লন্ডনে মসজিদের কাছে সন্ত্রাসী হামলা

প্রকাশিত: ৫:০২ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৭

ব্রিটেনের লন্ডনে মসজিদের বাইরে মুসুল্লিদের ওপর ভ্যান চালিয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে এবং অন্তত ১০জন আহত হয়েছে। হতাহতের সবাই মুসলিম।

ব্রিটেনে মুসলিম কাউন্সিল বলছে, এটা ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম-ভীতির একটি হিংসাত্মক প্রকাশ।

খালিদ আমিন নামে প্রত্যক্ষদর্শী একজন বিবিসিকে জানান, ঘটনার সময় হামলাকারী ব্যক্তিকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘আমি সব মুসলিমকে হত্যা করতে চাই’।  বিবিসির খবর।

উত্তর লন্ডনের সেভেন সিস্টার্স রোডে ফিনসবারি পার্ক মসজিদের কাছে এই হামলা চালানো হয়। মুসলিম ওয়েলফেয়ার হাউজের ঠিক বাইরেই অনেক লোক যেসময়টায় রোজা শেষে রাস্তার ওপর তাদের সান্ধ্য-কালীন প্রার্থনায় ব্যস্ত। ঠিক তেমনই সময় সাদা রং এর একটি ভ্যান দ্রুতবেগে রাস্তায় চলতে দেখা যায় এবং এরপর ফুটপাথে লোকজনের ওপর উঠে যায়।

এরপর জরুরি বিভাগে খবর আসতে থাকে। এরপর চিকিৎসক, অ্যাম্বুলেন্স ক্রু, প্যারামেডিক্যাল কর্মী এবং স্পেশালিষ্ট রেসপন্স দল এবং অ্যাডভান্সড ট্রমা ব্যবস্থাপনা দল সেখানে পৌঁছে যায়।

অসংখ্য পুলিশ ঘটনাস্থলকে ঘিরে রাখে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রাড বলেছেন, এই হামলাকে পুলিশ  একটি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবেই দেখছে। কাউন্টার টেররিজম সদস্যরা এর তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ বলছে, ৪৮ বছর বয়সী একজন ভ্যানটি চালিয়ে পথচারীদের ওপর উঠিয়ে দেন এবং হামলাকারী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই প্রথম কোনও ব্যক্তি যাকে সাধারণ জনতা আটক করে এবং পুলিশের কাছে তুলে দেয়ার জন্য অপেক্ষা করে। এরপর তাকে হাসপাতালে নেয়া হয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এরপর তাকে কাস্টডিতে নেয়া হবে।

আরও পড়ুন  বিক্ষোভ কর্মসূচি ডেকে মাঠে নেই বিএনপি

তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা অনেকেই বলছেন, এ হামলার পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত বলে তারা মনে করেন। যদিও সন্দেহভাজন অন্য কোনও ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়নি । তবে পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে তাদের খোঁজ-খবর চলছে।

সোমবার ভোরের দিকেই পুলিশ নিশ্চিত করে যে এ হামলায় একজন নিহত হয়েছে। তবে তার নাম পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানাচ্ছে, তারা গুরুতর আহত অন্তত আটজনকে এবং অপেক্ষাকৃত কম আহত দুজনকে ঘটনাস্থলে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। আহতদের পরে রাজধানীর তিনটি হাসপাতালে নেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাস্তায় একজনকে সিপিআর (মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তিকে বাঁচানোর শেষ প্রচেষ্টা) দিতে এবং মাথায় আঘাত পাওয়া আরেকজনকে অস্থায়ী ড্রেসিং দিতে দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে এই হামলাকে ভয়ংকর ঘটনা  হিসেবে অভিহিত করেছেন। আক্রান্তদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।

লেবার পার্টির নেতা এবং স্থানীয় এমপি জেরেমি করবিন টুইটারে লিখেছেন, এমন হামলায় তিনি ‘ভীষণভাবে ব্যথিত’।

আরও পড়ুন  পরিযায়ী পাখির জলকেলিতে মুখর মাটিয়ান দীঘি

সেখানকার বিভিন্ন মসজিদ, পুলিশ এবং স্থানীয় কাউন্সিলের সাথে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান তিনি।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেছেন, এই সম্প্রদায়ের মানুষদের, বিশেষ করে যারা রোজা রাখছেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

মেয়র বলেন, ‘আমরা এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না কিন্তু এটা পরিষ্কারভাবেই লন্ডন-বাসীর ওপর ইচ্ছাকৃত একটি হামলা। আর যাদের ওপর হামলা চালানো হয় তাদের অনেকেই পবিত্র রমজানের নামাজ আদায় শেষ করছিলেন’।

ম্যানচেস্টার, ওয়েস্টমিনিস্টার এবং লন্ডন ব্রিজে ভয়ানক হামলার মত এটাও নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের ওপর চালানো হামলা। একইসঙ্গে পারস্পরিক সহনশলিতা, স্বাধীনতা এবং শ্রদ্ধাবোধের ওপর হামলা এটি।

ব্রিটেনে মুসলিম কাউন্সিলের মহাসচিব হারুন খান সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ইচ্ছাকৃত-ভাবে প্রার্থনারতদের ওপর ভ্যান চালিয়ে দেয়া হয়েছে এবং এতে তিনি বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ ।

কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটা ইসলামোফোবিয়ার (ইসলাম-ভীতি) একটি হিংসাত্মক প্রকাশ’। তারা সব মসজিদের আশেপাশে বাড়তি নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে।

উত্তর লন্ডনের ইহুদি সম্প্রদায়ের কাউন্সিলের পক্ষ থেকে টুইটারে এ হামলাকে বর্বরোচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ