ছাতকের মঈনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ফলাফল বিপর্যয়, সামাজিক মাধ্যমে তুলোধুনো

প্রকাশিত: ৯:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০

ছাতকের মঈনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ফলাফল বিপর্যয়, সামাজিক মাধ্যমে তুলোধুনো

 

প্রতিনিধি, ছাতক:

 

এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রকাশের পর মঈনপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

 

ফল প্রকাশের দেখা যায়, সিলেট শিক্ষা বোর্ডে যেখানে পাশের হার ৭৮.৭৯ সেখানে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানের পাশের হার মাত্র ৫৪.০৬ ।

 

স্কুলের ফলাফল বিশ্লেষনে দেখা যায়, ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ৬৫জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ২৮ জন, মানবিক শাখার ৭২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৩৫জন এবং বিজ্ঞান বিভাগের ৩৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৩১ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র একজন ।

 

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো করলেও মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ফলাফল বিপর্যয়ই বিতর্ক-সমালোচনা তৈরী করেছে । ফলাফলে দেখা যায়, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৪জন গণিতে ফেল করেছে অথচ বিজ্ঞান বিভাগের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শিক্ষকমন্ডলী থাকার পরও কেন এই ফলাফল বিপর্যয়? এই নিয়ে সমালোচনায় মুখর সামাজিক মাধ্যম ।

 

 

 

মঈনপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ‘মিয়া মোহাম্মদ হেলাল’ তাঁর ফেইসবুক টাইমলাইনে লেখেন “মঈনপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল বিপযর্য়ের দায়ভার কার? স্কুল পরিচালনা কমিটি নাকি শিক্ষক?” ।

মিয়া মোহাম্মদ হেলালের এই মন্তব্যে প্রতিক্রয়া ব্যক্ত করে ছাতক উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল লেখেন- অভিভাবক ও ইন্টারনেট আসক্তিই ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ ।

 

আরও পড়ুন  একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু, জেনে নিন খুঁটিনাটি

কবি ও লেখক Malequl Hoque লেখেন,
মঈনপুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে ছাত্র শিক্ষকদের যেসব সুযোগ সুবিধা সংরক্ষণ করে দিয়েছেন এলাকার শিক্ষাহিতৈষী মানুষ তা প্রায় শহরের বিশ্ববিদ্যালয়েও নেই। অকাট্য হলে সত্য।  কমিটির পদমর্যাদা রক্ষা, ছায়ামানুষের ইশারায় কমিটি ও শিক্ষকদের চলাফেরা। প্রতিষ্ঠান প্রধানের অদক্ষতা ও প্রাইভেট পড়ানো-সংস্কৃতি চালুর ফলাফল এটি।

 

 

 

মঈনপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মাষ্টার Motiur Rahman Ruhel লেখেন, “আমি কোন প্রকার বিতর্ক এবং সমালোচনায় যেতে চাইনা।আমি শুধু বলতে চাই, যে প্রতিষ্টানের প্রধান ছিলেন কবিরত্ন সাহিত্যবিণোদ রিয়াছত আলী, আরজাদ আলী স্যার, সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত, ফজলুল হক স্যার এবং যে প্রতিষ্টানের ছাত্র ছিলেন বিচারপতি ইমান আলী, প্রিন্সিপাল আখলাকুর রহমান, ব্যারিষ্টার রাজ্জাক আলী, ডা: সাজ্জাদুর রহমান সাজু, ডা:সাহেদুল হাসান লিটন, সরকারের উপসচিব মোস্তাক আহমদ, ডা: এম,এ হাসিম, আব্দুল খালিক, হাফিজুর সহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত নাম না জানা অনেক গুণি ছাত্র ছাত্রী। সেই মঈনপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় নিয়ে ভাবনার এখন সময় হয়েছে।”

ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে মঈনপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু রায়হান খাঁন বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনায় মনোযোগী না। বারবার অভিভাবক সভার আহবান করা হলেও অভিভাবকদের বাড়িতে বাড়িতে চিঠি পাঠিয়ে স্কুলে আসার অনুরোধ করা হলেও অধিকাংশ অভিভাবক সভায় আসেন না ।অনেক চেষ্টা করেছি অভিভাবকদের সচেতন করে বাচ্চাদের লেখা পড়ার মান বাড়াতে কিন্তু পারিনি।

আরও পড়ুন  তরুণীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার 

 

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ক্বারি আছকীর আলী বলেন, পিএসসি, জেএসসি ও এইচএসসি পরিক্ষার কেন্দ্র থাকার কারনে বছরের প্রায় চার মাস বিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ রাখা হয়, যার ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়া লেখায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে ।

 

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ জাম্মান মিয়া বলেন, অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব, পিএসসি, জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকাও ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ । আমাদের শিক্ষকমন্ডলী যোগ্য ও দক্ষ যার প্রমাণ বিগত বছরগুলোর ফলাফলে দেখা গেছে । অধিকাংশ শিক্ষার্থী গণিতে ফেল করার বিষয়ে তিনি বলেন, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা যে শিক্ষকের কাছে পাঠ নেয়, ঠিক একই শিক্ষকের কাছে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ছাত্র-ছাত্রীরাও পাঠ নেয় । এখানে বোর্ডের কোন টেকনিক্যাল সমস্যাও হতে পারে, যার জন্য আমরা বোর্ডে আবেদন করেছি ।

 

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ জাম্মান মিয়া বিগত বছরগুলোর সাফল্য উল্লেখ করে আরও বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমরা উপজেলায় প্রথম কিংবা দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলাম । এবারের ফলাফল বিপর্যয়ের পর আমরা, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক মন্ডলী ও এলাকার সুধীজনদের নিয়ে আলাপ আলোচনা করে আগামীতে স্কুলের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সচেষ্ট হবো ।

 

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ