তামিম-মায়ার্স ঝড়ে কুমিল্লাকে উড়িয়ে শিরোপা জিতলো বরিশাল!

প্রকাশিত: ১১:৩২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২৪

তামিম-মায়ার্স ঝড়ে কুমিল্লাকে উড়িয়ে শিরোপা জিতলো বরিশাল!

 

 

আফজল হোসেন

 

দেশের ক্রিকেটে টিকেট নিয়ে হাহাকার নতুন কিছু নয়। সেটা আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাচ হোক কিংবা বিপিএলের কোনো ম্যাচ হোক টিকেটের চাহিদা থাকবে আকাশ সমান। আর বিপিএলের ফাইনাল হলে তো কোনো কথাই নেই। দর্শকদের সেই টিকেট চাহিদাকে পুঁজি করে টিকেট কালোবাজারিরা মেতে উঠেন বুনো উল্লাসে, চওড়া দামে বিক্রি করেন টিকেট। দেশের ক্রিকেট প্রেমি দর্শকরাও অতিরিক্ত দামে টিকেট কিনেই ঢোকেন গ্যালারিতে।

 

এবারের বিপিএল ফাইনালের টিকেট বাজারেই এমন চিত্রই ছিল, দর্শকদের ফাইনাল দেখতে গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত টাকা। আর সেই টিকেট পেতে তাদেরকে পোহাতে হয়েছে দূর্ভোগ। শুক্রবার বিপিএল ফাইনালে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ছিল না দর্শক শুন্যতা। গ্যালারি ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ।

 

টস হেরে ব্যাট করতে নামা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ব্যাটিংয়ে ছিল না কোনো ফাইনালের তেজ। একমাত্র আন্দ্রে রাসেল ব্যতিত কুমিল্লার বাকী ব্যাটাররা ছিলেন নিষ্প্রভ! তবে ব্যতিক্রম দেখা গেছে ফরচুন বরিশালের ব্যাটারদের, ১৫৫ রান তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশাল।

 

সামনে থেকেই নেতৃত্ব দেন বরিশাল দলপতি তামিম ইকবাল। রান তাড়ায় মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে গড়েন ৪৮ বলে ৭৬ রানের জুটি। যেখানে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে দুজনে যোগ করেন ৫৯ রান। তামিম-মিরাজের উড়ন্ত সূচনায় শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

 

উড়তে থাকা তামিমকে (৩৯) ফিরিয়ে কুমিল্লাকে প্রথম উইকটের স্বাদ দেন মঈন আলী। ২৬ বলে ৩ চার এবং ৩ ছক্কায় ৩৯ রানে দারুণ ইনিংস উপহার দেন তামিম। এক ওভার পরে এসে আবারও বরিশাল শিবিরে আঘাত হানেন মঈন, এবার তার শিকার ২৯ রান করা মিরাজ।

আরও পড়ুন  নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শীর্ষে ইতালি

 

দ্রুত দুই উইকেট হারানো বরিশালের হাল ধরেন তিনে কাইল মায়ার্স। দ্রুত রান তোলায় ব্যস্ত হয়ে ওঠা মায়ার্স মঈনের বলে একাধিক বার ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। তবে ফিল্ডারদের ‘মাখন মাখানো’ হাতে তালুবন্দি হয়নি একটিও! একাধিক সুযোগ পেয়ে মায়ার্সও ঝলসে ওঠেন ব্যাট হাতে। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে ৩০ বলে ৪৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে বরিশালকে শিরোপার কাছাকাছি রেখে যান। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে মায়ার্স যখন সাজঘরে ফিরেন বরিশাল তখন জয় থেকে মাত্র ১৪ রান দূরে।

 

মায়ার্সের বিদায়ে ক্রিজে আসা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বরিশালের শিরোপা নিশ্চিত করেন ডেভিড মিলারকে নিয়ে। অবিচ্ছিন্ন ১১ রান যোগ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন মিলার। ইনিংসের ১৯তম ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারিকে হাঁকিয়ে বরিশালকে শিরোপা জয়ের স্বাদ দেন মিলার। সেই সাথে বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও।

 

এর আগে বরিশালের মতো একাধিকবার বিপিএলের  ফাইনাল খেললেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি রিয়াদ। সেই সাথে দেশের ক্রিকেটের অন্যতম সারথি মুশফিকুর রহিমও হলেন চ্যাম্পিয়ন।

 

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমেই যেন ছন্দ হারিয়ে বসে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। প্রথম ওভারে সাজঘরে ফেরেন সুনিল নারাইন, ৫ রান করা নারাইনকে ফিরিয়ে কুমিল্লা শিবির স্তব্ধ করে দেন কাইল মায়ার্স।

 

তিনে নামা তৌহিদ হৃদয়ের ব্যাটে আলোর ঝলকানি দেখাল গেলেও সেটাও স্থায়ী হয়নি ১০ বলের বেশি। ফরচুন বরিশালের পেসার জেমস ফুলারের অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে টপ এজড হয়ে ধরা পড়েন থার্ডম্যানে। ফলে হৃদয় থামেন ব্যক্তিগত ১৫ রানে।

 

এরপর অধিনায়ক লিটন দাসও একই ভুলে থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মাত্র ১৬ রানে।

আরও পড়ুন  ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে বাংলাদেশের সহজ জয়

 

এরপর যেটা হল তা দেখার জন্য হয়তো অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে টিকেট কেটে মাঠে আসতে চাননি দর্শকরা। একে তো রান উঠছিল ধীরগতিতে, আর অন্যদিকে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে উইকেট হারাচ্ছিল কুমিল্লা। মঈন আলী রান আউটে কাটা পড়েন মাত্র ৩ রানে।

 

মঈন আলীর রান আউটের দায়টা অবশ্যই নিতে হবে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে। অঙ্কনের ডাকে সাড়া দিতে গিয়েই রান আউটের শিকার হন মঈন। তবে সেই অঙ্কনের ব্যাটেই এরপর এগিয়েছে কুমিল্লা, রাসেল ঝড়ের আগে অঙ্কনই ছিলেন কুমিল্লার ত্রাতা। তার ৩৫ বলে ৩৮ রানের ইনিংসে কুমিল্লা একশোর ঘর স্পর্শ করে।

 

আটে নামা আন্দ্রে রাসেলের ঝড় ব্যাটিংয়ে কুমিল্লা শেষমেশ দেড়শো পার করে। ১৪ বলে ৪ ছক্কায় ২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পথে রাসেল ইনিংসের ১৯তম ওভারে ৩ ছক্কায় তুলেন ১৯ রান। ইনিংসের শেষ ওভারে সাইফ উদ্দিনের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে রাসেল ১ রানের বেশি নিতে পারেননি। যেখানে ওয়াইড-নো বল মিলিয়ে রাসেল স্ট্রাইকে ছিলেন ৮ বল। এক ফ্রি হিটেও নিষ্প্রভ ছিল রাসেলের ব্যাট। ফলে শেষ ওভারে ৭ রানের বেশি পায়নি কুমিল্লা। রাসেলের সাথে ২১ বলে ৩৯ রানের জুটি গড়ার পথে জাকের আলী অনিক করেন ২৩ বলে ২০* রান।

 

কুমিল্লাকে ১৫৪ রানে বেঁধে ফেলার মূল কারিগর বরিশালের বোলাররা। জেমস ফুলার খরুচে হলেও হৃদয় এবং লিটনকে ফিরিয়ে কাজের কাজ ঠিকই করে দেন। এছাড়া কাইল মায়ার্স, সাইফ উদ্দিন ও ওবেদ ম্যাকওয় শিকার করেন একটি করে উইকেট।

 

সর্বশেষ সংবাদ