মিলন গ্রুপের সন্ত্রাসী হামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিএনপি নেতা জামশেদ আলম বাড়ী-ঘর ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর

প্রকাশিত: ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২৪

মিলন গ্রুপের সন্ত্রাসী হামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিএনপি নেতা জামশেদ আলম বাড়ী-ঘর ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর

বিএনপির কেন্ত্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন( বামে) এবং কেন্ত্রীয় নেতা মোশারফ হোসেন(ডানে) এই মোশারফ হোসেনের গ্রুপ করায় একাধিকবার হামলার শিকার হন জামশেদ।
নিজ প্রতিষ্টান ” জাইন টেলিকম” (বামে) নিজ প্রতিষ্টানে বসে আছেন জামশেদ( ডানে)।
এহছানুল হক মিলন গ্রুপের সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জামশেদের বাড়ীঘর ও গাড়ী।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির দু’গ্রুপের দ্বন্দ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলার আশংকায় জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এক বিএনপি নেতা। দেশে ফিরলে সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করবে এমন আশংকায় তিনি দেশেও ফিরতে পারছেন না। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর জেলার কচুয়াতে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার মো. আবদুল বারেক ও মোছাঃ হালিমা বেগম এর পুত্র মো. জামশেদ আলম পেশাগত ভাবে একজন মোবাইল এক্সেসরিজ ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি আওয়ামীলীগের অপশাসনের বিরুদ্ধাচরন করে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপিত) যোগদান করেন। তিনি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে প্রাথমিক ভাবে দলে যোগদান করে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন। তিনি নিয়মিত মিছিল, মিটিংসহ দলীয় সকল কর্মসূচীতে অংশ নিতে থাকেন। ঐ সময় কচুয়াতে বিএনপির দু’টি গ্রুপে বিভক্ত ছিল। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তৎকালিন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন এবং অন্য গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোশারফ হোসেন। জামশেদ আলম ছিলেন মোশারফ গ্রুপের অন্যতম নেতা। এহছানুল হক মিলন গ্রুপের অনেকেই মনে করতেন জামশেদ একজন রাজনৈতিক নেতার পাশাপাশি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হওয়ায় মোশারফ গ্রুপকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে সহযোগীতা করতেন। এ জন্য তারা তার উপর চরম ক্ষুব্ধ ছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনের তফশিল ঘোষনার পূর্ব মুহূর্তে ১৮ই সেপ্টেম্বর কচুয়ায় দলীয় কাজে অবস্থান কালে প্রতিপক্ষ মিলন গ্রুপের সন্ত্রাসী ফারক ও আলমগীরের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের সন্ত্রাসী দলের ঐ হামলায় জামশেদকে ব্যাপক মারধর করে। সন্ত্রাসীরা লোহার রড দিয়ে জামশেদের পায়ে ও পিঠে ব্যাপক আঘাত করে। সন্ত্রাসীদের হামলায় জামশেদ গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে একটানা সাতদিন চিকিৎসার পর জামশেদ হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
২০১৮ সালের ১৫ই ডিসেম্বর বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে অন্যায় আচরনের প্রতিবাদে কর্মসূচী পালন কালে পুলিশ ও আওয়ামীলীগের পেটুয়া বাহিনী বর্বোরচিত হামলা করে এবং সেখান থেকে গ্রেফতার হন জামশেদ আলম। এরপর থানায় নিয়ে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এরপর তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। জামশেদ তার নিজস্ব ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ঢাকার গুলিস্থানের সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটে অবস্থিত “জাইন টেলিকমে” ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। কিন্তু ঐ মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা শাহাবুদ্দিনের সাথে জামশেদ এর বিরোধের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ২০২১ সালের ২৫ জুন রাতে শাহাবুদ্দিন তার দলবল নিয়ে এসে জামশেদের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে। তাকে নিয়মিত চাঁদা না দিলে তাকে হত্যারও হুমকী দেয় আওয়ামীলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহাবুদ্দিন। তবে ২০২২ সালে জামশেদ আলম শাহাবুদ্দিনের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেলুলার ফোন এক্সেসরিজ এন্ড ইম্পোটার্স এসোসিয়েশানের পরিচালক নির্বাচিত হলে শাহাবুদ্দিন চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। শাহাবুদ্দিনের সাথে যোগ দেয় এহছানুল হক মিলনেরও কিছু অনুসারি। তাদের গোপন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের ১৫ই জুন বাসায় ফেরার পথে রাত অনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের এক দল সন্ত্রাসী জামশেদের রিকশার গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে তাকে রিকশা থেকে নামিয়ে ব্যাপক মারধর করতে থাকে। সন্ত্রাসীরা এসময় লোহার পাইপ দিয়ে জামশেদের মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সন্ত্রাসীরা এ সময় তাকে মৃত ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ১৫দিন চিকিৎসা শেষে জামশেদ বাসায় ফিরেন। ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারী জামশেদের জীবনে আরেকটি ভয়াবহ দিন চলে আসে। ঐদিন রাতে পুলিশ পরিচয়ে একদল লোক ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাকে জোরপূর্বক চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায় এবং তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকী-দমকী দেয়। পরে জামশেদ জীবন রক্ষার্থে তার পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা এনে তাদের হাতে তুলে দেন। এরপর প্রায় এক মাস অকথ্য নির্যাতনের পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তি পাওয়ার পর মো. জামশেদ আলম আবারো তার নিজ জন্মস্থান চাঁদপুরের কচুয়ায় ফিরে যান। ৫ এপ্রিল ২০২৪ ইংরেজী বিকেলে শাহাবুদ্দিন ও এহছানুল হক মিলন গ্রুপের এক দল সন্ত্রাসী জামমেশের বাড়ীতে হামলার চেষ্টা করে। জামশেদের নাম ধরে ডাকতে থাকে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জামশেদ বাড়ীর পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ