“সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা করতে হবে, কোথাও বলা নেই”

প্রকাশিত: ১০:৪২ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০১৮

প্রভাতবেলা প্রতিবেদকঃ বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির দাবি জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

তিনি বলেন, ‘জেল কোডের কোথাও বলা নেই শুধু সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা করতে হবে।’

 

বুধবার (১৩ জুন)  রাজধানীর বিজয় নগরে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশ লেবার পার্টি ওই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে।

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। যাবতীয় খরচ দল বহন করবে। পরিবার থেকেও বলা হয়েছে, তাঁর চিকিৎসার ব্যয় পরিবার থেকে বহন করা হবে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে বিলম্ব করার অর্থই হচ্ছে দেশনেত্রীর জীবনকে হুমকির সম্মুখীন করা। আমরা মনে করি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে, তারা অবিলম্বে দেশনেত্রীকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করে তাঁর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।’

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আজ জনগণের ওপর চেপে বসা এই ভয়ংকর দানব সরকারকে সরাতে হবে। তার জন্য জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে আমাদের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। আন্দোলনের মধ্যদিয়ে আমাদের বিজয়ী হতে হবে ইনশা আল্লাহ।’

আরও পড়ুন  "জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো "

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশনেত্রীর মুক্তি ছাড়া এই দেশে কোনো কিছুই সম্ভব নয়। তাঁকে মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং নিরপেক্ষ সরকার দিতে হবে।’

 

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সমস্ত আইনগত বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পরও বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে, জনগণের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। দেশনেত্রী জনগণের নেত্রী। হাজারও চেষ্টা করেও তাঁকে জনগণ থেকে দূরে রাখা যাবে না। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাঁকে মুক্ত করে আনা হবে।’

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘খুন গুম অত্যাচার নির্যাতনের মধ্য দিয়ে একটি ভয়ংকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে সরকার। আমরা জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি। জনগণের শক্তি নিয়েই নির্বাচনে জিতেছি। কারো দয়ায় আমরা নির্বাচনে জিততে চাই না, জিতি না। আমরা স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করি। আমরা জনগণের শক্তি নিয়েই বিজয় ছিনিয়ে আনতে চাই।’

আরও পড়ুন  কুলাউড়ায় জঙ্গি সন্দেহে জনতার হাতে আটক ১৭

 

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, এনাম আহমেদ চৌধুরী, আলতাব হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার হায়দার আলী, সুকোমল বডুয়া, নয়াদিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দীন প্রমুখ।

 

এ ছাড়া ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুল হালীম, জাতীয় পার্টি(জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবীব লিঙ্কন, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মাদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মুসলিম লীগের মহাসচিব জুলফিকার বুলবুল, লেবার পার্টির মহাসচিব ফরিদ উদ্দীন আহমেদ প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ