শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল

প্রকাশিত: ১:০৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০১৮

শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল
মাকসুদা লিসা: সৌম্য সরকার হিরো হতে পারতেন অনায়াসেই। ইতিহাসের পাতায় নাম উঠে যেতো তার। সব অপ্রাপ্তি, গ্লানি মুছে যেতো। বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে পারতেন অনন্য উচ্চতায়। যদি ইনিংসের শেষ ওভারের শেষ বলটা সৌম্য ইয়োরকার ডেলিভারী দিতেন। অথবা একটি ডট বল। শেষ বলে ভারতের প্রয়োজন ছিল ছয় রানের। আর বাংলাদেশের এক নতুন ইতিহাস রচনার। যেভাবেই হোক ছয় রান নেয়া থেকে ব্যাটসম্যানকে বিরত রাখার চেষ্টা করা।  মাথা খাটানো উচিত ছিল আরো। মেধার ব্যবহার প্রয়োজন ছিল। সব কিছু হাতের মুঠোয় ছিল। অনেক কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণের এত কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া। সৌম্য সরকার কি বুঝতে পেরেছিলেন তার কাঁধে কত কঠিন দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান !  ওকেশনাল বোলার সৌম্য। তবুও কতটা বিশ্বাস, আস্থায় বল দিয়েছেন সাকিব। ইনিংসের শেষ ওভার। জয়ের এত কাছাকাছি। সৌমের দিকে তাকিয়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। ঈগল চোখে তাকিয়ে পুরো বাংলার জনগণ। তবুও আফসোস রয়ে গেল। এতটা হাল্কা মেজামে শেষ বলটি ডেলিভারী দিয়েছিলেন সৌম্য। অফ স্ট্যাম্পের অনেকটা বাইরে। ফলে যা হবার তাই হলো। বিশাল এ ছক্কা হাকালেন স্ট্রাইকে থাকা বাটসম্যান দীনেশ কার্তিক । স্বপ্ন ভাংগলো কোটি প্রাণের। এমন দিন। এমন হাতের নাগালে কোন টুর্নামেন্টের ফাইনাল জয়ের সুযোগ। চ্যাম্পিয়ন হয়ে উৎসবের হাতছানি। তারপরও হলো না। সেই অতৃপ্তি। ফাইনালে না জেতার পুরানো রেকর্ড পিছু ছাড়লো না। বাংলাদেশ পারলোনা। পারলেন না সৌম্য সরকার দলকে, দেশকে আনন্দের, উচ্ছাসের জোয়ারে ভাসিয়ে দিতে। শেষ ওভারের রোমাঞ্চ, উত্তেজনায় উত্তাল ক্রিকেট বিশ্ব। থেমে গেল হৃদয়ের স্পন্দন। হলো না। ফাইনাল জেতার স্বপ্ন অধরা থেকেই গেল।  ১৮ মার্চ রোববার প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম আরেকটি আফসোসের স্মৃতি হয়ে থাকবে বহুকাল।
ভারত ম্যাচ জিতে নেয় অভিজ্ঞতার আলোকে। নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ হেরে যায় বোলারদের অনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারনে। ফাইনালে ভারতকে ১৬৭ রানের টার্গেট তুলে দিতে পেরেছিলেন ব্যাটসম্যানরা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটা ভাল স্কোর। লড়াই করার মতো পুঁজি ছিল। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের আগ্রাসী ব্যাটিং আর সঙ্গে অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ ছিটকে দিয়েছে ফাইনাল জয়ের স্বপ্ন থেকে। ভারত ২০ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় নিদাহাস ট্রফি ত্রিদেশীয় ক্রিকেটে। ম্যাচ দ্বিতীয় ইনিংসের অনেকটা সময়ই হেলেছিল ভারতের দিকে। শেষ তিন ওভারে ভারতের দরকার ছিল ৩৫ রান। স্লোগ ওভারে (১৭ তম ওভারে) মোস্তাফিজুর রহমান বোলিংযে এসে বাংলাদেশকে আশার আলো দেখান। তার করা শেষ ওভারটি ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য ম্যাচ জয়ের টারনিং পয়েন্ট। এক ওভারে পাঁচটি ডট বল। সঙ্গে এক উইকেট। যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সোনার হরিণ। সবকিছু চলে এসেছিল বাংলাদেশের দিকে। পরের ওভারে রুবেল হোসেনকে বল দেন সাকিব। আর এখানেই পিছিয়ে যায় আবার বাংলাদেশ। ১৯তম ওভারে ম্যাচ আবার ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেন এক ওভারে ২২ রান দিয়ে। তবুও আশা ছিল। শেষ ওভারে। সৌম্য এক বল ডট। পরের দুই বলে বিজয় শংকর ও দীনেশ কার্তিক দুটি সিঙ্গেল নেন। চতুর্থ বলটি সীমানা ছাড়া করেছেন বিজয় । এবং পঞ্চম বলে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে তালু বন্ধী হয়ে ফিরে গেছেন। আর শেষ বলটি সৌম্য এতটা অফ স্ট্যাম্পের বাইরে করেছেন। দীনেশ কার্তিক হাকান ছক্কা। ফাইনাল জয়ের স্বপ্ন এখানেই শেষ। ভারতের হয়ে রোহিত শর্মা করেন ৫৬ রান। দিনেশ কার্তিক ২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২৮ রান করেন মনিশ পান্ডে। ২৪ রান করেন লোকেশ রাহুল। বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে রুবেল হোসেন নিয়েছেন ২টি, মোস্তাফিজুর রহমান ১টি ও নাজমুল ইসলাম অপু ১টি করে উইকেট নেন।
বাংলাদেশ টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে। শুরুটা ভাল হয়নি। ভারতের স্পিন অ্যাট্যাকে ধবসে পড়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডার। ব্যতিক্রম ছিলেন সাব্বির রহমান। আগের ম্যাচ জয়ের নায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে রান অােউট করে  ফিরে পাঠালেও নিজে খেলেছেন এ অসাধারণ ইনিংস। মাত্র ৫০ বলে ৭৭  রান করেছেন। যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরী। তামিম ইকবাল করেছেন ১৫ রান। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ২১ রান। ভারতের দুই স্পিন বোলার ইয়ুজবেন্দ্র চাহাল ও ওয়াশিংটন সুন্দর রীতিমত রীতিমত টর্নেডো চালিয়েছেন। অফ স্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দর আর লেগি চাহালই ছিলো ভারতের বোলিংয়ের ট্রাম্পকার্ড। উভয়ের স্পিন ঘূর্ণিতে লিটন দাস, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার ও মুশফিক রহিম বোকা বনেছেন।
বড় রানের দেখা পাবার আগে ফিরিয়ে দিয়েছেন সুন্দর ও চাহাল। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ওপর ঠিকই প্রভাব ফেলেছেন চাহাল ও ওয়াশিংটন সুন্দর। উভয়ের স্পিন ভেলকিতেই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপে ধ্বস নেমেছে। বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি ভেঙ্গেছেন ওয়াশিংটন। লিটন দাস এ স্পিনারকে সুইপ খেলতে গিয়ে আকাশে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেছেন। তামিম ইকবাল প্রতিপক্ষের জন্য যেকোন ম্যাচে একটি বড় হুমকি। তামিম ক্রীজে দাঁড়িয়ে গেছে স্কোর বেড়ে যাবে এই তথ্য অজানা ছিলনা ভারতীয় শিবিরে। এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ফাইনালের ভাগ্যটা সহায় হয়নি। খেলেছিলেন ভালই। লেগ স্পিনার ইয়ুজবেন্দ্র চাহালকে বিগ সট খেলতে গিয়ে লং অফের বাউন্ডারী লাইনের ধরা পড়েন শার্দূল ঠাকুরের অসাধারণ ফিল্ডিং দক্ষতায়। লেগ স্পিনার ইয়ুজবেন্দ্র চাহাল। ৪ ওভারের টানা স্পেলে তার বলে আউট হলেন তামিম, সৌম্য আর মুশফিকুর রহীম। তামিম ১৩ বলে ১৫ রানে আউট হবার তিন বল পর আউট সৌম্য সরকার (দুই বলে এক)। ফুল লেন্থ ডেলিভারিকে সুইপ খেলতে গিয়ে স্কোয়ার লেগে ক্যাচ তুলে বিদায় নিলেন সৌম্য। মেহেদি হাসান মিরাজে ১৯ রান করেন। শেষ পর্যন্ত স্কোর ১৬৬ রান। ভারতীয় পেসার জয়দেব উনাদকট এক ওভারে সাব্বির ও রুবেলকে আউট করেন। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে চাহাল ১৮ রানে ৪টি উইকেট।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ