সিলেট নগরীর রেস্টুরেন্টে নোংরা-অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ!

প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০১৮

সুয়েবুর রহমানঃ সিলেট নগরীর হোটেল  ও রেস্টুরেন্টে গুলোতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

সময়ের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সিলেটে দিন দিন বাড়ছে হোটেলের রমরমা ব্যবসা বানিজ্য।

 

নগরীর হোটেলগুলোতে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ আহার করে থাকেন। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের খাবারে তাদের নির্ভর করতে হয় এসমস্ত হোটেলগুলোর উপর।

 

কিন্তু কেউ তোয়াক্কা করছেন না অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পরিবেশের। ভুক্তভোগিরা উপান্তর না থাকায় মুখ বুজে সাড়ছেন আহার। যারা পারছেন না তারা অনাহারেই থাকছেন বা রুটি, বিস্কুট খেয়ে দিন কাটাছেন।

 

নগরীর বেশীরভাগ হোটেলে  খাবার তৈরি হচ্ছে পুরোন তেল ব্যাবহার করে খোলামেলা স্থানে। বিশেষ করে সমুচা, শিঙ্গারা,রুটি, পিয়াজু, চানা, বেগুনী ভাজা হচ্ছে একাধিকবার ব্যবহিত তেল দ্বারা। ভাত, মাছ, মাংস সহ হরেক রকমের খাবারেও আরো খারাপ অবস্থায়।

 

জরিপ মতে,নগরিতে এধরণের হোটেল রয়েছে দুইশতাধিকের ও বেশি। যার মধ্যে হাতেগণা কয়েকটি হোটেলে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে। খাবারের মান রেখে। বাদবাকিগুলোর অবস্থা যা ইচ্ছা তাই।

আরও পড়ুন  সিলেটে ৫ রাজাকার পুত্রকে মনোনয়ন না দেয়ার অনুরোধ

 

হোটেলগুলোতে অল্প বেতনে হোটেলে কম বয়সী ছোট ছেলেদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।

সরজমিনে নগরির শাহী-ঈদগায় ক্যাফে রাহমানিয়া ও ভাই ভাই হোটেলে গেলে দেখা যায় চারদিকে ধূলিকণা, খোলা অবস্থায় রাখা আছে খাবারের থালি। ধূলাবালির মধ্যে রাস্তার পাশে তৈরি করা হচ্ছে তেলে ভাজা রুটি। যারা কাজ করছেন রুটি মাখাচ্ছে তাদের শরীর থেকে রুটির উপর বৃষ্টির মত ঝরছে ঘাম। পাশেই খোলামেলা পড়ে আছে সিংগারা,সমুচা।

 

হোটেলের ভিতর প্রবেশ করে দেখা যায়, টেবিল গুলোতে পড়ে আছে বাসি পুরানো খাবার। আবর্জনার স্তূপ হোটেলে ফ্লোরে। ময়লা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। রান্নাঘরের দিকে উঁকি দিয়ে দেখা যায়, ভেতরের ফ্লোরে গর্তে পানিজমে আছে। সবুজ শ্যাওলায় চারদিকের অর্ধেক দেওয়ালটা ঢেকে আছে। বালতিভর্তি ময়লা পানি রাখা থালা-বাসন ধোয়ার জন্য। সিগারেটের ধোয়ায় হোটেলের ভেতরের ছবি হয়ে গেছে অন্ধকারাচ্ছন্ন।

 

এ বিষয়ে হোটেলের মালিকে প্রশ্ন করা হলে, হাতে সিগারেট নিয়ে বলেন, ১০ মিনিট আগে সব কিছুই পরিষ্কার ছিল এখন ময়লা হয়েছে’।

আরও পড়ুন  ১০১০ কওমি আলেমের সরকারী চাকরী

 

শাহী ঈদগার ভাই ভাই হোটেল থেকে কামরুল (১৭) নামের এক তরুণ বেড়িয়ে আসে। তার সাথে কথা বলতে চাইলে সে জানায়, ‘বাসায় মায়ের সাথে রাঁগ করে হোটেলে ভাত খেতে আসি। হোটেলের অবস্থা দেখে এখন আমার খেতে ইচ্ছে করছে না। দেখেন রুটি যেন শরীরের ঘামে দিয়ে বানাচ্ছে। তাওয়া দেখে মনে হয় শত বছর পুরন, স্যাঁতসেঁত কালো চাই লেগে আছে তাওয়াতে’।

 

হোটেল সম্পর্কে আজমির ও নয়ন নামের দুই কাস্টমার জানান, অধিক লাভের আশায় দিন দিন হোটেলের খাবারের মান কমছে। হোটেলে খেতে বসলে, মাঝেমধ্যে বাসি পঁচা খাবার ও চুল মিলে। পানি থেকে অনেক সময় ময়লা আসে’।

 

এজন্য জনগনের সচেতনতা পাশাপাশি  সংশ্লিষ্ট (শাহী-ঈদগাহ, মিরাবাজর,কুমারপাড়া,আম্বখানা,মদিনামার্কেট, বন্দর বাজার,উসমানী মেডিকেলের) হোটেল গুলোর প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরদারীর প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভুতি আহারকারীরা।

 

সর্বশেষ সংবাদ