রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াত টানাপোড়েন

প্রকাশিত: ৭:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৮

 প্রভাতবেলা প্রতিবেদকঃ  রাজশাহী সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে  বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ব্যাপক টানাপোড়েন চলছে। চলছে আলোচনা। তবে উভয় দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা কোন সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হবার কারনে বিভেদ বাড়ছে।

 

রাজশাহী-৩ (পবা-মাহনপুর) আসন পেলে সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সমর্থন দেয়া হবে বিএনপিকে এমন শর্তই দিয়েছে জামায়াত।

 

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এক সপ্তাহ রাজশাহীতে অবস্থান শেষে ঢাকায় ফিরলেও জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির টানাপোড়েনের ইতি টেনে যেতে পারেননি তিনি।

 

বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা জামায়াতের এ ধরনের শর্ত প্রত্যাখ্যান করে।

এদিকে রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর আবু সেলিম শুক্রবার (২০ জুলাই)  রাতে গ্রেফতার হয়েছেন।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিএনপির কাছে জামায়াতের কিছু যৌক্তিক দাবি ছিল। পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েও রাজশাহীতে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী সিদ্দিক হোসাইনকে ভোট করতে দেয়া হয়নি শুধু জোটের স্বার্থে’।

আরও পড়ুন  ৫ ও ৬ নভেম্বর আবারো দেশব্যাপী অবরোধ

 

তাদের দাবী  ২০১৩ সালে নগরীর যেসব ওয়ার্ডে জামায়াতের কাউন্সিলররা নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের সমর্থনে এবারও বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করা। আর অন্য দাবিটি হল আগামী সাধারণ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেয়ার আগাম ঘোষণা দেয়া।’

 

জামায়াতের এই নেতা  বলেছেন, ‘বিএনপির স্থানীয় নেতারা দুই সপ্তাহ আগে জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে তারা সিদ্ধান্ত জানাবেন। কিন্তু আজও বিএনপি কোনো জবাব দেয়নি। ফলে জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজশাহীতে চলমান নির্বাচনে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। সন্তোষজনক প্রতিশ্রুতি না পেলে জামায়াত এবার বিএনপির মেয়র বা কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য মাঠে নামবে না।’

 

জামায়াত নেতাদের এসব দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু শনিবার বলেন, ‘আমাদের মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের অবস্থা খুবই ভালো। রাজশাহী হচ্ছে বিএনপির পীঠস্থান। এখানে ওরা (জামায়াত) যদি নাও আসে তারপরও আমাদের প্রার্থী বিপুল ভোটে জিতবে।’

আরও পড়ুন  কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী আর নেই

 

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা  বলেন, ২০১৩ সালের নির্বাচনে নগরীর চারটি ওয়ার্ডে জামায়াতের কাউন্সিলর প্রার্থীরা জিতেছিলেন।  বিএনপির সহযোগিতায়।  আমরা তাদের বলেছি বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে। কিন্তু তার আগে বুলবুলের জন্য মাঠে নামতে হবে।’

 

রাজশাহী-৩ আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘  আমাদের চেয়ারপারসন কারাবন্দি। বিএনপির নীতিনির্ধারক আছে। মনোনয়ন বোর্ড আছে। আমরা এখনই তাদের এমন দাবির বিষয়ে কী জবাব দিতে পারি?’

 

তিনি বলেন, ‘রাজশাহীতে জামায়াত, বুলবুলের পক্ষে মাঠে নামতে পারছে না অন্য কারণে। তারা দুই নৌকায় পা দিচ্ছে। এতে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

 

রাজশাহী-৩ আসনটি বিএনপির রিজার্ভ আসন বলে দাবী করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন। তিনি  বলেন, ‘এই আসনে নির্বাচনের জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে আছি। এ আসন জামায়াতকে ছেড়ে দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

 

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ