কুশিয়ারার ভাঙনে ভিটে হারা দিনমজুর পরিবার

প্রকাশিত: 2:20 PM, December 25, 2021

কুশিয়ারার ভাঙনে ভিটে হারা দিনমজুর পরিবার

কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে ভিটে হারা দিনমজুর পরিবার, খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন।

 

এমরান আহমদ,ফেঞ্চুগঞ্জ♦ গত দু’বছর আগেও ভিটেমাটি ও ফসলি জমির মালিক ছিলেন কৃষক হারুন মিয়ার স্ত্রী লাবলি বেগম । মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিলো সেই ভিটেবাড়িতে। কিন্তু আজ তাকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে সর্বনাশী কুশিয়ারা নদী। ২ ছেলে-কে নিয়ে তিনি আজ পথের ফকির।

 

এর চেয়েও ভয়াভহ অবস্থার বর্ণনা দিলেন দিনমজুর লুলু মিয়া। কুশিয়ারা নদী তীরে তাদের বাড়ি। দুই ছেলে এবং স্ত্রী নিয়ে বসবাস ছিলো ওই বাড়িতে। গত এক বছর আগে পুরো বাড়িটি কুশিয়ারা গ্রা করে নেয়। গৃহহারা লুলু মিয়া বলেন, বসতভিটা কুশিয়ারাতে বিলীন হওয়ায় তিনি নদীর তীরে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

 

এই স্থানের টনু মিয়া, মনসুর আলী, হানিফা বেগম, মখদ্দস আলী, রুবেল মিয়া সহ নদীভাঙনের শিকার দিনমজুরেরা বলেন আমাদের বসতবাড়িটিও নদী নিয়ে যায়। তবে ভিটেবাড়ি ভাঙনের আগেই ঘরটি সরিয়ে নিতে সক্ষম হন। অন্যের জায়গায় ঘরের আসবাবপত্র রেখে দিলেও পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিনযাপন করছেন তারা।

আরও পড়ুন  তোপের মুখে কামাল, মন্টুকে ধমক

 

এসব ঘটনা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের উজান গঙ্গাপুর এলাকার। নদীভাঙনের শিকার মানুষের দুর্দশার এমন ঘটনার শেষ নেই। শুধু লাবলি বেগম, লুলু মিয়া বা টুনু মিয়া নয়, এ রকম ইতিহাস ওই স্থানের প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের।

 

উপজেলার উজান গঙ্গাপুর গ্রামের নিকটবর্তী কুশিয়ারা নদীর তীরে সরেজমিনে গেলে দেখা মেলে এমন করুণ দৃশ্য। এলাকাবাসী জানান, গেল দু’বছর বছর ধরে আগ্রাসী কুশিয়ারা নদী। কয়েক বছর ধরে ভাঙন দেখা দিলেও দু’বছর থেকে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

 

 

প্রতিনিয়ত গৃহহারা হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এখনো হুমকির মুখে রয়েছে ঐ স্থানের প্রায় ১৫/২০ টি পরিবার। কথা হয় এমন কয়েকজনের সাথে। এর মধ্যে মুছা মিয়া নামে স্থানীয় এক মুরব্বি জানিয়েছেন পূর্ব পুরুষের ভিটে নদীগর্ভে যাদের গিয়েছে তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা এমন যে- অন্য কোথাও জমি কিনে বাড়ি করার মতো সামর্থ নেই তাদের।

আরও পড়ুন  পুলিশের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা!

 

 

তবে, এমন পরিস্থিতিতেও কিছুটা আশা দেখছেন তিনি। তার মতে, সরকার যদি এখনই ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় তাহলে এবারের মতো হয়তো রক্ষা পাবে অনেক পরিবার। নদীর তীরের বাসিন্দারের শেষ ভরসা এখন সৃষ্টিকর্তার আর্শিবাদ আর সরকারি পদক্ষেপ।

সর্বশেষ সংবাদ