সিলেট ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ৩:২৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০১৭
সংবাদদাতা, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঘেরাওকৃত দু’টি বাড়িতে ‘একডজন জঙ্গি রয়েছে’ বলে ধারণা করছে পুলিশ। এদের ধরতে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাচ্ছে ঘটনাস্থলে থাকা র্যাব, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) ডিসি মহিবুল ইসলাম খান বলেন, আমরা (সিটিটিসির সদস্যরা) পুলিশের সহায়তায় রাত থেকে বাড়ি দুটি ঘেরাও করে রেখেছি। জঙ্গিরা আমাদের ওপর গ্রেনেড ছুড়েছে, আমরাও গুলি চালিয়েছি। ঢাকা থেকে সোয়াত টিম রওনা হয়েছে। তারা আসলে অভিযান চালানো হবে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে, অভিযানে যোগ দিতে ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছে সর্বাধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাক্টিকস টিম সোয়াট । ২৯ মার্চ (বুধবার) বেলা সোয়া ১১টার দিকে সোয়াটের একটি টিম মাইক্রোবাসযোগে ঢাকা থেকে রওনা দেয় বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।
অন্যদিকে, মৌলভীবাজার পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড, পার্শ্ববর্তী কুসুমবাগ এলাকা এবং খলিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে দুই কিলোমিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। বুধবার দুপুরের পর এ ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। আশপাশের মানুষদের নিরাপদে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে সোয়াত সদস্যরা এলে জঙ্গি আস্তানা দুটিতে অভিযান চালানো হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বেলা আড়াইটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি ও একটি অ্যাম্বুলেন্স নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানার পাশে গিয়ে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, বুধবার ভোররাত থেকে মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট ও সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজারের কাছে ফতেহপুর গ্রামের ওই দু’টি জঙ্গি আস্তানা ঘেরাও করে রেখেছে পুলিশ। বড়হাটের আস্তানাটি একটি ডুপ্লেক্স বাড়িতে, আর ফতেহপুরের আস্তানাটি একটি একতলা বাড়িতে।
স্থানীয়রা জানান, সে দু’টি বাড়িই এক লন্ডনপ্রবাসীর। তার নাম সাইফুল ইসলাম। তিনি সপরিবারে লন্ডনে থাকেন।
সাইফুলের বাড়ি দু’টি দেখভাল করেন আতিক নামে তার এক আত্মীয়। কিন্তু তার কাছ থেকে কারা ওই দু’টি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলো তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
সিলেটের দক্ষিণসুরমার ‘আতিয়া মহল ট্র্যাজেডি’র রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মৌলভীবাজারে ‘জঙি হাওয়া বইছে’। ২৯ মার্চ (বুধবার) ভোররাত থেকে ‘দুটি বাড়িতে জঙ্গি আছে’ সন্দেহে মৌলভীবাজারে পৃথক দুটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)-এর সদস্যরা।
পুলিশ জানায়, একটি বাড়ি মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকায় অবস্থিত। অপর বাড়িটির অবস্থান সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজারের কাছে বাহাদুরপুর গ্রামে। পুলিশ আরো জানায়, দুটি আস্তানাতেই জঙ্গিরা অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ রাত থেকেই আস্তানা দু’টি ঘেরাও করে রাখে। ভোররাতের দিকে অভিযান শুরু করলে জঙ্গিরা গুলি করতে থাকে। একের পর এক গ্রেনেড ছুঁড়েও মারে তারা। রাত থেকে কৌশলে আমরা এলাকাবাসীকে সরিয়ে নিতে পেরেছি। এখন জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানের কথা বুঝতে পেরে সন্ত্রাসীরা বাড়ির ভেতর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়ছে।
এদিকে, মৌলভীবাজারে ঘেরাওকৃত দুটি বাড়িতে সন্ত্রাসীদের বিপুল অস্ত্র বিস্ফোরক রয়েছে বলে ধারনা করছে পুলিশ। সেটি মাথায় রেখেই, অভিযান এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ বলছে- সকালে ‘জঙ্গি’রা ভেতর থেকে বেশ কয়েকটি গ্রেনেড চার্জ করেছে। ধারনা করা হচ্ছে- এদের হাতে গোলা-বারুদ রয়েছে। দুটি জঙ্গি আস্তানার একটি মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকায়। অপরটি সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজারের কাছে ফতেপুর গ্রামে। উভয় আস্তানাতেই জঙ্গিরা সিলেটের শিববাড়ির আস্তানার মতো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ দুটি আস্তানাতেই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। সন্ত্রাসীদের কোনঠাসা করে তুলতে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সিটিটিসি সূত্র জানিয়েছে, এই সন্ত্রাসীরা নব্য জেএমবির সঙ্গে জড়িত।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সিলেট দক্ষিণসুরমাস্থ আতিয়া মহলে যখন জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলছে, তারই একটি সময়ে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ মৌলভীবাজার জেলা সদরের বড়হাট এলাকার একটি জঙ্গি আস্তানার খবর পায়। সর্বোচ্চ গোপনীয়তায় তিন দিন ধরে রেকি করে জঙ্গিদের যাওয়া আসাসহ অন্যান্য কার্যক্রমের ওপর কড়া নজর রাখতে থাকে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ। খবর জানানো হয় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকেও। দ্রুত সে ইউনিটের সদস্যরাও যোগ দেয় মৌলভীবাজার পুলিশের সঙ্গে।
মৌলভীবাজার শহরের প্রধান সড়ক থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভেতরে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। কাছেই বড়হাট আবুশাহ (রঃ) দাখিল মাদ্রাসা। বাড়িটির ওপর কড়া নজর রাখতে থাকে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর আতিয়া মহলের অভিযান শেষ হওয়ার অপেক্ষা।
এক নারীসহ চার জঙ্গি খতম ও বিপুল বিষ্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আতিয়া মহলে অভিযানের সফল সমাপ্তি ঘোষণা হয়।
এরপর সকল ব্যবস্থা নিয়ে এগুতে থাকে মৌলভীবাজার পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। মঙ্গলবার দিনগত মধ্য রাতের পর ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলার সকল প্রস্তুতি নেওয়ার সময়টিতেই খবর আসে আরেকটি জঙ্গি আস্তানার। জানা যায় সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজারের কাছে ফতেপুর গ্রামে আরেকটি আস্তানাতেও রয়েছে বেশ কয়েকজন জঙ্গি।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি