জৈন্তাপুরে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার তুঘলকি কারবার

প্রকাশিত: ৮:৪৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০১৮

জৈন্তাপুরে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার তুঘলকি কারবার
শোয়েব উদ্দিন,জৈন্তাপুর : জৈন্তাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সার্ভিস প্রভাইডারদের প্রশিক্ষণ ভাতার প্রায় ৩০ লক্ষধিক টাকা লোপাট করে দিয়েছেন জৈন্তাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মসূচির তিন কর্মকর্তা। এই অসাধু কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অর্থ লোভের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রশিক্ষণার্থীরা।

 

উক্ত উপজেলার চলমান ন্যাশনাল সার্ভিস ৬ষ্ঠ পর্বের কর্মসূচির আওতায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাফর ইকবাল চৌধুরী, রেজাউল ইসলাম রেজা জাফর ইকবাল চৌধুরীর বিশ্বস্ত অফিস সহকারী আসকারী এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি’র অভিযোগ উঠেছে। সার্ভিস প্রভাইডারদের প্রশিক্ষণ ভাতার প্রায় ৩০ লক্ষধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।

 

এদিকে সরেজমিনে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, জাফর ইকবাল চৌধুরী অতি সুকৌশলে স্থানীয় এনজিও কর্মী সহ বিভিন্ন ভাবে দালালদের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ার পর বিভিন্ন ভাবে নিয়োগে দুর্নীতি সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি জেলা যুব অধিদপ্তর বিষয়টি তদন্ত করে। তদন্তে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এর প্রেক্ষিতে উক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে বাতিল করে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু জাফর ইকবাল চৌধুরী সুকৌশলে  অর্থের বিনিময়ে কয়েকজনকে নিয়োগ প্রদান করেন।

 

সুত্র জানায়,  গত ডিসেম্বর ‘১৭ হতে ফেব্রুয়ারী’ ১৮মাস, মোট ৭২দিন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়। সেই মোতাবেক প্রভাইডারদের ৭২দিনে ৭হাজার ২শত টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক এই কর্মকর্তা ব্লাঙ্ক শিটে রেভিনিউ ষ্টাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে রাখেন। সোনালী ব্যাংক জৈন্তাপুর শাখা হতে জৈন্তাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাফর ইকবাল চৌধুরী ৫৬লাখ টাকা উত্তোলন করেন। ২৯মার্চ মহাপরিচালক বরাবরে প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ করে। অপরদিকে ৩শত টাকার ননজুডিশিয়াল ষ্টাম্পে অঙ্গীকার নামার সাথে ১০টাকা মূল্যের ৩টি রেভিনিউ ষ্টাম্পে স্বাক্ষর নেন। অভিযাগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে প্রভাইডারদের সম্মানী ভাতা বাবত ৬২লাখ ২৫হাজার ৯শত টাকা বরাদ্ধ হয়। তার মধ্যে সরকারী কোষাগার হতে ৫৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে নেয়া হয়।

আরও পড়ুন  চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী গ্রেফতার

 

অপর দিকে ৮এপ্রিল যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক মোঃ আলা উদ্দিন স্বাক্ষরিত পত্রের স্বারক নং ৩৪.০১.৯১০০.০০০.৪২.২০১৩-১৮৯২ মূলে সোনালী ব্যাংক জৈন্তাপুর শাখার হিসাব নং ০২০০০৪৬৭ হতে যাবতীয় লেনদেন প্রশাসনিক কারন দেখিয়ে স্থগিত করা হয়।  পরদিকে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ৫৬লাখ টাকা থেকে মাত্র কয়েকজন প্রভাইডারদের মধ্যে ৭হাজার ২শত টাকা বিতরণ দেখিয়ে অন্যান্য প্রভাইডারদের কে ৯শত টাকা হতে ১৪/১৫শত টাকা, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ২৫শত টাকা, ৩হাজার টাকা করে বিতরন করেন।  প্রশিক্ষণার্থী প্রভাইডারগন এর কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষনের উপস্থিতি অনুযায়ী ভাতা দেওয়া হয়েছে’ । সেক্ষেত্রে প্রভাইডাররা একান্ত বাধ্য হয়েই প্রাপ্ত টাকা নিতে হয়।

 

প্রশ্ন আসছে , যদি প্রভাইডারদের প্রশিক্ষণে উপস্থিতি অনুযায়ী যদি ভাতা বিতরণ করা হয় হয় সরকারী কোষাগার হতে, তবে পূর্ণ প্রশিক্ষণ দেখিয়ে কেনো ভাতা উত্তোলন করা হল ?  এর সঠিক উত্তর মিলছেনা।

 

অনুসন্ধানে জানা যায় অবৈধ টাকায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাফর ইকবাল চৌধুরী এবং সহকারী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম রেজা অফিস সহকারী আসকারি তাদের মনোনিত দালালদের মাধ্যমে ইসলামী ফাউন্ডেশন, এনজিও শিখন প্রকল্প, গোয়াইনঘাটে কর্মরত ন্যাশনাল সার্ভিসের প্রভাইডার হিসাবে ব্যাপক কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন। যার মধ্যে শিখনের সহকারি শিক্ষিকা পলি বেগম, হেনা বেগম, মারজানা বেগম, ইসলামী ফাউন্ডেশনের আনোয়ার নজরুল ইসলাম সহ অনেকেই রয়েছেন।

 

আরও পড়ুন  দলীয় মনোনয়ন পেতে পদত্যাগ করলেন শাল্লা উপজেলা চেয়ারম্যান

এবিষয়ে জানতে জৈন্তাপুর আরডিআরএস এর প্রকল্প পরিচালক খলিলুর রহমান অর্থ লেনদেনের কথা অস্বীকার করে বলেন- ‘আমার প্রকল্পের তিন জন সহকারি শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। আমি ইতোমধ্যে তাদেরকে ন্যাশনাল সার্ভিসে কাজ করলে আমার দপ্তর ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন’। অন্য প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ এর পেছনে কিছু ঘটলে তো অবশ্যই আছে। তানাহলে েত অভিযোগ উঠতো না’। বিষয়টি তার নজরে এসেছে বলে জানান।

 

এদিকে এই বিষয়ে জানতে জৈন্তাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাফর ইকবালের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  অপর সহকারী অফিসার রেজাউল ইসলাম রেজা সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন।‘ উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ না থাকায় এবিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না বলে পারবেন না’।

 

জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন উক্ত বিষয়ে বলেন- ‘আমি এবিষয়ে কিছুই জানি না। তবে মিডিয়ার কল্যানে এঘটনাটি অবহিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ করেছি’।

সর্বশেষ সংবাদ