতো এখন তাঁর সাথে যুক্ত হয়েছে ঢোল-ডঙ্কা । তখন সেই কুচকাওয়াজে অংশ নিতো শুধু তাঁর সঙ্গী আউলিয়া ও সৈনিকরা । এখন নানা জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয় । জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের লাকড়ি সংগ্রহের সুযোগ থাকে এই উৎসবে । পাকিস্তান আমল ও বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও এই উৎসবে পুলিশ বাহিনীর ব্যন্ড পার্টির জাকজমকপূর্ণ অংশ গ্রহণ ছিলো । কোনরূপ প্রচার প্রচারণাবিহীন প্রতি বছর এতো মানুষের সতস্ফুর্ত অংশগ্রহনে এই লাকড়ি তোড়ার (ভাঙ্গার) মেলা’ বা ‘লাক্কাতোড়ার উরস’ প্রাচীন এক লৌকিক উৎসবে সিলেট নগরীর রাজ পথকে বর্ণিল করে তোলে । এই লাকড়ি তোড়ার (ভাঙ্গার) মেলা’ বা ‘লাক্কাতোড়ার উরস’ এ জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকল শাহজালাল (র:হ:)-এর ভক্তদের অংশ গ্রহণ থাকে । এই লৌকিক ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব সিলেটের ঐতিহ্যময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির । তপ্ত দুপুরে প্রখর রৌদ্রের মাঝে ছুটে চলা এ মিছিল যখন লাক্কাতোড়া বাগানের নির্দিষ্ট পাহাড়ে পৌঁছে তখন তৃস্নার্ত ভক্তদের জন্য কুয়া থেকে তুলে আনা ঠান্ডা জল নিয়ে অপেক্ষায় থাকে বাগানের সাঁওতাল-ওড়িয়া ছেলে বুড়োরা l 

প্রতি বছর চিরাচরিত প্রথায় পালন করা এ উৎসবের কোনো উদ্বোধক নেই, প্রধান বা বিশেষ অতিথি নেই, মিছিলের সামনে দাড়ানো নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতা নেই । দরগা ই হযরত শাহজালাল (রহ)-এর সরেকউম-মোতাওয়াল্লী ফতেহ উল্লাহ আল আমান-এর তত্বাবধানে জোহর নামাজ শেষে দরগা-ই-হজরত শাহ জালাল (রঃহ:)-এর প্রধান ফটক থেকে বের হয়ে সবাই ছুটে যাবে এ মিছিলের একজন হয়ে । আম্বরখানা-মজুমদারি-খাসদবির- চৌকিদেখি পাড়ি দিয়ে লাক্কাতোড়া চা বাগানের নির্দিষ্ট পাহাড়ে পৌঁছে প্রথমে অনুষ্ঠিত হয় ফাতেহা-খানি । অতঃপর সবাই যার যার মতো করে সংগ্রহ করে লাকড়ি । সেই লাকড়ি কাঁধে নিয়ে আসর নামাজের পূর্বেই ফিরে আসে দরগা প্রাঙ্গনে । লাকড়ি কাঁধে নিয়ে হাজার হাজার মানুষ যখন রাজপথ ধরে শহরে ফিরতে থাকে তখন দূর থেকে দেখে মনে হয়, অরণ্য বুঝি নগরের দিকে হেঁটে আসছে । দরগায় পৌঁছে এ লাকড়ি প্রথমে দরগা পুকুরে ধুয়ে  নির্দিষ্ট জায়গায় সব জমা করে রাখা হয়। লাকড়ি ভাঙ্গার এই উৎসবের ২১ দিন পর অনুষ্ঠিত হয় হজরত শাহ জালাল (রঃহ:)-এর পবিত্র উরস শরীফ । এই দিন থেকে উরস শরিফের প্রস্তুতি পর্ব শুরু হয়ে যায় । প্রতিবছর উরসের শিন্নি রান্নায় ব্যবহার করা হয় এই লাকড়ি । 

এই উৎসবের সম্পর্কে দেশবাসী দূরে থাক সিলেটের অধিকাংশ মানুষেরও কোনও ধারনা নেই । এ ধরনের একটি ঐতিহ্যময় প্রাচীন উৎসব এ অঞ্চলের পর্যটনকে সমৃদ্ধ করতে পারে । সাত শত বছর প্রাচীন এই উতসবকে দেশের জাতীয় পত্রিকাগুলো দূরে থাক স্থানীয় পত্রিকা গুলোও গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে না । এ সম্পর্কে ৮/৯ লাইনে সিঙ্গুল এক কলাম খবর থাকে ‘লাকড়ি তোড়ার (ভাঙ্গার) মেলা বা লাক্কাতোড়ার উরস উদযাপিত’ ।  ব্রিটিশ আমল ও পাকিস্তান আমলে এই উৎসবে পুলিশ বাহিনির ব্যন্ড-পার্টির অংশগ্রহণ থাকতো । সিলেটের অভিজাত পরিবারের মানুষের অংশ গ্রহণ থাকতো । বর্তমানে প্রতিক্রিয়াশীলরা ‘বেদাত’ ‘শিরক’ বলে এই উৎসবের নিন্দা করে । আবার প্রগতিশীলরা ‘ইসলাম সংশ্লিষ্ট’ বলে এই ‘লৌকিক’ ও ‘অসাম্প্রদায়িক’ উৎসব থেকে দূরে সরে থাকে । তবে এই উৎসবের সম্পর্কে অবগত হলে- আগামীতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এ উৎসবে যোগদান করবে । প্রয়োজন শুধু প্রচার-প্রচারনার ।   

আব্দুল করিম কিম, সমন্বয়ক: সিলেট বিভাগের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও প্রকৃতি রক্ষা কমিটি

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ