জুড়ীতে ১২০ টাকা চুরির অভিযোগে শিশুকে বেধে নির্যাতন

প্রকাশিত: ২:৫৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২২

জুড়ীতে ১২০ টাকা চুরির অভিযোগে শিশুকে বেধে নির্যাতন
আঞ্চলিক প্রতিনিধি, জুড়ী (মৌলভীবাজার) ♦ মাত্র ১২০ টাকা চুরি করার অভিযোগে এক শিশুকে বেধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ভূয়াই বাজারে।ভূক্তভোগী পরিবার গরিব হওয়ার কারনে বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

 

নির্যাতনের শিকার শিশু মারুফ আহমদকে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। জানা যায়,গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার সময় উপজেলার ভূয়াই বাজারে অধীরের দোকানে ১২০ টাকা চুরি হয়। দোকান মালিকের ছেলে অসীম তখন দোকানে মারুফ আহমদ (১২) কে দেখতে পান।তাকে চোর সাব্যস্ত করে পাশ্ববর্তী দোকানদার মাসুক মিয়ার কাছে নিয়ে যান।

 

সেখানে মাসুক মিয়া তার দোকানের পিলারের সাথে শিশু মারুফ আহমদকে বেধে মারধর করেন।এক পর্যায়ে তিনি ক্লান্ত হয়ে গেলে পাশ্ববর্তী দোকানের ময়নুল ও সিএনজি চালক ফয়ছল আহমদ ও তাকে মারধর করেন।পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য আজাদ মিয়া সেখানে গেলে ও ক্ষিপ্ত মাসুক মিয়া ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেননি।

আরও পড়ুন  বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ২ কোটি ৮৯ লাখ

 

পরে ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে শিশু মারুফ আহমদের চাচা মনফর মিয়ার জিম্মায় ছেড়ে দেন। ভুক্তভোগী মারুফ আহমদ স্থানীয় হাকালুকি অভয়াশ্রম বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। মারুফ আহমদের পিতা স্থানীয় টাওয়ারের সিকিউরিটি গার্ড বদরুল মিয়া বলেন, আমাকে ছোট একটি বাচ্ছা খবর দিয়েছে আমার ছেলেকে বেধে মারধর করা হচ্ছে।

 

আমি সেখানে গিয়ে মারুফের এ অবস্থা সহ্য করতে না পেরে অন্য স্থানে চলে যাই,পরে আমার চাচাতো ভাই মনফর তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে।বাড়িতে এসে আমার ছেলে বমি করার কারনে আমি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি।পরে থানায় গিয়ে অভিযোগ দিয়ে আসি।

 

প্রতিবেশী রেজাউল করিম বলেন,সে ছোট বাচ্ছা যদিও টাকা চুরি করে ফেলে তারপর ও তাকে এভাবে রশি দিয়ে বেধে মারা টিক হয়নি।যার দোকান চুরি করেছে তিনি তো তাকে মাফ করে দিয়েছেন,সমাজের নামধারী কিছু বিচারপতি এ ধরনের ঘৃণীত কাজ করেছে,তাদের বিচার হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন  রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াত টানাপোড়েন

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আজাদ মিয়া বলেন,আমি খবর পেয়ে দেখি শিশু মারুফকে বেধে রাখা হয়েছে, আমি সামাজিক ভাবে সমাধানের জন্য তার বাধ খুলে জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। মারধরকারী মাসুক মিয়া বলেন, সে চুরি করেছে, কম চুরি করক আর বেশ করক সে চুর। তাকে বেধে রেখেছি তবে মারধর করিনি। জুড়ী থানার ওসি সন্জয় চক্রবর্তী জানান, শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ পেয়েছি, সরেজমিনে পুলিশ গিয়ে তদন্ত করে আসছে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ