অবশেষে হরতাল দিলো বিএনপি

প্রকাশিত: ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২০

অবশেষে হরতাল দিলো বিএনপি

 

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতারের পর কেন্দ্রীয় নেতাদের কন্ঠে ছিলো হুংকার, গর্জন । কঠিন ও কঠোর কর্মসূচী আসছে, এমন বক্তব্য প্রায়শই শোনা যাচ্ছিল । বাস্তবে মিলাদ, বিবৃতি ও মানববন্ধন কর্মসূচীতেই সীমাবদ্ধ ছিলো বিএনপি । অবশে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ধরাশায়ী হবার পর বিএনপি নেতৃত্বে চেতনার উদ্রেক হলো । কর্মসূচী দিলেন । রবিবার হরতাল । শুধু ঢাকায় । কিন্তু ভাবলেন না, সোমবার থেকে শুরু এসএসসি পরীক্ষা।

 

 

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে আগামীকাল সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

 

এর আগে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে ‘নির্বাচনের নামে তামাশা’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আজকে নির্বাচনের নামে আরেক তামাশা অনুষ্ঠিত হয়েছে যা আপনারা সবাই দেখেছেন। আমরা মনে করি যে, এটা (নির্বাচন) এতটুকু অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি- এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই।

আরও পড়ুন  বড়লেখায় তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

 

সিইসি কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে সাথে সাক্ষাৎ শেষে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের নামে জাতির সাথে প্রতারণা ও তামাশা করেছে। ইভিএম মানুষের অনাস্থা সৃষ্টি করেছে। সারাদিন আওয়ামী লীগের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ভোটার এবং সাংবাদিকদের উপর হামলা করেছে।

 

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনের ২ হাজার ৪৬৮টি ভোট কেন্দ্রে এদিন ভোট হয়েছে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে, যা নিয়ে বিএনপি শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল।

 

উত্তরে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল, আর দক্ষিণে ঢাকা সিটির সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন।

 

এর বিপরীতে উত্তরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন আগের মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং দক্ষিণে ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসা শেখ ফজলে নূর তাপস।

 

বিএনপির অভিযোগ, দুই সিটির বেশিরভাগ কেন্দ্রে তাদের পোলিং এজেন্ট ঢুকতে দেয়া হয়নি অথবা বের করে দেওয়া হয়েছে। তাদের এ অভিযোগকে মিথ্যাচার আখ্যায়িত করেছেন আওয়ামী লীগের একজন নেতা।

আরও পড়ুন  ‌‘করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্কুল-কলেজ খুলছে না ’

 

বিকালে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা অফিসে থেকে এই নির্বাচনকে পর্যবেক্ষণ করেছি। আজকে সকালে শুরু হয়েছে একটা বড় রকমের বিধি লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে। সেটি হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী সিটি কলেজে ভোট দিতে গিয়ে তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন তা সরাসরিভাবে নির্বাচনের হস্তক্ষেপের শামিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভোট প্রদান করে সকালে গণমাধ্যমে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান, যা নির্বাচনী বিধির মধ্যে পড়ে না এবং যা আচরণবিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। তার এই আহ্বানে দলীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ভোট কেন্দ্র দখল এবং বিএনপি দলীয় এজেন্টদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

 

এ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) ভোট দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে অনেককে; সমস্যা হয়েছে খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) ক্ষেত্রেও।

 

প্রভাতবেলা/এমএ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ